• Hillbd newsletter page
  • Hillbd rss page
  • Hillbd twitter page
  • Hillbd facebook page
সর্বশেষ
রাঙামাটিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে,একদিনে শনাক্ত ৭১ জন                    রাঙামাটিতে এসিআর ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ কর্মশালা                    কাপ্তাইয়ে অভিনব কৌশলে পাচারকালে চোলাই মদসহ আটক ১                    খাগড়াছড়ি গুইমারাতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বাপ-ছেলে, আহত-২                    কাপ্তাইয়ে জঙ্গলে হাত-পা মুখ বেঁধে এক নারীকে ধর্ষণঃ ধর্ষক পলাতক                    ক্যাপ্টেন গাজী হত্যা মামলার আসামী ইউপিডিএফ নেতাকে অস্ত্রসহ আটক                    একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়া আর কোন সরকারী-বেসরকারী সেবা পৌঁছেনি বিঞ্চু কারবারী পাড়ায়                    সমীর কান্তি দে সভাপতি ও অনুপম বড়ুয়া শংকর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত                    ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষা শিক্ষা কার্যক্রমকে বেগবান করতে রাঙামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের আহ্বান                    সভাপতি কুসুম তঞ্চঙ্গা ও সম্পাদক জগদীশ চাকমা পুনরায় নির্বাচিত                    কাপ্তাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পিপি ও মাস্ক প্রদান করল হিন্দু-বৌদ্ধ কল্যাণ ট্রাস্ট                    রাঙামাটিতে শীতার্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ                    বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে রাঙামাটিতে আলোচনা সভা                    নানান আয়োজনে রাঙামাটিতে বনভান্তের ১০৩ তম জন্ম দিবস পালন                    রাঙামাটিতে অটিজম বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালা                    কাপ্তাইয়ে চোলাই মদসহ আটক-২                    রাঙামাটিতে জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক সংগঠন হিলর ভালেদীর ৫ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন                    বরকল রাগীব রাবেয়া কলেজের নবম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন                    কাপ্তাইয়ে শিক্ষার্থীদের করোনা টিকাদান কর্মসূচী শুরু                    রাঙামাটিতে রাজগুরু স্মরণে মানবিক সেবা                    কাউখালী-চট্টগ্রাম সড়কে অতিরিক্ত বাঁশ বোঝাই ভারী ট্রাক পাড়াপাড়ে ক্ষতিগ্রস্থ বেলি ব্রিজ                    
 
ads

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির দুই যুগেও কাংখিত প্রত্যাশা মিলেনি

বিশেষ রিপোর্টার : হিলবিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 02 Dec 2021   Thursday

আজ ২ ডিসেম্বর। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির দুই যুগ বর্ষপূর্তি। পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রায় দু’দশকের সংঘাত বন্ধের লক্ষে এই দিনে ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তবে চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়িত না হওয়ায় ২৪ বছরেও সেই শান্তির প্রত্যাশা পুরণ হয়নি। ফলে কাংখিত পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়িত না হওয়ায় পাহাড়ের মানুেেষর মাঝে বাড়ছে,হতাশা, ক্ষোভ ,অসন্তোষ ও অবিশ্বাস। 


এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার পক্ষ ও চুক্তি স্বাক্ষরকারী পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে রয়েছে ভিন্ন মতামত। চুক্তির ৭২ ধারার মধ্যে সরকার পক্ষ বলছে ৪৮টি ধারা ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। বাকী ১৫টি ধারা আংশিক বাস্তবায়িত হয়েছে এবং ৯টি ধারা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আর জনসংহতি সমিতি বলছে ৭২টি ধারার মধ্যে মাত্র ২৫টি ধারা বাস্তবায়িত হয়েছে। ১৮টি ধারা আংশিক বাস্দবায়িত হয়েছে বাকী ২৯টি ধারা সম্পুর্ন অবাস্তবায়িত অবস্থায় রয়েছে। অবাস্তবায়িত ধারাগুলোর মধ্যে চুক্তির অন্যতম মৌলিক বিষয়গুলো রয়েছে।


উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রামে দুই যুগের অধিক সময় ধরে চলা রক্তয়ী সশস্ত্র সংঘাত নিরসন, স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনয়নের লক্ষে সরকার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি সই হয়। এতে সরকারের পে জাতীয় সংসদের তৎকালীন চীফ হুইপ আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ ও পাহাড়ীদের পে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি মোতাবেক ১৯৯৮ সালে জনসংহতি সমিতির তৎকালীন শান্তি বাহিনীর প্রায় দুই হাজার সদস্য সরকারের কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে।


পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৪ বছর পূর্তি উপক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির প্রকাশিত বুকলেটে দাবী করা হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৪ বছরেও পার্বত্য চুক্তি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। পার্বত্য চুক্তির মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার রাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ সমাধান অর্জিত হয়নি। যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি পার্বত্য চট্টগ্রামের বিশেষ শাসনব্যবস্থা,সাধারণ প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা, পুলিশ, ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা, বন ও পরিবেশ, পর্যটন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ইত্যাদি বিষয়গুলো এখনো বিশেষ শাসনব্যবস্থার অধীনে প্রবর্তিত পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণাধীন করা হয়নি। বিগত ২৪ বছরেও পার্বত্য সমস্যার কাক্সিক্ষত রাজনৈতিক সমাধান হওয়া তো দূরের কথা, পার্বত্য সমস্যা আরো জটিল থেকে জটিলতর হয়ে উঠেছে।


বুকলেটে আরো দাবী করা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির অবাস্তবায়িত বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য সংরণে আইনী ও প্রশাসনিক পদপে গ্রহণ,পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদে সাধারণ প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা,পুলিশ, ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা, বন ও পরিবেশ, পর্যটন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ইত্যাদিসহ রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক মতা ও কার্যাবলী হস্তান্তর, নির্বাচন বিধিমালা ও স্থায়ী বাসিন্দাদের নিয়ে ভোটার তালিকা বিধিমালা প্রণয়ন পূর্বক আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা, অপারেশন উত্তরণ’ নামক সেনাশাসনসহ সকল অস্থায়ী ক্যাম্প প্রত্যাহার করা,ভূমি কমিশনের মাধ্যমে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি করে বেদখল হওয়া জায়গা-জমি জুম্মদের নিকট ফেরত দেয়া, ভারত প্রত্যাগত জুম্ম শরণার্থী ও আভ্যন্তরীণ জুম্ম উদ্বাস্তুদের তাদের স্ব স্ব জায়গা-জমি প্রত্যর্পণ পূর্বক যথাযথ পুনর্বাসন প্রদান করা,অস্থানীয়দের নিকট প্রদত্ত ভূমি ইজারা বাতিল করা,পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল চাকরিতে জুম্মদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে স্থায়ী বাসিন্দাদের নিয়োগ করা, চুক্তির সাথে সঙ্গতি বিধানকল্পে ১৮৬১ সালের পুলিশ এ্যাক্ট, পুলিশ রেগুলেশন, ১৯২৭ সালের বন আইন ও ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধিসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রযোজ্য অন্যান্য আইন সংশোধন,পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরে সেটেলার বাঙালিদের সম্মানজনক পুনর্বাসন প্রদান করা ইত্যাদি।


বুকলেট অভিযোগ করা হয়, জনসংহতি সমিতির সদস্য ও সমর্থকসহ পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনরত ব্যক্তি ও সংগঠনকে ‘সন্ত্রাসী’, ‘চাঁদাবাজ’,‘অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত’ হিসেবে পরিচিহ্নিত করার জন্য ব্যাপক অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। জুম্ম জনগণের উপর আইন-শৃংখলা বাহিনীর অভিযান, ঘরবাড়ি তল্লাসী, গ্রেফতার, ক্রশফায়ারের নামে বিচার-বহির্ভুত হত্যা, ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের, অনুপ্রবেশ, ভূমি বেদখল, চুক্তি বিরোধী অপপ্রচার ইত্যাদি মানবতা ও জুম্ম স্বার্থ বিরোধী কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। অপরদিকে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে জুম্ম জনগণকে জাতিগতভাবে নির্মূলীকরণের উদ্দেশ্যে আইন-শৃংখলা বাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতৃত্ব কর্তৃক সৃষ্ট সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ, জেএসএস (এম এন লারমা)সংস্কারপন্থী, ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক), মগ পার্টি, আরএসও, আরসাসহ পার্বত্য চুক্তি বিরোধী ও মৌলবাদীজঙ্গীগোষ্ঠীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে খুন, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় ইত্যাদি সন্ত্রাসী তৎপরতা চালিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে এক অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের ব্যানারে সংগঠিত করে মুসলিম সেটেলার, উগ্র জাতীয়তাবাদী ও উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে জনসংহতি সমিতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে লেলিয়ে দেয়া হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিকে ভূলুণ্ঠিত করে সত্তর দশকের মতো জুম্ম জনগণকে আবারো দূরে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। তাই পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে পার্বত্য সমস্যার যথাযথ রাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের কোন বিকল্প নেই। এতে দেশের শাসকগোষ্ঠী যতই দ্রুত উপলব্ধি করতে পারবে ততই দ্রুত দেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে বলে বুকলেটে উল্লেখ করা হয়েছে।


