• Hillbd newsletter page
  • Hillbd rss page
  • Hillbd twitter page
  • Hillbd facebook page
সর্বশেষ
রাঙামাটিতে করোনায় নতুন করে আরো ৭ জনের পজিটিভ,মোট আক্রান্ত ৬৮ জন                    কাপ্তাইয়ে করোনা উপসর্গ নিয়ে এক মারমা যুবকের মৃত্যু                    রাঙামাটিতে করোনা উপসর্গে এক জনের মৃত্যু, নতুন করে আরো ৩জনসহ মোট আক্রান্ত ৬১ জন                    মহালছড়ির মাইসছড়ি ও ক্যায়াংঘাট ইউপিতে উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা                    চকরিয়ায় এক কিশোরিকে ধর্ষনের অভিযোগ ছাত্রলীগের এক নেতার বিরুদ্ধে                    জুরাছড়িতে সেনা বাহিনীর পক্ষ থেকে দুস্থদের মাঝে সহায়তা প্রদান                    আবারও শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখলো কাপ্তাই নৌ-বাহিনী স্কুল এন্ড কলেজ                    রাঙামাটিতে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৬৪ জন                    সোমবার থেকে রাঙামাটিতে সীমিত আঁকারে চালু হচ্ছে বাস ও লঞ্চ                    রাঙামাটিতে করোনায় প্লাজমা ডোনেট সেল গঠন করেছে স্বপ্নবুনন                    করোনা ভাইরাসের মধ্যে আরেকটি অবৈধ অস্ত্র ভাইরাসের আমরা আক্রান্ত-দীপংকর তালুকদার এমপি                    রাঙামাটির সাপছড়িতে ২৬ পরিবারকে ত্রাণ দিয়েছে কয়েক তরুণ উদ্যোক্তা                    বাঘাইহাটের প্রত্যন্ত এলাকায় খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের খাদ্য সহায়তা প্রদান                    খাগড়াছড়িতে রাজনীতিক খোকনেশ্বর ত্রিপুরা’র মাতৃ বিয়োগে বিভিন্ন মহলের শোক                    রাঙামাটির বন্দুকভাঙ্গায় ৫০ পরিবারকে ত্রাণ দিয়েছে হিলর ভালেদী                    কাপ্তাইয়ে এক আনসার সদস্যের করোনা পজিটিভ                    খাগড়াছড়ির দুই উপজেলায় অসহায়দের পাশে দাড়ালো চাঙমা একাডেমী                    মাসিক প্রতিটি নারী-কিশোরীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের সাথে জড়িত                    করোনা প্রতিরোধে রাঙামাটি রেড ক্রিসেন্টের ৯০ লাখ টাকার নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান                    খাগড়াছড়িতে ২৪ ঘন্টায় সর্বোচ্চ ৯ জন করোনা পজিটিভ, এ পর্ষন্ত সনাক্ত ৩০জন                    সাবেক্ষং-এ বড়পুল পাড়ায় বজ্রপাতে একই পরিবারের আহত ২                    
 

আজ আর্ন্তজাতিক নারী দিবস
পাহাড়ে নারীদের সমঅধিকারে লড়তে হবে

এল,এস : হিলবিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 08 Mar 2020   Sunday

আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। সারাবিশ্বের ন্যায়  পাহাড় ও সমতলে একই সাথে এই দিবসটি পালিত হবে। সমতলে নারীদের সাথে পাহাড়ে জুম্ম নারীদের অধিকারের বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন আঙ্গিকের। কারণ নিজেদের অস্তিত্ব ও সমঅধিকারের জন্য প্রতিনিয়তই সংগ্রামে লড়তে হচ্ছে।

 

১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিবাসীদের পক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি। এই চুক্তির মধ্য দিয়ে আশা জাগরিত হয়েছিল পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার রাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধান হবে। কিন্তু চুক্তির বাইশ বছর পার হলেও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির অধিকাংশ মৌলিক বিষয়ই অবাস্তবায়িত অবস্থায় রয়ে গেছে। পাশাপাশি এই চুক্তির  মধ্য দিয়ে আশার সঞ্চার হয়েছিল জুম্ম নারীদের নিরাপত্তা, সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা পাবে, কিন্তু হয়নি।

 

বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্ব সীমান্তে দেশের এক দশমাংশ জায়গা নিয়ে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান নিয়ে গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম। পাহাড়ের এই তিন জেলায় ১১ ভাষাভাষি  ১৪টি জনগোষ্ঠীর বসবাস। এর মধ্যে চাকমা, মারমা,ত্রিপুরা, তংচংগ্যা,  পাংখোয়া, বম, ম্রো,খিয়াং, লুসাই,চাক,খুমি,গোর্খা,অহমিয়া ও সাওঁতাল রয়েছে। এসব জুম্ম জাতিসত্বাদের রয়েছে নিজস্ব রীতিনীতি, সমাজিক প্রথা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। আদিকাল থেকে পাহাড়ের জুম্ম নারীরা  তাদের নিজ নিজ জাতিসত্বাদের  রীতিনীতি, সমাজিক প্রথা, সংস্কৃতি  লালন পালন করে আসছে। এক কথায় জুম্ম নারীরাই যে যার  সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধারব বাহক তা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। তারপরও নারীরা এই পুরুষ শাসিত সমাজ ব্যবস্থায় অবহেলিত, নির্যাযিত, সমঅধিকার থেকে বঞ্চিত।

