• Hillbd newsletter page
  • Hillbd rss page
  • Hillbd twitter page
  • Hillbd facebook page
সর্বশেষ
Request For Quotation Notice                    ফারুয়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান                    ফারুয়া থানা পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার                    Vendor Enlistment Notice                    জেলা পর্যায়ে আঞ্চলিক পরিষদ ও সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয় সভা                    দরপত্র বিজ্ঞপ্তি                    রাঙামাটিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপিত                    বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রইফের সমাধিতে বিজিবির মহাপরিচালকের পক্ষ থেকে পুষ্পমাল্য অর্পন                    রাঙামাটিতে টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের আত্মপ্রকাশ                    পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে বৃহত্তর আন্দোলনে সামিল হওয়ার আহবান                    আগামী ক্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জেএসএস অংশ নিচ্ছে                    রাঙামাটিতে মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট ও ডিপ্লোমা ফার্মামিষ্টদের কর্মবিরতি পালন                    ৯৯নং রাঙামাটি আসনের বিএনপির প্রার্থী দীপেন দেওয়ানের মতবিনিময় সভা                    নবাগত জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময়                    শিক্ষক নিয়োগে কোটা বৈষম্যের প্রতিবাদে রাঙামাটিতে বৃহস্পতিবার থেকে ৩৬ ঘন্টার হরতাল                    তরুণ কবি ম্যাকলিন চাকমার একগুচ্ছ কবিতা                    সাজেকে মোবাইল নেটওয়ার্ক ফের চালুতে স্বস্তি                    চ্যাম্পিয়ন বিলাইছড়ি রাইংখ্যং একাদশ                    ফেন্সি স্কিন কেয়ার প্রোডাক্টস’র রাঙামাটিতে গ্র্যান্ড ওপেনিং                    বিলাইছড়িতে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর উদযাপিত                    খাগড়াছড়ির অনন্য এক প্রাথমিক শিক্ষক রুপা মল্লিক,যাঁর পথচলার বাঁকে বাঁকে শ্রম আর সাফল্য                    
 
ads

পার্বত্য চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন ও সমতলের আদিবাসীদের পৃথক ভূমি কমিশনের দাবিতে ঢাকায় প্রতীকী অনশন

ডেস্ক রিপোর্ট : হিলবিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 09 Mar 2016   Wednesday

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন ও সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠনের দাবিতে বুধবার রাজধানী ঢাকায়  প্রতীকী অনশন  কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

 

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের মূখপাত্র  নিটোল চাকমার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বার্তায় বলা হয়,বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটি ও সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের যৌথ আয়োজনে বুধবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালিত হয়। প্রতীক অনশন কর্মসূচি চলাকালে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান।

 

সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ পঙ্কজ ভট্টাচার্য্য, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য নিরুপা দেওয়ান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মেসবাহ কামাল, রাঙামাটি জেলার বরকল উপজেলার চেয়ারম্যান মনি চাকমা, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্য ও মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দীন, বিশিষ্ট নারী নেত্রী খুশী কবীর, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ত্ব রামেন্দু মজুমদার, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত, রাঙামাটি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অরুন কান্তি চাকমা, নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন, রাঙামাটি বিলাইছড়ি উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান শ্যামাবতী চাকমা, প্রত্যাগত জুম্ম শরনার্থী কল্যান সমিতির সাধারণ সম্পাদক সন্তোষিত চাকমা বকুল, বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার চেয়ারম্যান ক্যায়বামং মারমা, বাংলাদেশ গারো ছাত্র সংগঠনের সভাপতি অলীক মৃ প্রমুখ।

 

প্রতীকী অনশন কর্মসূচিতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সহ সভাপতি শক্তিপদ ত্রিপুরা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সদস্য রিপন চন্দ্র বানাই।

 

প্রতীক অনশন কর্মসূচি শেষে বর্ষীয়ান রাজণীতিবিদ পঙ্কজ ভট্টাচার্য্য  পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ানকে শরবত খাওয়ানোর মধ্য দিয়ে অনশন ভঙ্গ করান। দিন ব্যাপী অনশন কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্যের মাঝে মাঝে গণসঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট আদিবাসী সঙ্গীত শিল্পী কালায়ন চাকমা ও আদিবাসী কালাচারাল ফোরামের শিল্পীরা।

 

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ পঙ্কজ ভট্টাচার্য্য তার বক্তব্যে বলেন, পার্বত্য চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে ১৮ বছর হয়ে গেছে কিন্তু চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো এখনো বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী চুক্তির বিষয়ে আন্তরিক হলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে চুক্তি বাস্তবায়ন অন্তরায় হয়ে দাঁিড়য়েছে। তিনি আরো বলেন, বর্তমান মহাজোট সরকার চালাচ্ছে আমলারা এবং এরাই প্রধানমন্ত্রীকে পার্বত্য চুক্তি ও আদিবাসীদের বিষয়ে ভুল বুঝিয়ে চুক্তি বাস্তবায়ন হতে দিচ্ছেনা।

 

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আজকে সরকারের মধ্যেই ব্যাংক ডাকাত, ভূমিদস্যু, সাম্প্রদায়িক শক্তিরা লুকিয়ে আছে। সরকারের অনেক মন্ত্রী, এমপিরাও ভূমি দখলসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার সাথে জড়িত। তিনি অবিলম্বে পার্বত্য চুক্তির বাস্তবায়ন ও সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠনের দাবি জানান।

