সাধারণ মানুষের সহযোগিতা না পাওয়ায় দেশের সামাজিক অপরাধ কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশ বিভাগের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ শফিকুল ইসলাম বিপিএম। তিনি বলেন জনগণের সাথে পুলিশ বাহিনীর আন্তরিকতাপূর্ণ সম্পর্ক-ই সমাজে অপরাধমূলক কর্মকান্ড নির্মূল করতে পারে অন্যথায় এটা অন্তত্য দূরূহ। তাই পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের বিকল্প নেই। আর সে কারনেই দেশে কমিউনিটি পুলিশিং কর্মকান্ড শুরু হয়েছে
বুধবার রাঙামাটিতে আয়োজিত কমিউনিটি পুলিশিং ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিআইজি এসব কথা বলেন।
রাঙামাটি পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, জেলা প্রশাসক মোঃ সামসুল আরেফিন, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অরুন কান্তি চাকমা, রাঙামাটি চেম্বার অব কমার্স এর সভাপতি মাহবুবুর রহমান, ইউএনডিপি সিএইচটিডিএফ এর উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রসেনজিত চাকমা, এডভোকেট সুস্মিতা চাকমা প্রমুখ। অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সাথে জড়িত বিভিন্নজনের হাতে ছাতা-টর্চ ও মোবাইল সেট তুলে দেন।
স্বাধীনতার ৪০ বছর পর এসে পুলিশ সর্ম্পকে আগেকার ধ্যান ধারনা ত্যাগ করতে হবে উল্লেখ করে ডিআইজি শফিকুল আরও বলেন, সমাজে যারা দুষ্কর্ম করে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে, এজন্য এলাকার শান্তি শৃঙ্খলার দায়িত্ব কমিউনিটিকে নিতে হবে।
তিনি বলেন, থানায় সমাজের ভালো মানুষের আসা যাওয়া বাড়াতে হবে। তাদেরকেই দুস্কৃতিকারিদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে। তারাই ঠিক করবেন তাদের সমাজ ব্যবস্থা কি ধরনের হবে।
যদি তারা সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে দূরে থাকে তাহলে টাউট-বাটপারসহ দালাল শ্রেণীর লোকেরাই পুলিশকে ভূল পথে পরিচালিত করে সমাজকে নিয়ন্ত্রিত করবে। কমিউনিটিতে সৃষ্ট অপরাধমূলক সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করবে কমিউনিটি পুলিশ কর্তৃপক্ষ। আর এতে করেই সমাজে অপরাধমূলক কর্মকান্ড কমে আসার পাশাপাশি অতি সহজেই শৃঙ্খলাবদ্ধ সমাজ পাওয়া যাবে।
ডিআইজি বলেন, সাধারণ মানুষ কে নিয়েই তাদের আস্থা অর্জন করে পুলিশ এগিয়ে যেতে চায়। মূলত এই দৃষ্টিভঙ্গিতেই গঠন করা হচ্ছে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম।
যেখানে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের ফোরাম রয়েছে তাদেরকে মাসে অন্তত দুইবার বৈঠকে বসে সমাজের সার্বিক পরিস্থিতি ও অপরাধীদের চিহ্নিত করে থানা পুলিশকে সহযোগিতা করতে হবে। এরপরেও যদি থানা পুলিশ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.