• Hillbd newsletter page
  • Hillbd rss page
  • Hillbd twitter page
  • Hillbd facebook page
সর্বশেষ
দেশ থেকে অশুভ শক্তি বিনাশে সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান-বৃষ কেতু চাকমা                    বুধবার থেকে রাঙামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগ শুরু                    রাঙামাটিতে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত                    বরকল ও জুরাইছড়িতে ৫ দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই, চরম দুর্ভোগ                    রাঙামাটিতে বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস পালিত                    মহালছড়িতে গাঁজাসহ ১ যুবককে আটক                    খাগড়াছড়িতে গৃহবধূ হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদন্ড                    খাগড়াছড়িতে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস দিবস পালিত                    নির্বাচন নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র করছে পরাজিত শক্তি                    পানছড়িতে পুরাতন ইউএনওকে বিদায় সংবর্ধনা ও নবাগতকে ইউএনওকে বরণ                    কাউখালী বিআরডিবি সমিতি নির্বাচন পরিচালনায় সভাপতির বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ, দুজনের পদত্যাগ                    পরিষদ চেয়ারম্যানের সাথে রাঙামাটি সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি’র সৌজন্য সাক্ষাত                    কাপ্তাইয়ে তিন দিনে রাম পাহাড় বনাঞ্চল থেকে কয়েক লাখ টাকার গাছ পাচারের অভিযোগ                    রাঙামাটিতে সরকারি ৪র্থ শ্রেণি কর্মচারি সমিতির নবনির্বাচিত কমিটি থেকে জেলা প্রশাসককে ফুলেল শুভেচ্ছা                    রাঙামাটিতে আন্ত:স্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতায় লেকার্স স্কুল চ্যাম্পিয়ন                    পার্বত্য চুক্তির ফলে পাহাড়ে অর্থনীতি ও সংস্কৃতি বিকাশে নবরযুগের সঞ্চার ঘটেছে বিদায়ী পানছড়ি ইউএনও                    স্যালভেশনের উদ্যোগে রাঙামাটি কলেজে ‘ক্লীন ক্যাম্পাস, গ্রীন ক্যাম্পাস’ অভিযান শুরু                    জুরাছড়িতে দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত                    বাঘাইছড়িতে ছাত্রদলের প্রতিবাদ সভা                    বিলাইছড়িতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত                    বিলাইছড়িতে ফ্যাশন ডিজাইনের উপর প্রশিক্ষণ সমাপ্ত                    
 

রাঙামাটিতে সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে
তিন পার্বত্য জেলায় প্রচলিত আইনে অসঙ্গতি ও অসম্পূর্ণতা থাকলে জনস্বার্থে নিরসন হওয়া দরকার-বিচারপতি নিজামুল হক

স্টাফ রিপোর্টার : হিলবিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 03 Jun 2016   Friday

তিন পার্বত্য জেলায় সুষ্ঠু বিচার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রচলিত আইনে যদি কোনো অসঙ্গতি ও অসম্পূর্ণতা থেকে থাকে জনস্বার্থে সেগুলো নিরসন হওয়া দরকার। এতে করে এ অঞ্চলের মানুষের আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ সঠিক বিচার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মো: নিজামুল হক।

 

তিনি বলেন, সম্প্রতি এক মামলায় পার্বত্য চট্টগ্রামের বিচার ব্যবস্থার ওপর ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ দিয়ে উচ্চ আদালত একটি রায় প্রদান করেছেন। ওই রায়ে দেয়া ব্যাখ্যায় দেশে যত আইন প্রচলিত সেগুলোর সব আইন পার্বত্য চট্টগ্রামের বেলায় প্রযোজ্য নয়। মূলত সেখানে প্রচলিত প্রথাগত আইন ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধির অনুসরণে সেখানকার বিচারকার্য পরিচালিত হয়ে থাকে। ওই আইনে পার্বত্য তিন জেলায় পারিবারিক আদালতের বিরোধ নিস্পত্তি করে থাকেন মৌজা ও সার্কেল চীফরা।

 

শুক্রবার রাঙামাটিতে অনুষ্ঠিত তিন পার্বত্য জেলায় দেওয়ানী বিচার ব্যবস্থায় বিদ্যমান অসঙ্গতি ও অস্পষ্টতা এবং সেগুলো নিরসনের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক সেমিনারে  প্রধান অতিথির বক্তব্যে  তিনি এসব কথা বলেন।

 

