• Hillbd newsletter page
  • Hillbd rss page
  • Hillbd twitter page
  • Hillbd facebook page
সর্বশেষ
পাহাড়ে নারীদের অধিকার ও ক্ষমতায়নে লড়াই করছেন সূচরিতা চাকমা                    Request for Quotation (RFQ)                    Request for Quotation (RFQ)                    হিলফ্লাওয়ার                    আশিকা টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি                    বিলাইছড়িতে অগ্নিকাণ্ডে ৩টি ঘর পুড়ে ছাই                    Request For Quotation Notice                    ফারুয়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান                    ফারুয়া থানা পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার                    Vendor Enlistment Notice                    জেলা পর্যায়ে আঞ্চলিক পরিষদ ও সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয় সভা                    দরপত্র বিজ্ঞপ্তি                    রাঙামাটিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপিত                    বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রইফের সমাধিতে বিজিবির মহাপরিচালকের পক্ষ থেকে পুষ্পমাল্য অর্পন                    রাঙামাটিতে টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের আত্মপ্রকাশ                    পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে বৃহত্তর আন্দোলনে সামিল হওয়ার আহবান                    আগামী ক্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জেএসএস অংশ নিচ্ছে                    রাঙামাটিতে মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট ও ডিপ্লোমা ফার্মামিষ্টদের কর্মবিরতি পালন                    ৯৯নং রাঙামাটি আসনের বিএনপির প্রার্থী দীপেন দেওয়ানের মতবিনিময় সভা                    নবাগত জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময়                    শিক্ষক নিয়োগে কোটা বৈষম্যের প্রতিবাদে রাঙামাটিতে বৃহস্পতিবার থেকে ৩৬ ঘন্টার হরতাল                    
 
ads

ঢাকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ১৯ বছর: স্থানীয় জনগণের ভূমি অধিকার ও বাস্তবতা শীর্ষক আলোচনা সভায়
পার্বত্য চট্টগ্রামে বহুবিধ প্রশাসন ও কর্তৃত্ব চলছে-সন্তু লারমা

স্টাফ রিপোর্টার : হিলবিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 01 Dec 2016   Thursday

পার্বত্য চট্টগ্রামে বহুবিধ প্রশাসন ও কর্তৃত্ব চলছে বলে অভিযোগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা(সন্তু লারমা)।

 

তিনি বলেন, পার্বত্য চুক্তি বিষয়ে সরকারের অনেক কর্তাব্যক্তি, নীতিনির্ধারক মহলের অনেক জন এবং অনেক সংগঠনের অনেক ব্যক্তিরা প্রায় সময়ই খুবই দৃঢ়ভাবে ব্ক্তব্য ও অঙ্গীকার দিয়ে থাকেন। কিন্তু গেল ১৯ বছর ধরে চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়িত হয়নি। এই বিষয়ে সরকারের নীতি নির্ধারকেরা কার্যকর ভূমিকা গ্রহন করেনি। চুক্তির ব্যাপারে নীতি নির্ধারকেরা উগ্র জাতীয়তা, সম্প্রদায়িক, প্রগতি বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত ক্রীয়াশীল হওয়ার কারনে আজও পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়িত হচ্ছে না।

 

বৃহস্পতিবার ঢাকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ১৯ বছর: স্থানীয় জনগণের ভূমি অধিকার ও বাস্তবতা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভার সভাপতির বক্তব্যে সন্তু এসব কথা বলেন।

 

সন্তু লারমা বলেন, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সিভিল ও সামরিক আমলাদের অসহযোগিতা বড় বাধা। সিভিল প্রশাসনকে সহায়তার জন্যে অপারেশন উত্তরণ নামে সেনাবাহিনী সহায়তা করবে। কিন্তু আদতে কি তারা সহায়তা করছে নাকি তারাই সবকিছু করছে।

 

তিনি পার্বত্যাঞ্চলে পাহাড়ে বাঙ্গালি-আদিবাসী সংখ্যা সমান হয়ে গেছে উল্লেখ করে বলেন, এত দ্রুত পাহাড়ের এই সংখ্যাগত পরিবর্তনের কারণ কি? রাজনৈতিক কারণেই এই পরিবর্তন করা হয়েছে। তিনি পর্যটনের মধ্য দিয়েও পাহাড়ে আদিবাসীদের জমি দখল হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।

 

দি ডেইলি স্টার ভবনের আজিমুর রহমান কনফারেন্স হলে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম ও কাপেং ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায়  প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক তথ্য কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান।

 

সম্মানিত অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি কমিশনের সদস্য ও চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিস্টার রাজা দেবাশীষ রায়, সাবেক তথ্য কমিশনার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম ও  এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মেসবাহ কামাল।

 

স্বাগত বক্তব্য রাখবেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কাপেং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা । অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কাপেং ফাউন্ডেশনের সদস্য হিরন মিত্র চাকমা।

 

