• Hillbd newsletter page
  • Hillbd rss page
  • Hillbd twitter page
  • Hillbd facebook page
সর্বশেষ
উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও সরকারি চাকুরিতে কোটা পুর্নবহালের দাবিতে রাঙামাটিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ                    বিলাইছড়িতে মিডওয়াইফ ও নার্সিং প্রশিক্ষণ সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণ                    রাঙামাটি চ্যাম্পিয়ন লিগ ফুটবলে বিলাইছড়ি উপজেলা দলের শিরোপা লাভ                    Hill Flower Tender Notice                    রাঙামাটিতে এআই,ফ্যাক্ট চেকিং ও সাংবাদিক সুরক্ষা বিষয়ক তিনদিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা                    দুর্যোগে অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে সামর্থ্যবান ও প্রতিষ্ঠানকে আহ্বান-দীপন তালুকদার দীপু                    বিলাইছড়িতে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত                    বিলাইছড়িতে নতুন ইউএনও হিসেবে অভি দাশ এর যোগদান                    বিলাইছড়িতে ইউএনওদের বিদায় ও বরণ অনুষ্ঠান                    বিলাইছড়িতে সেনা জোন কর্তৃক মিডওয়াইফ নার্সিং প্রশিক্ষণ                    বিলাইছড়িতে বিএনপি`র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন                    রাঙামাটিতে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত                    তিন ফুট খুলে দিয়ে কাপ্তাই বাঁধের পানির চাপ কমানো হচ্ছে                    বিলাইছড়িতে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উদ্বোধন                    বিলািইছড়িতে আশিকা’র প্রকল্প অবহিতকরণ সভা                    রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সংবর্ধনা                    পুনঃ দরপত্র আহ্বান বিজ্ঞপ্তি (CRLIWM-CHT,WSM)                    Request for Re-Quotation-ASHIKA                    তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের নতুন অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ গঠিত                    AULSM CHTBD Project দরপত্র বিজ্ঞপ্তি                    আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানালে বিছিন্নবাদী বলে তকমা দেওয়া হচ্ছে                    
 
ads

খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে ধূমনীঘাট তীর্থস্থানে অসামাজিক কার্যকলাপ, স্থানীয়দের ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক : হিলবিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 28 Aug 2021   Saturday

পার্বত্য জেলা  খাগড়াছড়ির মহালছড়ি-রাঙ্গামাটি মহাসড়কের পশ্চিম বরাবর প্রায় ৫কিঃমিঃ দূরে ধূমনীঘাট গ্রামের অবস্থান। ধূমনীঘাট ত্রিপুরা অধ্যুষিত একটি প্রাচীন গ্রাম। ৯৭টি পরিবার নিয়ে ধূমনীঘাট গ্রাম গঠিত। চারিদিকে ছোট বড় পাহাড় পর্বত বেষ্টিত। এরই ফাঁকে ফাঁকে ঘরবাড়ি।

ধূমনীঘাট এলাকায় মূল আকর্ষণীয় স্থান ধূমনীঘাট তীর্থক্ষেত্র। প্রতিবছর চৈত্র মাসের মহাবারুণী স্নান তিথি লগ্নে এখানে ৩দিন ব্যাপী তীর্থ মেলা বসে। পূণ্য স্থানের জন্য শতশত ধর্মপ্রাণ মানুষ এখানে জমায়েত হয়। কিন্তু সে পবিত্র তীর্থ স্থানে চলে মদের আসর, অশ্লীল নাচ-গান। যা ধর্মীয় রীতিতে কখনো কাম্য নয়।

শুক্রবার (২৭আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রায় হাজার খানিক লোক সমাগম হয়েছে। তীর্থস্থানে পবিত্র রক্ষা করার কথা থাকলেও অধিকাংশকে দেখা যায়, সেখানে গিয়ে বিভিন্ন অসামাজিক কার্যক্রম করতে। যা ধর্মীয় রীতিতে আঘাত দিয়েছে। সেখানে চলে মদের আসর, অশ্লীল গানের নাচ গান। এসব কার্যক্রম ব্যাপারে স্থানীয়রা কয়েকবার বাধা দিলেও উল্টা হামলা করতে চায় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

 

