• Hillbd newsletter page
  • Hillbd rss page
  • Hillbd twitter page
  • Hillbd facebook page
সর্বশেষ
২৮ জুন রাঙামাটিতে ৮৫ হাজার ৮০৭জন শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে                    রাঙামাটিতে চাঞ্চল্যকর গৃহবধু হত্যা ও অর্থ লুটের ঘটনায় দুই আসামি গ্রেফতার                    হতাশা নিরসনে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে আস্থাভাজন আদিবাসীকে মন্ত্রী নিয়োগের দাবি                    বিলাইছড়িতে সিসিএইচপি প্রকল্পের স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে সমন্বয় সভা                    বিলাইছড়ি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান                    পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী হেলাল উদ্দিনের অপসারণের দাবিতে রাঙামাটিতে মানবন্ধন                    নানিয়ারচরে জাম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে এক শিক্ষিকার মৃত্যু                    রাজস্থলীতে মদ ভেবে বিষপানে এক যুবকের মৃত্যু                    পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে রাজস্থলীর দুর্গম খিয়াং পাড়ার ৫০পরিবার সুপেয় পানি পাচ্ছে                    বিলাইছড়িতে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক কর্মশালা                    Tender Notice for Hiring of External Audit Firm-ADA                    দোলায় ঝুলিয়ে দুর্গম পথ হেটে গ্রামবাসীরা প্রসূতিকে জুরাছড়িতে হাসপাতালে পৌছাল                    রাঙামাটিতে পুলিশ-ম্যাজিষ্ট্রেসি কনফারেন্স অনুষ্ঠিত                    বিলাইছড়িতে আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত                    ৩০ বছরেও কল্পনা চাকমা অপহরণের বিচার না পাওয়ায় পার্বত্যবাসী হতাশ                    পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়িত না হওয়ায় জুম্ম জনগণের ওপর জাতিগত নির্যাতন বাড়ছে-সন্তু লারমা                    ফিফা বিশ্বকাপকে স্বাগত জানাতে রাঙামাটিতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের শোভাযাত্রা                    দীপেন দেওয়ানকে পার্বত্যমন্ত্রীর পুর্নবাহলের দাবিতে রাঙামাটিতে মানববন্ধন                    সাংবাদিক জিতেন বড়ুয়ার মুক্তির দাবিতে রাঙামাটিতে মানববন্ধন                    জুম্ম শিশুকে ধর্ষনের প্রতিবাদে পিসিপি ও এইচডব্লিউর রাঙামাটিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ                    রাঙামাটিতে অসহায় কৃষকের ধান কেটে ঘরে তুলে দিল জেলা ছাত্রদল                    
 
ads

সোমবার জুম্ম জাতীয় চেতনার অগ্রদূত শহীদ এমএন লারমার ৩১তম মৃত্যূ বার্ষিকী

বিশেষ রিপোর্টার : হিলবিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 09 Nov 2014   Sunday

সোমবার (১০ নভেম্বর) জুম্ম জাতীয় চেতনার অগ্রদূত, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সংসদ শহীদ মানবেন্দ্র নারায়ন লারমার(এমএন লারমা) ৩১তম মৃত্যূ বার্ষিকী।

 

১৯৮৩ সালের ১০ নভেম্বর এই দিনে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির বিভেদপন্থী গ্রুপের বিশ্বাসঘাতকতামূলক সশস্ত্র হামলায় তিনি তার আটজন সহযোদ্ধাসহ খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ির গভীর জঙ্গলের এক গোপন আস্তানায় নির্মমভাবে শাহদাৎ বরণ করেন।

 

তিনি মৃত্যুর আগ পর্ষন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের দশ ভাষাভাষি ১৩টি আদিবাসী জাতিসত্বাদের  আত্ননিয়ন্ত্রনাধিকার আদায়ের সংগ্রাম করে গেছেন।

 

এমএন লারমা ১৯৩৯ সারে ১৫ সেপ্টেম্বর রাঙামাটি শহর থেকে ১২ দূরে অবস্থিত মহাপপ্রুম নামক স্থানে(বর্তমানে কাপ্তাই বাধেঁর কারণে বিলুপ্ত) জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা চিত্ত কিশোর লারমা, মাতা শুভাষিনী দেওয়ান। এমএন লারমার তিন ভাই ও এক বোন। সবার বড় জ্যোতি প্রভা লারমা(মিনু) ছিলেন একজন সমাজকর্মী। বড় ভাই শুভেন্দু লারমা(বুলু) ছিলেন একজন সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী, দক্ষ সংগঠক ও বিপ্লবী।

 

তিনিও ৮৩’ সালের ১০ নভেম্বর সেই কালো রাত্রিতে এমএন লারমা সঙ্গে শহীদ হন। সব চেয়ে ছোট ভাই বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা(সন্তু লারমা)।

 

