• Hillbd newsletter page
  • Hillbd rss page
  • Hillbd twitter page
  • Hillbd facebook page
সর্বশেষ
বিলাইছড়িতে অগ্নিকাণ্ডে ৩টি ঘর পুড়ে ছাই                    Request For Quotation Notice                    ফারুয়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান                    ফারুয়া থানা পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার                    Vendor Enlistment Notice                    জেলা পর্যায়ে আঞ্চলিক পরিষদ ও সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয় সভা                    দরপত্র বিজ্ঞপ্তি                    রাঙামাটিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপিত                    বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রইফের সমাধিতে বিজিবির মহাপরিচালকের পক্ষ থেকে পুষ্পমাল্য অর্পন                    রাঙামাটিতে টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের আত্মপ্রকাশ                    পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে বৃহত্তর আন্দোলনে সামিল হওয়ার আহবান                    আগামী ক্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জেএসএস অংশ নিচ্ছে                    রাঙামাটিতে মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট ও ডিপ্লোমা ফার্মামিষ্টদের কর্মবিরতি পালন                    ৯৯নং রাঙামাটি আসনের বিএনপির প্রার্থী দীপেন দেওয়ানের মতবিনিময় সভা                    নবাগত জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময়                    শিক্ষক নিয়োগে কোটা বৈষম্যের প্রতিবাদে রাঙামাটিতে বৃহস্পতিবার থেকে ৩৬ ঘন্টার হরতাল                    তরুণ কবি ম্যাকলিন চাকমার একগুচ্ছ কবিতা                    সাজেকে মোবাইল নেটওয়ার্ক ফের চালুতে স্বস্তি                    চ্যাম্পিয়ন বিলাইছড়ি রাইংখ্যং একাদশ                    ফেন্সি স্কিন কেয়ার প্রোডাক্টস’র রাঙামাটিতে গ্র্যান্ড ওপেনিং                    বিলাইছড়িতে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর উদযাপিত                    
 
ads

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ৪০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী
পাহাড়ের ক্ষুদ্র জাতিসত্বাদের জন্য পৃথক আইন ও জাতীয় কমিশন গঠন করা দরকার

স্টাফ রিপোর্টার : হিলবিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 14 Jan 2016   Thursday

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপি পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তিকে আরও কার্যকর করতে হলে ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী,ক্ষুদ্র জাতিসত্বাদের জন্য একটি আইন এবং তার অধীনে একটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জাতীয় কমিশন গঠন করা দরকার বলে মন্তব্য করেছেন।

 

তিনি বলেন, এই আইন ও কমিশন গঠিত হলে এ অঞ্চলে স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে। পাশাপাশি ওই কমিশন পাহাড়ী জনগনের অংশ গ্রহন নিশ্চিত এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্যকে রক্ষা ও এই আইন দ্বারা রাষ্ট্র বা সরকার পরিচালিত হবে।


তিনি আরও বলেন,খালেদা জিয়া ও তার মদদপুষ্ট জঙ্গীবাদী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীরা পার্বত্য চুক্তিকে বানচাল করতে চায়। তারা পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক সংঘাত সৃষ্ঠি করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এই সাম্প্রদায়িক শক্তিকে রুখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারকে সহযোগিতা দিতে পার্বত্য চুক্তির পক্ষে পাহাড়ী সম্প্রদায়ের সমর্সথন ও সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

 

তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি কার্যকর করতে সংলাপের মাধ্যমে সকল প্রকার বিরোধ মেটাতে উদ্যোগ নিতে প্রধানমন্ত্রী ও জনসংহতি সমিতির নেতা সন্তু লারমার প্রতিও তিনি আহবান জানান।


বৃহস্পতিবার রাঙামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ৪০বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নঃ সমস্যা ও সম্ভাবনা বিষয়ক আলোচনাসভা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।


তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি একটি রাষ্ট্রীয় চুক্তি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়া পার্বত্য চুক্তির ফলে বাংলাদেশকে ধ্বংস করে দেবেসহ অনেক কথা বললেও তিনি কিন্তু এই চুক্তি বাতিল করতে পারেননি। এমনকি মঈন উদ্দীন ও ফখরুদ্দীন আমলে এ চুক্তিতে হাত দিতে পারেননি।

 

সুতরাং এ চুক্তি বাংলাদেশকে ধ্বংস করেনি, বরং এ চুক্তি বাংলাদেশকে শান্তি দিয়েছে। এ চুক্তিতে কেউই হাত দিতে পারবে না। এ চুক্তি থাকবে এবং চুক্তির ছাতার ছায়া তলে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে।


পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয় চত্বরে অনুষ্ঠিত অনূষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি, পার্বত্য মন্ত্রনালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি,খাগড়াছড়ির সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, তিন পার্বত্যজেলা সংরক্ষিত মহিলা সাংসদ ফিরোজা বেগম চিনু, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃৃষকেতু চাকমা, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী।

 

এসময় রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ সানাউল হক, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস-চেয়ারম্যান তরুন কান্তি ঘোষ,জেলা পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসানসহ বোর্ডের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


এর আগে তথ্যমন্ত্রী ৪০ পাউন্ড ওজনের কেক কেটে,বেলুন ও সাদা পায়রা উড়য়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ৪০বছর পূর্তির উদ্ধোধন করেন। এছাড়া সকালের দিকে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুরের নেতৃত্বে রাঙামাটি শহরের নিউমার্কেট এলাকা একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালী প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।

