• Hillbd newsletter page
  • Hillbd rss page
  • Hillbd twitter page
  • Hillbd facebook page
সর্বশেষ
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বৃষকেতুসহ গ্রেফতার ২                    পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের উপসংঘরাজ শ্রদ্ধালংকার মহাথেরোর ৭৫ তম জন্মদিন পালিত                    ২৮ জুন রাঙামাটিতে ৮৫ হাজার ৮০৭জন শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে                    রাঙামাটিতে চাঞ্চল্যকর গৃহবধু হত্যা ও অর্থ লুটের ঘটনায় দুই আসামি গ্রেফতার                    হতাশা নিরসনে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে আস্থাভাজন আদিবাসীকে মন্ত্রী নিয়োগের দাবি                    বিলাইছড়িতে সিসিএইচপি প্রকল্পের স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে সমন্বয় সভা                    বিলাইছড়ি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান                    পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী হেলাল উদ্দিনের অপসারণের দাবিতে রাঙামাটিতে মানবন্ধন                    নানিয়ারচরে জাম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে এক শিক্ষিকার মৃত্যু                    রাজস্থলীতে মদ ভেবে বিষপানে এক যুবকের মৃত্যু                    পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে রাজস্থলীর দুর্গম খিয়াং পাড়ার ৫০পরিবার সুপেয় পানি পাচ্ছে                    বিলাইছড়িতে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক কর্মশালা                    Tender Notice for Hiring of External Audit Firm-ADA                    দোলায় ঝুলিয়ে দুর্গম পথ হেটে গ্রামবাসীরা প্রসূতিকে জুরাছড়িতে হাসপাতালে পৌছাল                    রাঙামাটিতে পুলিশ-ম্যাজিষ্ট্রেসি কনফারেন্স অনুষ্ঠিত                    বিলাইছড়িতে আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত                    ৩০ বছরেও কল্পনা চাকমা অপহরণের বিচার না পাওয়ায় পার্বত্যবাসী হতাশ                    পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়িত না হওয়ায় জুম্ম জনগণের ওপর জাতিগত নির্যাতন বাড়ছে-সন্তু লারমা                    ফিফা বিশ্বকাপকে স্বাগত জানাতে রাঙামাটিতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের শোভাযাত্রা                    দীপেন দেওয়ানকে পার্বত্যমন্ত্রীর পুর্নবাহলের দাবিতে রাঙামাটিতে মানববন্ধন                    সাংবাদিক জিতেন বড়ুয়ার মুক্তির দাবিতে রাঙামাটিতে মানববন্ধন                    
 
ads

কাউখালীতে পাহাড়ী ঘোণায় বাঁধ দিয়ে মাছ চাষের অভুতপূর্ব সাফল্য

বিশেষ রিপোর্টার : হিলবিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 26 Aug 2014   Tuesday