স্থানীয়রা জানান, ধূমনীঘাট শিলাময় তীর্থক্ষেত্রে রয়েছে চাখৈ পখাই, পিন্ড হাকর বাতি বুখুরোক, রামনি য়াপাই। চাখৈ পখাই কুন্ডে মানুষ স্থান করে। পিন্ড হাকরে পুষ্পসহকারে পিন্ডদান করে থাকে। চাখৈ পখাই অগভীর একটি জল কুন্ডু। বুদ বুদ গ্যাস নির্গত হওয়ার কারণে ম্যাচ জ্বালিয়ে দিলে আগুন জ্বলে। কথিত আছে, অতীতে ধূমনীঘাট তীর্থক্ষেত্রে অমাবস্যা ও পূর্ণিমা রাতে বাদ্য যন্ত্রের বাজনা শোনা যেত। অভাবের কারণে টাকা পয়সা ধার চাইলে নাকি ধার পাওয়া যেত। আরও জানা যায়, কখনও কখনও তীর্থস্থানটি থেকে আলো বিচ্ছরিত হয়ে চারিদিক আলোকিত হতো। অনেকে মনে করেন, প্রাকৃতিক গ্যাস নির্গত হওয়ার কারণে এমনটি হয়ে থাকে। সে যাই হোক, প্রাকৃতিকগত কিছু রহস্যের কারণে তীর্থস্থানটি সাধারণ মানুষের বিশ্বাস মহাবারুণী তিথিতে তীর্থক্ষেত্রে স্থান আহ্নিকাদি করলে পূণ্য হয়, পাপনাশ হয় এবং অভিষ্ট সিদ্ধি হয়। এই কারণে ধূমনীঘাট তীথ ক্ষেত্রে মানুষ পূণ্যার্জনের জন্য জমায়েত হয়।

 

স্থানীয় মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক তপন জয় ত্রিপুরা বলেন, কয়েকবছর যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল না। বর্তমানে রাস্তাঘাট উন্নয়ন হয়েছে।  কিন্তু রাস্তাঘাট উন্নয়ন হয়েছে দেখে ধূমনীঘাট তীর্থ স্থানে অনেক পর্যটকরা ছুটে এসে। তাতে আমাদের কোন সমস্যা নেই। ইদানিং লক্ষ্য করলাম, তীর্থ স্থানে এসে খোলামেলা ভাবে অনেকেই সাউন্ড বক্সে অশ্লীল গান লাগিয়ে নাচানাচি, হুই-হুলুট এমনকি মদের আসরও হয়।

 

এ ব্যাপারে ত্রিপুরা সনাতনী গীতা সংঘের মহালছড়ি উপজেলা শাখার সভাপতি নকুল চন্দ্র ত্রিপুরা জানান, রাস্তাঘাট উন্নয়ন হয়েছে দেখে পর্যটকরা ছুটে আসে আমাদের এখানে। কিন্তু পর্যটকরা যে হারে এখানে এসে সাউন্ড বক্সে অশ্লীল গান লাগিয়ে মদ-গাঁজা খেয়ে নাচানাচি করে তা পবিত্রতা নষ্ট করছে। এসব কার্যক্রমে তারা ধর্মীয় ভাবে আঘাত দিয়েছে। এ বিষয় নিয়ে আমরা স্থানীয়রা বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কি করা যায়। প্রয়োজনে পর্যটকদের ঢুকতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

 

বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের মহালছড়ি উপজেলা শাখার সভাপতি ও ধূমনীঘাট কার্বারী কর্মচান ত্রিপুরা বলেন, ধূমনীঘাট বারুণী স্থান একটি সনাতনীদের জন্য পবিত্র তীর্থক্ষেত্র, পর্যটন নয়। গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় সর্বপ্রথম তীর্থ পরিচালনা ও তত্বাবধান করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলাম আমি। কিন্তু ইদানিং লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, তীর্থের ক্ষেত্রে পবিত্রতা বজায় না রেখে চলে মদের আসর, সাউন্ড বক্স চালিয়ে অশ্লিল নাচ-গান। যা ধর্মীয়ভাবে আঘাত দিয়েছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনকে অবগত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান তিনি। এছাড়াও তিনি  প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।



ads
ads
আর্কাইভ