পাহাড়ে পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রদায়ের সেতুবন্ধন আরও দৃঢ করা এবং অর্থাভাবে চিকিৎসা না পাওয়া অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে রাঙামাটিতে অনুষ্ঠিত হলো দিনব্যাপী বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও সেনা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) মানবিক উদ্যোগে বৃহস্পতিবার এ আয়োজন করা হয়।
রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের নবনির্মিত ভবনে আয়োজিত এই বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিতে পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর প্রায় এক হাজার দরিদ্র ও অসহায় মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ পেয়েছেন। সকাল থেকেই দূরদূরান্ত থেকে আসা পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রদায়ের প্রবীণ, নারী ও শিশুদের ভিড়ে মুখরিত হয়ে ওঠে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ।
দিনভর চলা এই চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমে সিএমএইচ-এর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল এবং রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা যৌথভাবে রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন ও পরামর্শ দেন। এছাড়া বিনামূল্য বিতরণ করা রায় প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র। এতে জটিল ও দীর্ঘমেয়াদী রোগে আক্রান্ত প্রান্তিক রোগীরা সামরিক ও বেসামরিক চিকিৎসকদের কাছ থেকে সরাসরি এ স্বাস্থ্য সেবা পেয়ে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সেবা নিতে আসা স্থানীয়রা জানান, সামর্থ্যের অভাবে যাদের পক্ষে ভালো চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া সম্ভব ছিল না, তাদের জন্য সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়।
স্বাস্থ্য সেবা ক্যাম্পের সরেজমিনে পরিদর্শন করেন সেনাবাহিনীর রাঙামাটি সদর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ একরামুল রাহাত। এ সময় রাঙামাটির জেলা সিভিল সার্জন ড. নূয়েন খীসা,রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডাঃ শওকত আকবরসহ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনকালে জোন কমান্ডার বিভিন্ন বয়সী ও সম্প্রদায়ের সুবিধাভোগী রোগীদের সাথে কথা বলেন।
এসময় রাঙামাটি সদর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ইকরামুল হক রাহাত বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তা বিধানের পাশাপাশি শান্তি, সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং বিভিন্ন মানবিক কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, এ ক্যাম্পের প্রধান উদ্দেশ্য হল গরীব,অসহায় ও দুস্থ মানুষ যাদের প্রাইভেট হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা করানো আর্থিক সামর্থ্য নেই তাদেরকে সিএমএইচ এর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে উন্নত চিকিৎসা সেবা দেওয়া। এর মাধ্যমে পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রদায়ের ভেতরের পারস্পরিক সম্প্রীতি ও শ্রদ্ধার সেতুবন্ধনকে আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবে। পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের যে কোনো প্রয়োজনে সেনাবাহিনী ভবিষ্যতেও এভাবেই পাশে থাকবে।”
--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.