পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের ৪২ হাজার ৭৯১ শিশুকে পুষ্টি সহায়তা দেবে আন্তর্জাতিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে ‘অ্যাক্সেস টু অ্যান্ড ইউটিলাইজেশন অব লাইফসেভিংস সার্ভিসেস বাই দ্য মার্জিনালাইজড কমিউনিটি ইন চিটাগং হিল ট্রাক্টস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সংস্থাটি। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাঙামাটিতে অনুষ্ঠিত প্রকল্প অবহিতকরণ সভায় এ তথ্য জানান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পষিদের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আশিকা ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েটস নির্বাহী পরিচালক বিপ্লব চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট চঞ্চু চাকমা, সহকারী নির্বাহী পরিচালক সুইটিঅং মারমা, সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসা, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য নাইউপ্রু মারমা মেরী, রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান, জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের উপপরিচালক ডা. আবু সাদাত মো. সায়েম প্রমুখ বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন। প্রকল্পের সার-সংক্ষেপ বক্তব্য তুলে ধরেন হেলেন কেলার প্রকল্প পরিচালক মো. খালেদ। মালটিমিডিয়া প্রজক্টরের মাধ্যমে প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন প্রকল্প সমন্বয়কারী হিল্লোল চাকমা।
সভায় জানানো হয়, প্রকল্পটি তিন পার্বত্য জেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। ৬ মাসব্যাপী প্রকল্পের কাজ মে থেকে শুরু করে শেষ হবে সামনে অক্টোবরে। হেলেন কেলারের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে কাজ করছে রাঙামাটিতে আশিকা ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েটস, খাগড়াছড়িতে জাবারাং কল্যাণ সমিতি এবং বান্দরবানে তাজিংডং সংস্থা। প্রকল্পে তিনটি পার্বত্য জেলার পুষ্টি, জীবিকা, উন্নয়ন ও ওয়াশ প্রমোশনের লক্ষ্যে ৫ বছরের নিচের শিশুদের মারাত্মক তীব্র অপুষ্টি এবং মাঝারি তীব্র অপুষ্টি শনাক্তকরণ, চিকিৎসা, স্বাস্থ্যবিধি ও জীবিকা উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। এতে শনাক্ত শিশুদের পুষ্টি ঘাটতি পূরণে নগদ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া অতি দ্ররিদ্র এক হাজার শিশুর পরিবারকে আর্থিক স্বচ্ছলতার সহায়তায় ১০ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ প্রদান করা হবে।
অবহিতকরণ সভায় বলা হয়, প্রকল্পটি তিনটি প্রধান বিষয়ে কাজ করবে। এর মধ্যে ৬৫৯ মাস বয়সী শিশুদের অপুষ্টি প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনা, এসএএম ও হাম আক্রান্ত শিশুদের পরিবারের জন্য জীবিকা সহায়তা ও নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি উন্নয়ন। জেলায় পরিচালিত এসইউএসি স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৮৩ জন এএমএম ও ১ হাজার ৫৫ জন মাঝারি তীব্র অপুষ্টি(এমএএম) আক্রান্ত শিশু শনাক্ত হয়েছে।
সভায় বক্তারা শিশু অপুষ্টি মোকাবিলায় সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, উন্নয়ন সংস্থা ও কমিউনিটির সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন ও এইউএলএসএম-সিএইচটি-বিডি প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. নুয়ান খীসা বলেন, দারিদ্র্য ও অপুষ্টি পার্বত্য চট্টগ্রামে একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি জানান, ত্রিপুরা, চাকমা ও মারমা জনগোষ্ঠীর মধ্যে দারিদ্র্যের হার এখনও উদ্বেগজনকভাবে বেশি। ফলে বিশেষ করে দুর্গম এলাকার পরিবারগুলো পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করতে পারে না। তিনি পুষ্টি বিষয়ে সর্বস্তরে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথি কৃষিবিদ কাজল তালুকদার বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে পুষ্টিকে উন্নয়নের অগ্রাধিকার দিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, অনেক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিশ্বাসের কারণে প্রাণিসম্পদ পালনে অনাগ্রহী হওয়ায় প্রাণিজ খাদ্যের প্রাপ্যতা সীমিত থাকে। পাশাপাশি পুষ্টি বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.