• Hillbd newsletter page
  • Hillbd rss page
  • Hillbd twitter page
  • Hillbd facebook page
সর্বশেষ
রাঙামাটিতে পাহাড়ের ঢালে সবজি চাষের পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ হচ্ছে                    কাপ্তাইয়ের ওয়াগ্গাছড়ায় বধ্যভূমি চিহ্নিত করার দাবী শহীদ পরিবারের                    নানিয়ারচরে দুর্বৃত্তদের ব্রাশ ফায়ারে ইউপিডিএফের নেতা নিহত                    জেলেদের জালে ধরা পড়া অজগরটি কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত।                    পার্বত্য সমস্যা কোন অর্থনৈতিক নয় রাজনৈতিক সমস্যা-উষাতন তালুকদার                    বিলাইছড়িতে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৫ তম বর্ষপূর্তি পালন                    কেউ অশান্তি সৃষ্টি করলে এক বিন্দুও ছাড় দেওয়া হবে না-লেঃ কর্ণেল নূর উল্লাহ                    পার্বত্য চুক্তির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাঘাইছড়িতে গণ সমাবেশ                    বিলাইছড়িতে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত                    পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ২৫ তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শান্তি র‌্যালী                    বিটিআরসি’র থেকে ২৮টি পাড়া কেন্দ্রে ডিজিটাল ক্লাসরুম উপকরণ বিতরণ                    রাজস্থলীতে লিগ্যাল এইডের সমন্বয় সভা ও মীমাংসা বৈঠক                    রাঙামাটিতে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষনের মামলায় প্রধান শিক্ষককের যাবজ্জীবন                    কাপ্তাই বিএন স্কুল এন্ড কলেজ এসএসতিতে এবারও শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখলো                    এসএসসিতে রাঙামাটিতে জিপিএ-৫ বৃদ্ধি পেলেও পাশের সংখ্যা কমেছে                    বিলাইছড়িতে এবারও এসএসসিতে এগিয়ে ফারুয়া উচ্চ বিদ্যালয়, পাশের হার ৯৪.৫৫শতাংশ                    চুক্তি বাস্তবায়নে রোডম্যাপ ঘোষনার দাবীতে রাঙামাটিতে পিসিপির বিক্ষোভ-সমাবেশ                    রাঙামাটি হাসপাতালে অস্বাভাবিক বড় মাথা নিয়ে নবজাতকের জন্ম                    আওয়ামীলীগকে নিশ্চিহৃ করতে চায় আঞ্চলিক দলগুলো-দীপংকর তালুকদারএমপি                    কাউখালীতে সেনাবাহিনীর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পিং                    রাঙামাটি জেলা উন্নয়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত                    
 
ads

মহান বিপ্লবী নেতা এমএন লারমার আজ ৩৯তম মৃত্যু বার্ষিকী

বিশেষ রিপোটার : হিলবিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 10 Nov 2022   Thursday

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির প্রতিষ্ঠাতা, গণ পরিষদ ও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদের সদস্য মানবেন্দ্র নারায়ন লারমার(এমএন লারমা) আজ বৃহস্পতিবার ৩৯তম মৃত্যু বার্ষিকী। এ উপলক্ষে রাঙামাটিসহ তিন পার্বত্য জেলায় বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহন করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি।  


পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি জেলা শাখার উদ্যোগে এমএন লারমা মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে রাঙামাটিতে কর্মসূচির আয়োজন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে  সকালের দিকে শহরের বনরুপা পেট্রোল পাম্প চত্বর থেকে জেলা শিল্পকলা একাডেমী চত্বর পর্ষন্ত নগ্ন পায়ে শোক র‌্যালী, শিল্পকলা একাডেমী চত্বরে স্থাপিত শহীদ বেদীতে পুষ্পমাল্য অর্পন, শোক সভা, সন্ধ্যায় শহীদ বেদীতে প্রদীপ প্রজ্জলন ও ফানুস বাতি উড়ানো। এছাড়া বিভিন্ন উপজেলায় এমএন লারমার মৃত্যু বার্ষিকী পালিত হবে।


এমএন লারমার জীবন ও সংগ্রাম(১৯৩৯-১৯৮৩)
১৯৮৩ সালের ১০ নভেম্বর জনসংহতি সমিতির বিভেদপন্থী গ্রুপের বিশ্বাসঘাতকতামূলক সশস্ত্র হামলায় তিনি আটজন সহযোদ্ধাসহ খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ির গভীর জঙ্গলের এক গোপন আস্তানায় নির্মমভাবে শাহদাৎ বরণ করেন।


১৯৩৯ সারে ১৫ সেপ্টেম্বর মাসে রাঙামাটি শহর থেকে ১২ দূরে অবস্থিত মহাপ্রুম নামক স্থানে(বর্তমানে কাপ্তাই বাধেঁর কারণে বিলুপ্ত) মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা চিত্ত কিশোর লারমা, মাতা শুভাষিনী দেওয়ান। এমএন লারমারা তিন ভাই ও এক বোন। সবার বড় বোন জ্যোতি প্রভা লারমা(মিনু) একজন সমাজকর্মী। বড় ভাই শুভেন্দু লারমা(বুলু) ছিলেন একজন সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী, দক্ষ সংগঠক ও বিপ্লবী। তিনিও ৮৩’ সালের ১০ নভেম্বর সেই কালো রাত্রিতে এমএন লারমার সাথে  শহীদ হন। সব চেয়ে ছোট ভাই বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা(সন্তু লারমা)।


