• Hillbd newsletter page
  • Hillbd rss page
  • Hillbd twitter page
  • Hillbd facebook page
সর্বশেষ
সারাদেশে অব্যাহত ধর্ষণের ঘটনায় এইচডব্লিউএফের উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ                    রাঙামাটিতে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস পালিত                    রাঙামাটি আইনজীবী সমিতির সভাপতি শাহ আলম ও সম্পাদক শিশুমনি চাকমা নির্বাচিত                    বাঘাইছড়িতে প্রত্যান্ত এলাকা থেকে হাম লক্ষণ নিয়ে এক শিশু হাসপাতালে ভর্তি                    রাঙামাটি ছাত্রদলের কমিটি বাতিলের দাবিতে দলীয় কার্যালয়ে তালা দিলো পদ বঞ্চিতরা                    পিসিপির নেতৃত্বে জিকো ও অন্তর চাকমা                    পার্বত্য সমস্যাকে হালকাভাবে না দেখে গুরুত্বের সহকারে দেখার জন্য আহ্বান উষাতন তালুকদারের                    Expression of Interest(EOI) ASHIKA                    আশিকা বিজ্ঞাপণ                    পাহাড়ে নারীদের অধিকার ও ক্ষমতায়নে লড়াই করছেন সূচরিতা চাকমা                    Request for Quotation (RFQ)                    Hill Flower Vacancy Announcement                    Request for Quotation (RFQ)                    হিলফ্লাওয়ার                    আশিকা টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি                    বিলাইছড়িতে অগ্নিকাণ্ডে ৩টি ঘর পুড়ে ছাই                    Request For Quotation Notice                    ফারুয়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান                    ফারুয়া থানা পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার                    Vendor Enlistment Notice                    জেলা পর্যায়ে আঞ্চলিক পরিষদ ও সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয় সভা                    
 
ads

রাঙামাটিতে আয়োজিত মাল্টি স্টকহোল্ডার ডায়লগ-এর বক্তারা
নারীর প্রতি বৈষম্য দূর ও সহিংসতা প্রতিরোধে সম্মিলিত উদ্যোগের পাাশাপাশি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের দরকার

স্টাফ রিপোর্টার : হিলবিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 04 Nov 2015   Wednesday

পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরের পরবর্তী সময়ে পাহাড়ী নারীর প্রতি সহিংসতা মাত্রা বেড়ে চলেছে এবং সহিংসতার ধরনও পাল্টাচ্ছে। বিশেষভাবে ৯ থেকে ১৬ বছর বয়সী  মেয়ে শিশুরা অধিকহারে আক্রান্ত হচ্ছে। এসব ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর আইন ও নীতিমালা থাকার সত্বেও অপরাধারীরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে যাচ্ছে। মামলার দীর্ঘসূত্রিতা,আইনী প্রক্রিয়ার জটিলতা ও আসামীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ার অন্যতম কারণ।

বুধবার রাঙামাটিতে আয়োজিত আঞ্চলিক পর্যায়ে নারীর সমস্যা বিশ্লেষন-এর উপর মাল্টি স্টকহোল্ডার ডায়লগ-এর বক্তারা এসব কথা বলেন।

বক্তারা আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের নারীর পরিচয় বহুমূখী হওয়ার কারণে নানান ধরনের বৈষম্য ও সহিংসতার  শিকারে পরিণত হচ্ছে। বিশেষ করে নারী হিসেবে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা,আদিবাসী সংখ্যালঘু হিসেবে রাষ্ট্র ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিসেবে সংখ্যাগুরু জাতিসত্বার সদস্য কর্তৃক এ নির্যাতন সহিংসতা ও বৈষম্য শিকার। নারীর প্রতি বৈষম্য দূর ও সহিংসতা প্রতিরোধ করতে হলে নারী-পুরুষের উভয়ের সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ গ্রহনের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আনতে হবে।

শহরের আশিকা হল রুমে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা আনন্দ ও হিমাওয়ান্টির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন  জেলা প্রশাসক মোঃ সামসুল আরেফীন। আনন্দ-এর নির্বাহী পরিচালক মনিরুজ্জামান মিয়ার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় মানবধিকার কমিশনের সদস্য নিরুপা দেওয়ান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন হিমাওয়ান্টির নির্বাহী পরিচালক টুকু তালুকদার। পার্বত্য চট্টগ্রামে নারীর বাস্তবতা ও সমস্যা বিশ্লেষন শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এ্যাডভোকেট সুস্মিতা চাকমা। প্রবন্ধের উপর আলোচনা করেন ইএনডিপি-সিইচডিপি’র জেন্ডার প্রকল্পের টিম লিডার ঝুমা  দেওয়ান, রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাখাওয়াত   হোসেন  রুবেল ও আনন্দ-এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক রাখী মুরং।