 

এডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত বলেন, পার্বত্য চুক্তির বাস্তবায়নকে বিলম্বিত করে সরকার আদিবাসীদের ধ্যের্যের বাধ ভেঙ্গে দিচ্ছে। সরকার ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে দিন বদলের সনদে নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন পর্যন্ত আদিবাসীদের দিন বদল হয়নি। সর্বোপরি চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের টালবাহানা প্রতারনার শামিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

খুশী কবীর বলেন, ১৯৭১ সালে পাক বাহিনী এদেশের আপামর জনসাধারনের সাথে যা করেছে তা আজ আমরা এদেশের আদিবাসী জনগণের সাথে করছি। এটি কখনই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সত্যিকারের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে বাংলাদেশকে সাজাতে হলে  এদেশের আদিবাসী মানুষদের অধিকার ও তাদের মানবাধিকার রক্ষা করতে হবে।

 

অধ্যাপক মেসবাহ কামাল বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামকে পরিচালিত করছে সামরিক আমলারা আর সারাদেশকে বেসামরিক আমলারা পরিচালিত করছে। যতদিন এ আমলারা দেশ পরিচালনা করবে ততদিন পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন হবে না বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে আরও বলেন, আমলাদের উপর নির্ভরতা কমিয়ে রাজনৈতিকভাবে দেশকে পরিচালনা করুন। তিনি সংবিধানের ৬ অনুচ্ছেদের সমালোচনা করে বলেন এটি প্রত্যাহার করে এ দেশকে সকলের দেশে পরিনত করতে হবে। সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশনসহ পৃথক মন্ত্রণালয় গঠনেরও দাবি জানান।

 

গৌতম দেওয়ান তার বক্তব্যে বলেন, সরকার শুধু আমাদের বগি দিয়ে বলছে পার্বত্য চুক্তির ৭০ ভাগ সম্পাদিত হয়েছে কিন্তু যেটি দিয়ে গাড়ী চালনা করা যাবে সেই ইঞ্জিন অর্থাৎ চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলোই অবাস্তবায়িত রয়েছে।

 

তিনি আরো বলেন, আমরা পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম আদিবাসীরা আজ ঢাকায় এসে কেন এই ধরনের কর্মসূচ করছি এটা সবাইকে অনুধাবন করতে হবে। আমরা মনে করি পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের অধিকার রক্ষা করতে হলে পার্বত্য চুক্তির পূর্নাঙ্গ বাস্তবায়নের কোন বিকল্প নেই। সরকার চুক্তি বিষয়ে যেসব হিসেব দিচ্ছে তা ভুল এবং তা আমরা মানি না। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদকে সরকারের বিভিন্ন বিভাগ সমন্বয় না করেই একছত্র সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলেও তিন অভিযোগ করেন।  তিনি সমতলের ভূমি কমিশন গঠনসহ আদিবাসী অধিকারের প্রতিশ্রুসমূহ বাস্তবায়নের দাবি জানান।

 

সঞ্জীব দ্রং বলেন, আদিবাসীদের অধিকার পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন সমতলের ভূমি কমিশন গঠন ইত্যাদি বিষয়ে আর সরকারের টালবাহানা করা উচিত হবে না। আজকের এই প্রতীকী কর্মসূচিকে সরকারকে ইতিবাচকভাবে দেখতে হবে। চুক্তি করার সময়ে যেভাবে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়েছিল ঠিক সেই রকম উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

 

রবীন্দ্রনাথ সরেন বলেন, চুক্তি বাস্তবায়ন আদৌ হবে কিনা এই শঙ্কায় এখন মনে জাগে। তা না হলে একটি চুক্তি ১৮ বছরেও  কেন বাস্তবায়ন হবে না। পাহাড়ের আদিবাসী মানুষকে সংখ্যালঘু করে সেখান থেকে বিতাড়িত করার চক্রান্ত চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

 

তিনি আরো বলেন, সরকারী উন্নয়ন প্রকল্পের নামে সারাদেশে আদিবাসী উচ্ছেদ চলছে। সমতলের প্রত্যেক আদিবাসী গ্রামে আজ ভূমি দস্যুরা ঢুকে পড়েছে। যে অবস্থা দাড়িয়েছে তাতে করে আগামী ২০ বছর পরে আদিবাসীদের হাতে এক শতক করেও জমি থাকবে কিনা সন্দেহ আছে। তিনি অবিলম্বে সমতল আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠনসহ সংসদে আদিবাসীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের দাবি জানান।

 

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, শুধু মুখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলে পার পাওয়া যাবে না। ৭২ এর সংবিধানের পূর্নাঙ্গ পুনস্থাপন এবং এদেশের গরীব খেটে খাওয়া শ্রমিক আদিবাসী মানুষের অধিকার প্রদান সম্ভব হলে তবেই মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা দাবি করা যাবে। পার্বত্য চুক্তি বিষয়ে তিনি বলেন, মৌলিক বিষয়গুলো অবাস্তবায়িত রেখে শতাংশের হিসেব দিয়ে আদিবাসী মানুষের সন্তুষ্টি আদায় করা যাবে না।

 

নিরুপা দেওয়ান বলেন, পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন বিলম্বিত হওয়ার কারনে দিন দিন পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ছে। তাই দ্রুত চুক্তির পূর্নাঙ্গ বাস্তবায়ন করে অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়ানোর জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

 

ads
ads
এই বিভাগের সর্বশেষ
আর্কাইভ