এদিকে পাহাড়ের অন্যতম সমস্যা হচ্ছে ভূমি সমস্যা ২৪ বছরেও সমাধান হয়নি। চুক্তি সইয়ের পর পাহাড়ে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষে ২০০১ সালের ২০ জুনে গঠন করা হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম ভুমি-বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন। তিন বছর মেয়াদে এ পর্ষন্ত ৬টি কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ দিলেও দীর্ঘ ২৪ বছরেও ভূমি বিরোধ সমস্যা সমাধান হয়নি। তবে বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি জরিপের ঘোষনা এবং কমিশন আইনের বর্হিভূত সিদ্ধান্তের কারণে বিতর্কিত হন। তিনি রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের ২৫টি উপজেলা থেকে ভূমি বিরোধ সংক্রান্ত প্রায় ৫ হাজার আবেদন গ্রহন ও শুনানীর কার্যক্রম শুরু করলেও এক পর্যায়ে এক তরফাভাবে শুনানীর অভিযোগ এনে বিভিন্ন সংগঠনের প প্রতিবাদের কারণে এই শুনানী স্থগিত রাখতে বাধ্য হন।

 

এর আগে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আনোয়ারুল হক চৌধুরীকে ভূমি কমিশনের প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আব্দুল করিম এ কমিশনের চেয়ারম্যান হন। আবার ২০০১ অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মাহমুদুর রহমানকে কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়। ২০০৯ অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি খাদেমুল ইসলাম চৌধুরীকে ভূমি কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয় সরকার। সর্বশেষ ২০১৪ সালের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আনোয়ার উল হককে কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। কমিশনের প্রধান কার্যালয় খাগড়াছড়িতে হলেও তার সময়ে রাঙামাটি ও বান্দরবানে কমিশনের সাব অফিস চালু করা হয়। তবে এ কমিশনের বিধিমালা প্রনয়ন,লোকবল নিয়োগ, কমিশনের দাপ্তরিক লজিষ্ট্রিক সাপোর্ট পর্যাপ্ত নেই। পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইনের বিধিমালার খসড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ থেকে প্রস্তাব আকারে পেশ করা হলেও এখনো তা অনুমোদনের অপোয় রয়েছে। তবে তার সময়ে তিন পার্বত্য জেলা থেকে ভূমি বিরোধ নিয়ে সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রায় ২৪ হাজার দরখাস্ত জমা পড়েছে। তবে কমিশনের লোকবলের অভাবে জমা হওয়া দরখাস্তগুলো যাচাই-বাছাই ও সুবিন্যস্ত করা এখনো সম্ভব হয়নি।