দিন ব্যাপী অনুষ্ঠানে  প্রথাগত সামাজিক প্রধান, বিভিন্ন নারী ও এনজিও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকরা অংশ গ্রহন নেন।

এ্যাডভোকেট সুস্মিতা চাকমা তার উপাস্থাপিত প্রবন্ধে বলেন, পাহাড়ী সমাজে নারীরা পরিবারের সমস্ত কাজ করলেও তাদের অবদান ও পরিশ্রম খুব কম মূল্যায়িত হয়।  প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারে নারীরা তাদের প্রথাগত ও লোকজ জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষা করে চলে। অথচ বৈশ্বিক উঞ্চায়নসহ পরিবেশের অবনয়নে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয় পাহাড়ী নারী। কারণ রান্নাবান্না, পানি,জ্বালানী ও তরিতরকারী সংগ্রহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সবকিছুর জন্য পাহাড়ী নারেিক নির্ভর করতে হয় পাহাড় ও বনের উপর। অন্যদিকে পূঁজিবাদের বিকাশের ধারায় পাহাড় নির্ভর জনগোষ্ঠীর জীবিকার উৎস বন,পাহাড় ভূমি ক্রমশ সংকচিত হয়ে আসছে। সেই সাথে বাড়ছে পাহাড়ী নারীর নিরাপত্তার ঝুঁকি। বন পাহাড়ে কাজ করতে গিয়ে প্রায়শই পাহাড়ী নারীর যৌন হয়রানরি শিকারে পরিণত হচ্ছে, কখনওবা নারীকে যৌন নির্যাতন করে নৃশংসভাবে হত্যা করা হচ্ছে।

প্রবন্ধে আরও বলা হয়, নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে পার্বত্য চট্টগ্রামে নারীদের নেতৃত্বে জোরালো ভূমিকা দেকা যায় না। নির্বাচিত বা ঐতিহ্যবাহী কোন প্রতিষ্ঠানে বা সংস্থার নারী প্রতিনিধিত্ব তেমন উল্লেখযোগ্য নয়।  সিদ্ধান্ত গ্রহন প্রক্রিয়ায় নারীর সক্রিয় অংশ গ্রহন নেই। আঞ্চলিক পরিষদ,  জেলা পরিষদ এবং উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদগুলাতেও নারীর জন্য সংরক্ষিত আসন ছাড়া সাধারন পদগুলোতে নারীর প্রতিনিদিত্বতেমন পরিলক্ষিত হয় না।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোঃ সামসুল আরেফীন বলেন, নারীদের যদি উন্নয়ন না হয় তাহলে কোন রাষ্ট্রের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তবে এক্ষেত্রে নারী পুরুষের সন্মিলিত উন্নয়নের পাশাপাশি পারিবারিক উন্নয়ন ঘটাতে হবে। নারীদের সব দিক দিয়ে অংশ গ্রহন বাড়াতে হবে।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের নারীরা অনেক পরিশ্রমী। তারা জুম থেকে সব কিছুতেই অগ্রনী ভূমিকা পালন করে থাকেন। তারা পরিবারের জন্য বেশী কষ্ট করে থাকেন। তাদের সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসা দরকার। বিশেষ করে শিক্ষা ব্যবস্থায় এগিয়ে আসতে হবে। তাদের সচেতনা করতে হবে। নারীরা সম্পত্তির উত্তোরাধিকার থেকে বঞ্চিত। প্রয়োজনে তাদের জন্য আইন করা  যেতে পারে।

তিনি নারীদের উন্নয়নের জন্য ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে বলে উল্লেখ করে বলেন, বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে নারীরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। তাদের শিক্ষায় এগিয়ে নিয়ে সচেতনা করতে হবে। এক্ষেত্রে তিনি প্রাইমারী শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্ত করে গড়ে তুলতে গুরুত্বর দেয়ার জন্য তাগিদ দেন।

--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

ads
ads
আর্কাইভ