এছাড়া এ উপলক্ষে মাউন্টটে বাইক প্রতিযোগিতা, আতজবাজি ও ফানুস বাতি উড্ডয়ন এবং মনোজ্ঞ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

 

এদিকে, এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর আর্ন্তজাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান সন্তু লারমা বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তারা উপস্থিত ছিলেন না। এছাড়া রাঙামাটি আসনের নির্বাচিত সাংসদ উষাতন তালুকদারের নাম অনুষ্ঠান মঞ্চে ঘোষনা করা হলেও তিনি উপস্থিত ছিলেন না।

 

তথ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, অতীতে পার্বত্য চট্টগ্রামে সংঘাতময় ছিল। ১৯৯৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চুক্তির মাধ্যমে শান্তির ছাতা মেলে ধরেছেন। কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরের দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হয়েছে। তাই প্রশ্ন হচ্ছে আপনি সেই শান্তির ছাতা খোলা রাখবেন, নাকি শান্তির ছাতা গুটিয়ে রাখবেন? তবে আপনি আপনার সন্তান-সন্তানাদির কথা ভাবেন, বাংলাদেশের কথা ভাবেন তাহলে শান্তির ছাতাটা খুলে রাখতে হবে। এ শান্তির ছাতা ছায়ার তলে পার্বত্য চট্টগ্রামে কিভাবে উন্নয়নে নিয়ে যেতে হবে সেই বুদ্ধি বের করতে হবে।


তথ্যমন্ত্রী হাসানুল বলেন, বাংলাদেশ কেবল বাঙালীদের আবাসস্থল নয়, এই ভুখন্ডে অন্যান্য সম্প্রদায়ের বসবাস রয়েছে,স্বাধীনতা যুদ্বে আমরা সবাই মিলে এদেশ স্বাধীন করেছি কাজেই আমরা সবাই এদেশের নাগরিক ।তিনি বলেন এই পৃথিবীতে পাঁচ হাজারের মত বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করে , ছয়শত ভাষাভাষী মানুষ আছে এটা নতুন খবর নয়, আমাদের বাংলাদেশে বাঙ্গালী ছাড়াও ৬৫ থেকে ৭১টি জাতি গোষ্ঠী বিভিন্ন ধর্মের, বিভিন্ন ভাষায় কথা বলে ।

তিনি বলেন গণতন্ত্র হচ্ছে এমন একটা দর্শন নিজেকে নিজে শাসন করাই হল স্বপ্নের স্বাদ, গণতন্ত্র কখনোই অন্যর উপর হস্তক্ষেপ করার মন্ত্র নয়, গণতন্ত্র কোন পুরুষের পকেটে রাখা মানিব্যাগ নয় বা কোন নারীর শাড়ীর আচঁলে রাখা চাবি নয়, গণতন্ত্র হচ্ছে নিজেকে নিজে শাসন করা। কাজেই সেই স্বপ্ন বাঙ্গালীর যেমন আছে তেমনি একজন পাহাড়ীর থাকতে পারে, আর সেই স্বপ্নের মর্যাদা সংবিধান দিয়েছে ।


মন্ত্রী আরও বলেন, পার্বত্য এলাকার মাত্র ৫হাজার ৯০ বর্গমাইল, এখানে মাত্র ৭৬ হাজার একর ফসলি জমি  রয়েছে। কাপ্তাই বাধের কারনে ৫৪ হাজার একর জমি পানির নিচে তলিযে যায়। সুতরাং অনেকে বলে এই এলাকায় অনেক জমি রয়েছে, এখানে বসতি করতে হবে । কথাটি ঠিক নয়, নতুন বসতি স্থাপন করার চাপ এই পার্বত্য চট্টগ্রাম নিতে পারবে না, এটা সমাধান নয় ,বাড়তি জনসংখ্যার চাপ পার্বত্য চট্টগ্রাম নিতে পারবে না পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাবে। এখানে তিন ধরনের মালিকানা আছে বন্দোবস্তকৃত মালিকানাধীন ধান্য জমি,ভোগ দখলীয় জমি এবং জুম চাষ প্রথাগত মালিকানা, এই মালিকানা বৈশিষ্ট্য সমতলে নেই ।


তিনি বলেন,পর্যটন শিল্প এখানে গড়ে তোলা যায়, তবে সেটা হতে হবে এখানকার মানুষের মতামত নিয়ে। তবে এ বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য দরকার সংলাপ। তিনি সংলাপের মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করার জন্য আহব্বান জানান ।


বিশেষ অতিথি বক্তব্যে পাবর্ত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি বলেন,অভিমান অভিযোগ করে আমরা অনেক সময় নষ্ট করেছি, আর নয় আসুন সবাই মিলে কাজ করে দেশকে এগিয়ে যায়।

 

তিনি আরও বলেন গ্রামে এখনো অনেক মানুষ রেডিও  ও টেলিভিশনের মাধ্যমে খবর শুনে। তাই খাগড়াছড়িতে রেডিও ষ্টেশন ও টেলিভিশনের সম্প্রসারন কেন্দ্র স্থাপনের দাবী জানান ।


বিশেষ অতিথি বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চোধুরী এমপি বলেন, শান্তি চুক্তি একেবারে বিফলে যায়নি, কেউ যদি বলে থাকে কোন কাজ হয়নি, তাহলে আমি দ্বিমত পোষন করবো। এ সরকারের সময়ে শান্তি চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

ads
ads
আর্কাইভ