রাঙামাটি জেলা আইনজিিব সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সম্মেলন  দিন ব্যাপী সেমিনারে সন্মানিত অথিথি ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা(সন্তু লারমা), চাকমা সার্কেল চিফ রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়, জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার পরিচালক মালিক আবদুল্লাহ আল-আমিন।

 

রাঙামাটি জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট প্রতীম রায়ের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ মো. কাউসার, বান্দরবানের জেলা ও দায়রা জজ মো. শফিকুর রহমান, রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিন, বাংলাদেশ লিগ্যাল অ্যাইড অ্যান্ড ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) পরিচালক ইদ্রিসুর রহমান, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সিনিয়র কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান তন্ময়, আইনজীবী মোক্তার আহমদ, অ্যাডভোকেট জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা, বান্দরবানের পিপি ড. মহিউদ্দিনসহ স্থানীয় আইনজীবী, গবেষক, রাজনৈতিক, আইন, শাসন ও বিচার বিভাগীয় পদস্থ কর্মকর্তা ও প্রথাগত নেতৃবৃন্দ।

 

সেনিমারে বক্তারা পার্বত্য তিন জেলায় সুষ্ঠু বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রচলিত আইনে বিদ্যমান অসঙ্গতি, অস্পষ্ট ও অসম্পূর্ণ বিষয়গুলো সংশোধনের প্রস্তাবনা  দেন। পাশাপশি বক্তারা  ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধিসহ অন্যান্য প্রচলিত আইনে অসঙ্গতি, অস্পষ্টতা, অসম্পূর্ণতা ও সাংঘর্ষিক ধারা বিদ্যমান।

 

এছাড়া তিন পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে দেওয়ানী বিচার ব্যবস্থায় অসঙ্গতি ও অসম্পূর্ণতার কারণে ওই তিনটি পার্বত্য জেলায় বিচার ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। সুষ্ঠু বিচারপ্রাপ্তি নিয়ে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন তিন জেলার জনগণ। সেগুলো দূরীকরণে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত সর্বশেষ পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির শর্তে প্রণীত আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ করে বিদ্যমান আইনি জটিলতা নিরসন করতে প্রয়োজনীয় আইনগুলোর সংশোধনের তাগিদ দেন বক্তারা।

 

সন্মানিত অতিথির বক্তব্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের আদিবাসীসহ সেখানকার জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন ছাড়া কোনো উপায় নেই। পার্বত্য শান্তি চুক্তি পূর্ণাঙ্গ রুপে বাস্তবায়িত হলেই এ অঞ্চলের সব সমস্যা ও জটিলতা নিরসন হয়ে যাবে।

 

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বেলায় রাষ্ট্রের এমন কিছু করা উচিত হবে না- যাতে করে সেখানে কোনোভাবেই সম্প্রীতি ক্ষুন্ন হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে যা কিছু পদক্ষেপ নেয়া হবে সেখানে আদিবাসী মানুষের স্বার্থরক্ষাসহ তাদের মর্যাদা অক্ষুন্ন রেখেই অগ্রসর হতে হবে। সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে রাষ্ট্রকে।

 

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান সন্তু লারমা তার বক্তব্যে বলেন, আইন, বিচার, শাসনতান্ত্রিক ও ভূমি ব্যবস্থাপনাসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে যেসব সমস্যা ও জটিলতা বিরাজমান সেগুলো পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণেই নিরসন হচ্ছে না। পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন হলে বিচারিক ব্যবস্থাসহ বিদ্যমান সবগুলো জটিলতার সুরাহা হয়ে যাবে।

 

তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, প্রশাসনিক ক্ষেত্রে তিন পার্বত্য জেলার ডিসিরা তিন ধরনের কাজ করে থাকেন। এছাড়া এখানে সেনা উত্তরণের নামে রয়েছে সেনাশাসনের উপস্থিতি। পার্বত্যাঞ্চলে সার্বিক ক্ষেত্রে শাসক ও শোসিতের মধ্যে যে দূরত্ব বজায় রয়েছে তা দূর করতে পার্বত্য চুক্তির আলোকে প্রণীত আইনগুলো কার্যকর হতে হবে।

 

চাকমা সার্কেল চিফ রাজা ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায় বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদ্যমান আইনে যেসব অসঙ্গতি রয়েছে সেগুলো চিহ্নিত করে সংশোধনসহ আইন প্রণয়নের জন্য সুপারিশ পেশ করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির আইনে সেগুলোর কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারের কাছে উপস্থাপন করতে হবে।

--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর. 

এই বিভাগের সর্বশেষ
আর্কাইভ