রাঙামাটিতে পর্যটনকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে আকৃষ্ট করতে ও পানির প্রতি মানুষের ভয় কাটাতে শনিবার রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে সাড়ে ১৩ কিলোমিটার সুবলং চ্যানেল সুইমিং প্রতিযোগিতা।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের আয়োজিত সাঁতার প্রতিযোগিতাটি সকাল ৮টায় সুবলং বাজার সংলগ্নঘাট থেকে শুরু হয়। দুপুর ১২টায় রাঙামাটি শহরের শহীদ মিনারস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোট ঘাটে শেষ হয়। প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৩২ সাঁতারু অংশ নেন। প্রতিযোগিতায় ৩ঘন্টা ২৮ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের মধ্যে সাতাঁরে প্রথম স্থান অর্জন করেন বগুড়া জেলার রাব্বি রহমান, ৩ঘন্টা ৪৯ মিনিট ১৫ সেকেন্ড সাতাঁরে দ্বিতীয় হয়েছেন একই জেলার মো. মেহেদী হাসান ও ৩ঘন্টা ৫৫ মিনিটে সাতাঁর কেটে তৃতীয় হয়েছেন বগুড়া জেলার মো. নয়ন ইসলাম। এছাড়া একই জেলার চর্তুথ হয়েছেন আব্দুল আল মাহমুদ ও পঞ্চম হয়েছেন রাঙামাটি জেলার হাফিজুর রহমান। এর মধ্যে প্রথম বিজয়ীকে ২৫ হাজার টাকা, দ্বিতীয় বিজয়ীকে ১৫ হাজার ও তৃতীয় বিজয়ীকে ১০ হাজার টাকা করে পুরুস্কার হিসেবে চেক তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সকল প্রতিযোগী ও বিজয়ীদের মাঝে সম্মাননা স্মারক ও সনদ বিতরন করা হয়।
রাঙামাটির কেন্দ্রীয় মিনার চত্বরে অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী। এসময় অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, রাঙামাটি সদর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইকরামুল রাহাত, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রুহুল আমিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) মোঃ জসীম উদ্দীন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এবং (উন্নয়ন ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা) আলমগীর হোসেন ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুহাম্মদ ইমরানুল হক ভূঁইয়াসহ অন্যান্যরা।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, পানিভীতি ও কুসংস্কার দূর করে পাহাড়ের ছেলেমেয়েদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাঁতার প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করতে এবং কাপ্তাই হ্রদ কেন্দ্রিক দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন।
সাঁতার প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জনকারী রাব্বি রহমান বলেন, কাপ্তাই হ্রদে সাঁতার প্রতিযোগিতা এটাই তার প্রথম। চারিদিকে পাহাড় আর মাঝখানে বয়ে চলা হ্রদের পানিতে সাতাঁর প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে খুব ভালো লেগেছে। কারণ এই দৃশ্য অন্য জায়গায় সহজে পাওয়া যায় না। তবে এর তিনি বাংলা চ্যানেল জয় করেছেন ও জাতীয়ভাবে একাধিক স্বর্ন ও পদক পেয়েছেন। তিনি আরো বলেন, তিনি ৪৬ কিলোমিটার সাতারে অংশ নিয়েছিলেন তিস্তা ব্যারেজে কিন্তু ওখানেও এরকম দৃশ্য ছিল না। আর যমুনাতেও ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত ফিনিশিং দিয়েছিলেন। কিন্তু এরকম দৃশ্য ও এরকম সৌন্দর্য অনুভূতি কোথাও পাননি। তার পরবর্তী টার্গেট হচ্ছে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়া।
জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, সাঁতার আয়োজনের মাধ্যমে এর মুল উদ্দেশ্য হলো জীবনে বেঁচে থাকার জন্য সাঁতার যেনো আমরা শিখি। একই সাথে পানির প্রতি মানুষের যে ভয় সেটা যেন কেটে যায়।
--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.