শহীদ এমএন লারমা ১৯৫৮ সালে রাঙামাটি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক, চট্টগ্রাম সরকারী কলেজ থেকে ১৯৬০ সালে আইএ পাস এবং একই কলেজ থেকে ১৯৬৫ সালে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। ১৯৬৯ সালে তিনি এলএলবি পাশ করলে তিনি চট্টগ্রাম বার কাউন্সিলে যোগদান করেন। ১৮ জুন তিনি পার্বত্য ছাত্র সমিতি নামে একটি সংগঠন গঠন করেন এবং সর্ব প্রথম পাহাড়ি ছাত্র সন্মেলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হন।

 

১৯৬০ সাল আদিবাসী জনগণের জন্য এলো এক বিভাষিকাময় বছর। সে সময় তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে কাপ্তাই জল বিদ্যূৎ প্রকল্প বিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলেন। পাকিস্তান সরকার ১৯৬৩ সালে ১৫ ফের্রুয়ারী রাষ্ট্রদ্রোহিতা অভিযোগ এনে তাঁেক গ্রেফতার করে এবং প্রায় দু বছর জেলে রাখার পর ১৯৬৫ সালে তাঁেক মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

 

উল্লেখ্য, কাপ্তাই বাধেঁর কারণে ৪০ হাজারের অধিক একরের উর্বর ধান্য জমি জলমগ্ন হয় এবং এক লাখ আদিবাসী জনগন উদ্বাস্তুতে পরিণত হওয়ার অসন্তোষের কারণে আদিবাসী জনগণের বিদ্রোহী মনোভাবের জন্ম নেয়।

 

১৯৭০ সালে এমএন লারমা কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হন এবং একই বছর পাকিস্তান প্রদেশিক পরিষদে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭২ সালে ১৫ ফের্রুয়ারী পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি গঠিত হয় এবং তিনি সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন। পরে তিনি সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭৩ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে বিপুল ভোটে জয়ী হন। ১৯৭৪ সালে পার্লামেন্টারি প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে তিনি লন্ডন সফর করেন। আদিবাসী জনগনের আত্ননিয়ন্ত্রনাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রথম থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন পরিচালনা করে আসছিল। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তৎকালীন সময়ে সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন থেকে সরে গিয়ে আত্নগোপণ করেন এমএন লারমা এবং তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম আদিবাসী জনগণের আত্ননিয়ন্ত্রনাধিকার আদায়ের লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সামরিক উইনিং ‘শান্তিবাহিনী, নামে সশস্ত্র আন্দোলন শুরু করে। ১৯৭৬ সালের দিকে পার্বত্য চট্টগ্রমে ‘শান্তিবাহিনীর, সামরিক তৎপরতা শুরু হয়। সামরিক তৎপরতা দ্রুত সম্প্রসারিত হয় যা ১৯৮০ সালের দিকে বেশী জোরালো হয়ে উঠে।

 

এর পর ১৯৮২ সালে ২৪ জুন জনসংহতি সমিতির দ্বিতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। এ সন্মেলনের পর আদর্শগত ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যের কারণে জনসংহতি সমিতি শেষ পর্ষন্ত দ্বিধাবিভক্ত হয় এবং ১৯৮৩ সালের ১৪ জুন সর্ব প্রথম লারমা গ্রুপ (লম্বা)ও প্রীতি গ্রুপ(বাদি) পরস্পর সশস্ত্র যুদ্ধে লিপ্ত হয়। ১৯৮৩ সালে ১০ নভেম্বর বিভেদপন্থী প্রীতি গ্রুপ হামলা চালিয়ে সংগ্রামী নেতা এমএন লারমাকে তার আটজন সহযোগীসহ নির্মমভাবে হত্যা করে।

 

এমএন লারমার মৃত্যূ হলে তার কনিষ্ঠ ভ্রাতা বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমার (সন্তু) একনিষ্ঠ দক্ষতা, বলিষ্ঠ নেতৃত্বে জনসংহতি সমিতির আরো বেশী সক্রিয় হয়ে উঠে। তৃতীয় কংগ্রেস সন্মেলনের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি(শান্তিবাহিনী) আবারও শক্তিশালী হয়ে উঠলে ১৯৮৬ ও ৮৯ সাল পর্ষন্ত নব উদ্দীপনায় সংগ্রাম চালালে বাংলাদেশ সরকার জনসংহতি সমিতির সাথে শান্তি বৈঠকে বসতে রাজি হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর জনসংহতি সমিতি ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে ঐতিহাসিক ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চূক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

 

আজ এ অবিসংবাদিত নেতা বেঁচে নেই। কিন্তু তাঁর আদর্শ, চিন্তাভবানা ও তাঁর আত্নত্যাগের কথা পার্বত্য চট্টগ্রামের দশ ভাষাভাষি আদিবাসী জনগোষ্ঠীসহ দেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে তাকে স্মরণে রাখবে।
–হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

ads
ads
এই বিভাগের সর্বশেষ
আর্কাইভ