রাঙামাটির কাউখালীতে পাহাড়ী ঘোণায় বাঁধ দিয়ে মাছ চাষের অভুতপূর্ব সাফল্য পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে মৎস্য মন্ত্রনালয়ের অধিনে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলার ২৫টি উপজেলায় দু’পাহাড়ের মাঝে ক্রীকের (ঘোনায় মাছ চাষের জন্য বাধঁ) মাধ্যমে মৎস্য চাষের এ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় দুশটি ক্রীক নির্মান করা হয়েছে । আরও প্রায় পাঁচ শতাধিক ক্রিক নির্মানের জন্য সম্প্রতি বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। এসব ক্রিক নির্মানের ফলে খুব সহসাই পার্বত্য এলাকায় মাছ চাষে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হবে। পাশাপাশি মাছ চাষের মাধ্যমে এলাকায় বেকার যুবকদের ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন। এদিকে মাছের রেনু এবং পোনার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার জন্য রাঙামাটি ও বান্দরবানে ইতিমধ্যে দু’টি মিনি মৎস্য হ্যচারী নির্মান করা হয়েছে। খাগড়াছড়িতে আরও একটি মিনি মৎস্য হ্যাচারী নির্মান করা হবে বলে জানা গেছে। জুলাই’২০১২ইং,জুন’২০১৭ইং পর্যন্ত পাচঁ বছর মেয়াদী এ প্রকল্পে সারে আটষট্রি কোটি টাকা প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে বলে মৎস্য অধিদপ্তর সুত্রে এ তথ্য জানা গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের সমতলজেলা গুলোতে পুকুর, নদী,নালা ডোবা থাকলেও পার্বত্য এলাকায় কিছু সংখ্যক নদী ছাড়া তেমন কোন নদী,নালা,পুকুর বা ডোবা নেই। পার্বত্য বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে চিটিয়ে কিছু কিছু পুকুর ও ডোবা থাকলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অত্যন্ত সীমিত। উপরন্তু কারিগরি এবং আর্থিক সমস্যার কারনে অনেকে চাষ করতে নিজেদের পাহাড় ব্যবহার করতে পারেন না। সে লক্ষ্যে দু’পাহাড়ের ঘোনার মধ্যে বাঁধ তৈরী করে সেখানে মাছ চাষ করা হচ্ছে। এতে যেমন আমিষের চাহিদা পুরন হবে তেমনি বেকারত্ব দুর হবে, সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থানের। মূলত পার্বত্য এলাকায় মাছের চাহিদা বৃদ্ধি করার জন্য সরকার এ্ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। সুত্র আরও জানায়,সরকারের মৎস্য ও প্রানীসম্পদ মন্ত্রনালয়ের অধীনে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে মৎস্যচাষ উন্নয়ন ও সম্প্রসারন প্রকল্প(৩য় পর্যায়) নামে একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। সে প্রকল্পের অধীনে পার্বত্য তিনটি জেলার ২৫টি উপজেলার প্রত্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় ঝিড়ি ও পাহাড়ের মধ্যে ক্রীক তৈরী করে তাতে মাছ চাষের উপযোগী হিসেবে ইতিমধ্যে প্রায় দুশটি ক্রীক তৈরী করা হয়েছে। আরও পাঁচশতাধিক ক্রীক তৈরীর কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। কাউখালীতে এ ধরনের আরও যাদের ক্রীক তৈরী করা হয়েছে তাদের মধ্যে মংমং মারমা,পাইচা মং মারমা ও মংচানু মারমা জানিয়েছেন তাদের নিজেদের দু’পাহাড়ের মাঝখানে মাটি দিয়ে বাধ তৈরী করে যে ক্রীক নির্মান করে দেওয়া হযেছে এই ক্রীকে মাছ চাষ করে বেশ কয়েকটি পরিবার অত্যন্ত স্বাধচন্দে জীবন যাপন করতে পারবে। এ ধরনের আরো অনেকে তিন পার্বত্য জেলার প্রতিটি উপজেলায় নির্মান করা হয়েছে। এসব ক্রীক তৈরী করতে প্রকল্পের সুবিধাভোগিদের নিকট থেকে কোন টাকা-পয়সা খরচ হয়নি বলে জানিয়েছেন তারা। কাউখালীর দুর্গম মিতিঙ্গাছড়ি এলাকার সঞ্চয় চাকমা জানান, ২০১০ সালে কাউখালী উপজেলা মৎস্য অফিসে আবেদন করেন ক্রীক নির্মানের জন্য। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে মৎস্য অফিসের একটি প্রতিনিধিদল মিতিঙ্গাছড়ি এলাকা সরজমিনে পরিদর্শন করে এবং ক্রীক নির্মান হলে কারা কারা সুবিধাভোগী হবে তার সম্ভাব্যতা যাচাই বাছাই করে তা উপজেলা পরিষদ সমন্বয় সভায় উপস্থাপন করেন। সেখান থেকে যাচাই বাচাই শেষে এ প্রকল্পে সম্পৃক্ত করা হয়। চলিত বছরের প্রথম দিকে সঞ্চয় চাকমার ক্রীকের দরপত্র আহবান করলে সংশি¬ষ্ট ঠিকাদার সেই ক্রীক নির্মান করে মৎস্য অফিসের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেন। এখন তৈরী করা সেই ক্রীকে অথৈ পানি জমেছে। পুরোপুরি মাছ চাষের জন্য উপযোগী করে তোলা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে মৎস্যচাষ উন্নয়ন ও সম্প্রসারন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও রাঙামাটি জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবদুল হান্নান মিয়া জানান, এ প্রকল্পের আওতায় পার্বত্য চট্টগ্রামে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, পাহাড়ী জনগনের পারিবারিক আয় বৃদ্ধি এবং আমিষের ঘাটতি পূরনে পুষ্টিমান উন্নয়ন করা হবে। তিনি আরও জানান, মৎস্য চাষ উন্নয়নের লক্ষ্যে পাহাড়ে ক্রীক নির্মানের মাধ্যমে যে জলাশয় সৃষ্টি হবে তা পরবর্তীতে পানির রির্জভার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া মাছের পোনা উৎপাদন ও লালন পালনের লক্ষে নার্সারী উন্নয়ন এবং প্রায় ছয় হাজার জনকে মাছ চাষের উপর বিভিন্ন প্রযুক্তি প্যাকেজ ও সম্প্রসারনের লক্ষ্যে প্রশিক্ষন দেওয়া হবে। তিনি বলেন, এ প্রকল্পের আওতায় পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রকল্পের মেয়াদকালীন সময়ে সর্বমোট ৮০৪টি ক্রীক নির্মান করা হবে। তার মতে এসব ক্রীকে মাছ চাষ সফল হলে পুরো পার্বত্য অঞ্চলের মৎস্য খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।কাউখালী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এস,এম চৌধুরী জানান,পার্বত্যাঞ্চলে পাহাড়ী ঘোনায় বাধ দিয়ে যে ক্রীক তৈরী করা হচ্ছে তা যদি সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায় তাহলে এ এলাকার অর্থনৈতিক অবস্থার ব্যাপক উন্নতি হবে। তিনি ক্রীক গুলো নির্মানের পর সেখানে মাছ চাষ করা হচ্ছে কিনা তা তদারকি করার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধি এবং মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রতি আহবান জানান।

–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

ads
ads
এই বিভাগের সর্বশেষ
আর্কাইভ