এদিকে, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়িত না হওয়ার কারণে আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে এলাকার আধিপত্য, ক্ষমতা ও চাঁদাবাজির বিস্তারকে কেন্দ্র করে ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত সংঘাত বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অনেকের অভিমত ব্যক্ত করেছেন। এর আগে ১৯৯৮ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময় জেএসএসের সাথে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে ইউপিডিএফ। এতে দুই পক্ষের ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতে অন্তত তিন শতাধিক অধিক নেতা-কর্মী মারা গেছেন। তবে ২০১৫ সালে এসে এই দুই দলের অলিখিতভাবে বর্তমানে দুদলের মধ্যে সংঘাত বন্ধ রয়েছে। তবে ২০১৭ সালের ১৫ নভেম্বর তপন জ্যোতি চাকমার নেতৃত্বে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক নামে নতুন দল আত্মপ্রকাশ পায়। এতে নতুন দল ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক ও জেএসএস এমএন লারমার মধ্যে সখ্যতা গড়ে উঠে। এতে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক ও জেএসএস এমএন লারমা দলের সাথে সন্তু লারমা নেতৃত্বাধীন জেএসএস ও প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফের মধ্যে সংঘাত লেগেই আসে। শুরু হয় চর্থমূখী সংঘাত। ২০১৭ সালে ৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় এ পর্যন্ত উভয় পক্ষে এক শতের অধিক নিহত হয়েছে। তবে এ সংখ্যা বাড়তেও পারে বলে কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে। অপরদিকে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বান্দরবানে নতুন দল মগ পার্টি নামে আরেকটি দল আর্বিভাব হয়। এই মগ পার্টির সাথে জেএসএসের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি হয়। এতে গত তিন বছরে ২০ জনের অধিক নিহত হয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।


১৯০০ সালের শাসন বিধি কার্যকর নিয়ে প্রশ্নের বিতর্কঃ
সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ১৯০০-এর কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠায় বির্তকের সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৪ নভেম্বর দেশের ২৭ জন বিশিষ্ট নাগরিকরা এক বিবৃৃতিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ১৯০০-এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতিতে বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ১৯০০-এর কার্যকারিতা নিয়ে় একটি মহল প্রশ্ন তোলার তৎপরতায় লিপ্ত। অথচ পার্বত্য শাসনবিধি ১৯০০-এর কার্যকারিতার বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালত বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এক গুরুত্বপূর্ণ রায় বেশ কয়েক বছর আগেই নিষ্পত্তি করা হয়েছে। সেই রায় অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ১৯০০ দেশের সংবিধানের সঙ্গে যেমন কোনোভাবেই সাংঘর্ষিক নয়়, তাই আইনটি সরকার বাতিলও করেনি। বরং এ আইনে প্রদত্ত পার্বত্য অঞ্চলের সংখ্যালঘু আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রথাগত, ঐতিহ্যগত ভূমি অধিকারসহ অন্যান্য অধিকার সুরা দিয়েছে। আর ১৯৯৭ সালে স্বারিত ঐতিহাসিক পার্বত্য চুক্তিতে এই প্রথাগত, ঐতিহ্যগত অধিকার বাস্তবায়নের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। তাই পার্বত্য শাসনবিধি ১৯০০-এর বিরোধিতার অর্থ হচ্ছে প্রকারান্তরে পার্বত্য চুক্তিরই বিরোধিতা এবং তার বাস্তবায়নকে বাধাগ্রস্থ করার নগ্ন প্রয়াস। পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি ১৯০০ বহাল রেখে তার পূর্ণ বাস্তবায়ন না হলে সরকার তথা বাংলাদেশের অর্জিত ঐতিহাসিক চুক্তি স্বারের উজ্জ্বল ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে, বিশেষভাবে জাতিসংঘের সব সংস্থার কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হবে। তার কোনোভাবেই এ তি মেনে নিতে পারা যাবে না বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন বিশিষ্টজনরা।

 

চুক্তি নিয়ে বিশিষ্টজনদের মতামতঃ

জাতীয় মানবধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নিরুপা দেওয়ান বলেন, চুক্তির ২৪ বছরে যে প্রত্যাশা ছিল তা প্রায় পূরণ হয়নি। চুক্তির মূল লক্ষ্যে হচ্ছে তথা দেশের সংবিধানিক অধিকার রয়েছে রাজনৈতিক, মত প্রকাশের অধিকার, স্বাধীনভাবে চলাফেয়ার কিন্তু তা আমরা পুরোপুরিভাবে উপভোগ করতে পারছি না।


পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান বলেন, পার্বত্য চুক্তির প্রাপ্তি আর প্রত্যাশা আকাশ পাতাল তফাত রয়েছে। ১০ থেকে ১৫ বছর আগে যে কথাগুলো বলে আসছি এখনো সেই অবস্থায় রয়েছে। চুক্তির যে মৌলিক বিষয়গুলো আইন শৃংখলা,ভূমি সমস্যা সমাধান, আঞ্চলিক পরিষদ আইন সংশোধন ও বিধিমালা তৈরী, ভারত প্রত্যাগত ৮৩ হাজার অভ্যন্তরীণ পাহাড়ী শরনার্থীদের পূর্নবাসনসহ ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ন বিষয়ে কোন এখনো কোন বাস্তবায়ন হয়নি। তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাচনের কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। যার কারণে এসব পরিষদের নির্বাচন না হওয়ায় কোন জবাব দিহিতা নেই। তিনি আরো বলেন, পার্বত্য চুক্তিতে ৭০,৭৮ কিংবা ৮০ ধারার মধ্যে ৮০ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে তার মধ্যে ২০ শতাংশ বাকী রয়েছে বলে সমস্ত কথাগুলো বলা হচ্ছে। কিন্তু এটি গাণিতিক হিসেবে দেখার বিষয় না। বিষয় হলো যে কনসেপ্ট ছিলো তা পুরোপুরি পূরণ করতে পেরেছি কিনা বা পেয়েছি কিনা।


খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংশোদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও রাঙামাটির সাংসদ দীপংকর তালুকদার বলেন, পার্বত্য চুক্তির ২৪ বছরের পূর্তিতে অনেকে বলছেন চুক্তির কিছুই বাস্তবায়ন হয়নি যেমন সত্য নয়, ঠিক তেমনি করে পূর্ন বাস্তবায়ন হয়েছে তাও সত্য নয়। এই ২৪ বছরে চুক্তি পূর্ন বাস্তবায়ন না হওয়াটা আমাদের জন্য নিশ্চয় কষ্টকর ও যন্ত্রনাকর। ২৪ বছরে চুক্তির পূর্ন বাস্তবায়ন হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু নির্মহ বা বাস্তব ভিত্তিতে একাডেমিকভাবে ডিসকাশন করি তাহলে চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন অনুকুল পরিবেশ। এখানকার মানুষের মধ্যে সমঝোতা, আত্নবিশ্বাস তৈরী করা, উন্নত করা এবং চুক্তির স্বপক্ষের সকলের সন্মিলিতভাবে একটা পরিবেশ তৈরী করা হল প্রধান শর্ত। কিন্তু আমরা দেখলাম চুক্তির একটা পক্ষ আওয়ামীলীগকে নিশ্চিহৃ করার জন্য রাঙামাটি,খাগড়াছড়ি বান্দরবানে তারা উঠে পড়ে লেগে গেলো। আজ পর্ষন্ত এই ২৪ বছরে অবৈধ অস্ত্রধারীদের হাতে চুক্তি বাস্তবায়নের কথা যারা বলে আসছে তাদের হাতে আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক কর্মী ছাড়া অন্য কোন দলের রাজনৈতিক কর্মী নিহত হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। আওয়ামীলীগকে নিশ্চিহৃ করতে চাই আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের হত্যা করে চুক্তি বাস্তবায়ন করতে চাই তাহলে এটা মনে করবো বকা স্বর্গে বসবাস করা। চুক্তি স্বাক্ষর করে বিপক্ষের ভেতরে যে একটা দুরত্ব ও সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে এটা চুক্তি বাস্তবায়নের পক্ষে একটা বড় অন্তরায় হয়ে দাড়িয়েছে। পার্বত্য চুক্তির যে সমস্ত অবাস্তবায়িত ধারাগুলো রয়েছে সেগুলো অবিলম্বে বাস্তবায়িত হোক।


চুক্তির বর্ষ পূর্তিতে রাঙামাটিতে সমাবেশঃ
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বর্ষ পূর্তি উপলক্ষে আজ রাঙামাটিতে জেএসএস জেলা শাখার উদ্যোগে শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও রাঙামাটি জেলা পরিষদ চুক্তির বর্ষ পূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।
--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

সংশ্লিষ্ট খবর:
ads
ads
এই বিভাগের সর্বশেষ
আর্কাইভ