শহীদ এমএন লারমা ১৯৫৮ সালে রাঙামাটি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক, চট্টগ্রাম সরকারী কলেজ থেকে ১৯৬০ সালে আইএ পাস এবং একই কলেজ থেকে ১৯৬৫ সালে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। ১৯৬৯ সালে তিনি এলএলবি পাশ করার পর তিনি চট্টগ্রাম বার কাউন্সিলে যোগদান করেন। ওই বছরই ১৮ জুন তিনি পার্বত্য ছাত্র সমিতি নামে একটি সংগঠন গঠন করেন এবং সর্ব প্রথম পাহাড়ি ছাত্র সন্মেলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হন।


১৯৬০ সাল পাহাড়ী জনগোষ্ঠীদের জন্য এলো এক বিভাষিকাময় বছর। সে সময় তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে কাপ্তাই জল বিদ্যূৎ প্রকল্প বিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলেন। পাকিস্তান সরকার ১৯৬৩ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারী রাষ্ট্রদ্রোহিতা অভিযোগ এনে তাঁেক গ্রেফতার করে এবং প্রায় দুবছর জেলে রাখার পর ১৯৬৫ সালে তাঁকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।


১৯৭০ সালে এমএন লারমা কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হন এবং একই বছর পাকিস্তান প্রদেশিক পরিষদে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭২ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারী পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি গঠিত হয় এবং তিনি সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন। পরে তিনি সমিতির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন। ১৯৭৩ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে বিপুল ভোটে জয়ী হন। ১৯৭৪ সালে পার্লামেন্টারি প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে তিনি লন্ডন সফর করেন। জুম্ম তথা পাহাড়ী জনগোষ্ঠীদের জনগনের আত্ননিয়ন্ত্রনাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রথম থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন পরিচালনা করে আসছিল। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তৎকালীন সময়ে সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন থেকে সরে গিয়ে আত্নগোপণ করেন এমএন লারমা এবং তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম আদিবাসী জনগণের আত্ননিয়ন্ত্রনাধিকার আদায়ের লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সামরিক উইনিং ‘শান্তি বাহিনী, নামে সশস্ত্র আন্দোলন শুরু করেন। ১৯৭৬ সালের দিকে পার্বত্য চট্টগ্রমে ‘শান্তি বাহিনীর, সামরিক তৎপরতা শুরু হয়। সামরিক তৎপরতা দ্রুত সম্প্রসারিত হয় যা ১৯৮০ সালের দিকে বেশী জোরালো হয়ে উঠে। এর পর ১৯৮২ সালে ২৪ জুন জনসংহতি সমিতির দ্বিতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। এ সন্মেলনের পর আদর্শ ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যের কারণে জনসংহতি সমিতি শেষ পর্ষন্ত দ্বিধাবিভক্ত হয় এবং ১৯৮৩ সালের ১৪ জুন সর্ব প্রথম লারমা গ্রুপ (লম্বা)ও প্রীতি গ্রুপ(বাদি) পরস্পর সশস্ত্র যুদ্ধে লিপ্ত হয়। ১৯৮৩ সালে ১০ নভেম্বর বিভেদপন্থী প্রীতি গ্রুপ হামলা চালিয়ে মহান এই সংগ্রামী নেতা এমএন লারমাকে তার আটজন সহযোগীসহ নির্মমভাবে হত্যা করে।


এমএন লারমার মৃত্যু হলে তাঁর কনিষ্ঠ ভ্রাতা বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমার (সন্তু) একনিষ্ঠ দক্ষতা, বলিষ্ঠ নেতৃত্বে জনসংহতি সমিতির আরো বেশী সক্রিয় হয়ে উঠে। তৃতীয় কংগ্রেস সন্মেলনের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি(শান্তি বাহিনী) আবারও শক্তিশালী হয়ে উঠলে ১৯৮৬ ও ৮৯ সাল পর্ষন্ত নব উদ্দীপনায় সংগ্রাম চালালে বাংলাদেশ সরকার জনসংহতি সমিতির সাথে শান্তি বৈঠকে বসতে রাজি হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৭ সালের ২রা  ডিসেম্বর জনসংহতি সমিতির সাথে বাংলাদেশ সরকার এক ঐতিহাসিক ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি সম্পাদিত হয়।

জুম্ম(পাহাড়ী) জাতীয়তাবাদী চেতনার অগ্রদূত এই বিপ্লবী নেতা নতুন প্রজন্মের কাছে  চিন্তা-চেতনায় ও আদর্শবান ব্যক্তি হয়ে চির স্মরনীয় হয়ে  রয়েছেন।  
--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

 

 

 

 

 

 

 

ads
ads
এই বিভাগের সর্বশেষ
আর্কাইভ