মুক্ত আলেচনায় অংশ নেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য কাফি রতন, নাগরিক উদ্যোগের সমন্বয়কারী নাদিরা পারভিন, আরডিসির সাধারণ সম্পাদক জান্নাত-এ ফেরদৌসী, বিসিএইচআরডির মাহবুব প্রমুখ।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, চুক্তি করে চুক্তি প্রতিপালন না করা কোন সভ্যতা নয়। যদি এরকমটি করা হয় তবে সেটি হবে লজ্জার বিষয়। আমি মনে করি ভূমি সমস্যাটি পার্বত্য চট্টগ্রামের এক নম্বর সমস্যা। এছাড়াও পাহাড়ী-বাঙ্গালি সম্প্রীতি, পাহাড়ী নারীদের প্রতি সহিংসতা। যা বিষয়গুলো অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারকে আরো উদ্যোগী হয়ে কাজ করতে হবে। 

 

চাকমা সার্কেল চীফ রাজা দেবাশীষ রায় বলেন,পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী মানুষের প্রতি সরকার বৈষম্যমূলক আচরণ বজায় আছে। তাছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন কার্যত কাজ করতে পারছেনা? চুক্তি অনুযায়ি যে টাস্কফোর্স হয়েছে তাতে ভারত প্রত্যাগতদের কিছুটা পুনর্বাসন করা হলেও অভ্যন্তরীন উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনের কোন উদ্যোগই নেয়া হয়নি।

 

একজনকেও তাদের পুনবাসন করা হয়নি। তারা মানবেতর জীবন ধারণ করছে। টাস্কফোর্স কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে। তিনি পার্বত্য চুক্তির মূল বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করার দাবি জানান এবং পাহাড়ের অনাকাঙ্খিত যেকোন ঘটনা এড়ানোর জন্য মিশ্র পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

 

অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, পার্বত্য চুক্তির বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সেটি সরকারকে উপলব্ধি করতে হবে। চুক্তির বাস্তবায়ন সংখ্যা দিয়ে মাপা ঠিক নয়। ভূমি কমিশন কর্তৃক এখনো পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়ার পার্বত্যাঞ্চলের ভূমি সমস্যা উত্তরোত্তর জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। পার্বত্য চুক্তির প্রাক্কালে তৃতীয় কোন পক্ষ ছিলো না। দুই পক্ষের আলোকে চুক্তিটি হয়েছে এবং সেটি অব্যশই নিঃসন্দেহে সাহসিকতার পরিচয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে আমরা একাধিক প্রশাসন দেখতে পাই। যেটি মোটেই মক্ষলজনক নয়।

 

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম  বলেন , চুক্তির ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে কিছু কিছু ক্ষেত্রে পাহাড়ে সুবিধা এসেছে। কিনÍু চুক্তি অনুযায়ী মূল বিষয়গুলো এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। কতভাগ বা কত শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে সেই অংক না কষে সেখানকার জনগন কি বলছে সেটিই প্রধান বিষয়। সরকার কেন পার্বত্য এলাকায় নির্যাতিন, নিপীড়ন অব্যাহত রাখছে, কেনো তাঁদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিচ্ছে না সেটি আমাদের বুঝতে হবে।

 

শামসুল হুদা বলেন, নানা বাধা সত্বেও ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিকে  এগিয়ে নিতে হবে। ভুমি কমিশন আইন সংশোধনের জন্য ধন্যবাদ জানাই সরকারকে। কিনÍু ভুমি সংশোধন  বিষয়ক আইনের বিধিমালা হয়নি। এটির জন্য যেন আবার আলোচনা করতে সময়ক্ষেপন করা না হয়। আঞ্চলিক পরিষদের সাথে সমন্বয় করে বিধিমালা প্রণয়ন করতে হবে। পার্বত্য চুক্তি অনুযায়ী সেটেলারদের সম্মানজনক পুনর্বাসন করা হোক।

 

সঞ্জীব দ্রং স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ১৯ বছর দীর্ঘ সময়,। তবে সেটি কিভাবে, কেমন ভাবে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে সেটি নিয়ে শংসয় থেকেই যাচ্ছে।এখানে সরকার প্রধান পক্ষ তাই সরকারের সহযোগিতাই এই চুক্তি এগিয়ে যেতে হবে। এখানে, চুক্তির  মূল বিষয়গুলো এখনো বাস্তবতা  হয়নি। পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়িত হলে পাহাড়ী-বাঙ্গালী উভয়েই জন্যই মঙ্গলজনক। নাগরিক সমাজ, প্রগতিশীল রাজনীতিক দল,  মিডিয়াও এক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা পালনের তিনি আহ্বান জানান।

 

কাপেং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা তার উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি মোতাবেক স্থানীয় অধিবাসীদের ভূমি অধিকার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন যথাযথভাবে কার্যকরকরণের মাধ্যমে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি করা;‘ভূমি এবং ভূমি ব্যবস্থাপনা’ বিষয়টি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি অনুযায়ী যথাযথ ও জরুরী ভিক্তিতে জেলা পরিষদের নিকট হস্তান্তর করা;অবৈধভাবে রাবার চাষ ও অন্যান্য প্লান্টেশনের জন্য বরাদ্ধকৃত জমির ইজারা বাতিল করা;‘অপারেশন উত্তরণ’সহ সকল অস্থায়ী ক্যাম্প প্রত্যাহার এবং স্থানীয় পার্বত্য পুলিশ বাহিনী গঠন করা; প্রত্যাগত জুম্ম শরণার্থী ও আভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন করা, সেটেলার বাঙালিদের পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরে সম্মানজনক পুনর্বাসন করার জন্য তুলে ধরেন।

--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

ads
ads
এই বিভাগের সর্বশেষ
আর্কাইভ