 

এছাড়া নারীদের একটা পরিবারকে অর্থনৈতিক সাবলম্বী করাসহ সকল ক্ষেত্রে পুরুষের সাথে সমান সমান ভূমিকা বা অবদান রয়েছে। জুম্ম নারীরা সেই সকাল থেকে রাতে ঘুমারবার আগ পর্ষন্ত জীবনের সবটুকু সময় ব্যয় করে থাকে পরিবারের জন্য।  তারা জঙ্গল থেকে লাগড়ি সংগ্রহ, দুর থেকে পানি আনাসহ পরিবারের অর্থনৈতিক আয়ের জন্য কৃষি কাজ থেকে অন্যান্য  সকল কাজের ক্ষেত্রে পুরুষের সমান সমান কাজ করে থাকে।  পরিবারের জন্য রান্না-বান্না আর সন্তানসন্তুটি লালন পালনতো-ই রয়েছে।  কিন্তু  তারপরও এই পুরুষশাসিত সমাজে পাহাড়ের নারীদের  সমঅধিকার, সম্পত্তি অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে,তারা পিছিয়ে রয়েছে পুরুষের চেয়ে।

 

তবে তার জন্য পুরুষের দৃষ্টি ভঙ্গি ও মন মানসিকতা পরির্বতন ঘটাতে হবে। এ কথা বলা যায়, সমাজের অর্ধেক অংশ নারী, নারী অংশকে অবহেলায় রেখে কোন সমাজ ব্যবস্থা এগিয়ে যেতে পারে না, আর পারবেও না। নারী মা, নারী বোন, নারী কন্যা। "মা" শিক্ষিত হোক বা অশিক্ষিত হোক সন্তানের প্রথম শিক্ষক তার মা-ই।

 

অন্যদিকে, পাহাড়ের জুম্ম নারীরা সর্বক্ষেত্রে অনিরাপদ জীবন যাপন করতে হচ্ছে। সেই ঘর থেকে কর্মক্ষেত্র পর্যন্ত নিরাপত্তাহীনতায় থাকতে হচ্ছে। পাহাড়ে প্রতিনিয়ত জুম্ম নারীরা যৌন নিপীড়ন, নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হচ্ছে। তবে এসব অপরাধের যথাযথ বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা অপরাধ করেও পার পেয়ে যাচ্ছে। এই ক্ষেত্রেও পুরুষদের প্রথমে এগিয়ে আসতে হবে। তা না হলে এই সমাজ ব্যবস্থা থেকে নারীরা এগিয়ে আসবে কিভাবে?

 

পাহাড়ে বসবাসকারী সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর নারীরা প্রতিনিয়ত মানবাধিকার লঙ্ঘন, এবং জাতিগত বৈষম্যের, ভাষাগত লাঞ্চনা, সহিংসতা ও আগ্রাসনে শিকার হতে বাধ্য হচ্ছে।  তবে নারীদের  অনেক অনেক সমস্যা হওয়ার পিছনে বহু কারণ, তার মধ্যে অন্যতম কারণ  হচ্ছে " দৃষ্টিভঙ্গি"। প্রথমে ব্যক্তি, তার পরিবার সমাজ, একজন ব্যক্তি সুন্দর  পরিবার গঠন করে একজন নারী সাহায্য। পুরুষ ও নারী উভয়ের মধ্যে বোঝাপড়া ছাড়া একটি সুন্দর পরিবার গঠন করা অসম্ভব। নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সমাজ ব্যবস্থাকে পাল্টাতে হবে, এই সমাজ ব্যবস্থা থেকে উঠে আসতে হলে নারী-পুরুষ উভয়কে গুরুত্ব দিতে হবে। পুরুষেরা সচেতন হয়ে যদি  নারীদের পাশে দাঁড়াতে পারে, তাহলে সমাজ ব্যবস্থা পরিবর্তন করা সম্ভব।

 

বর্তমান প্রজন্মের প্রতি অনুরোধ আপনারা উঠে আসুন সময়ের বাস্তবতা দাবীতে শিক্ষার পাশাপাশি নিজেদের অধিকারের প্রতি সোচ্চার হয়ে প্রতিবাদ করুন।  আপনার আমার সচেতনার মধ্যে দিয়ে সমাজ ব্যবস্থা পরিবর্তন আনা সম্ভব।

--এল,এস, প্রবন্ধটি লেখকের সম্পূর্ন নিজস্ব মতামত। 

আর্কাইভ