রাঙামাটি সদর উপজেলার ৬ নম্বর বালুখালী ইউনিয়নের হাজারীবাক সাধনানন্দ বনবিহারে শনিবার ১৫তম দানোত্তম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিহার প্রাঙ্গনে সকাল ও বিকাল দুই পর্বে উপস্থিত ভিক্ষু সংঘের নিকট বুদ্ধমূর্তি দান, সংঘদান, অষ্টপরিস্কার দান, কঠিন চীবর দান, কল্পতরু দান, হাজার বাতি দান, পঞ্চশীল প্রার্থনাসহ নানা বিধ দান আয়োজন করা হয়। দুপুরে ভগবান বুদ্ধের অমৃতময় বাণীর উদ্ধৃতি দিয়ে ধর্ম সভায় ধর্মীয় দেশনা প্রদান করেন সুবলং শাখা বনবিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত শ্রীমৎ বুদ্ধশ্রী মহাস্থবির, রাজবন ভাবনা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ ভদন্ত শ্রীমৎ ইন্দ্রগুপ্ত মহাস্থবির, কান্দেবছড়া বনবিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত শ্রীমৎ করুনাকীর্তি মহাস্থবির, বেনুবন বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত শ্রীমৎ পন্থক মহাস্থবির।
পুরবী দেওয়ান ও অনিল বিকাশ চাকমা অনুষ্ঠান পরিচালনায় পঞ্চপ্রার্থনা করেন কৃপা চাকমা। ধর্মীয় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাবেক উপমন্ত্রী ও বিহার পরিচালনা কমিটির পৃষ্ঠপোষক মনি স্বপন দেওয়ান। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি ত্রিলোচন চাকমা, সম্পাদক অতুল চাকমাসহ অন্যান্য প্রমূখ।
এর আগে কঠিন চীবর ও কল্পতরু প্রদক্ষিণ করে পুরো বিহার প্রাঙ্গণে আনন্দ শোভাযাত্রা করা হয়। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে হাজারো পূণ্যার্থী ঢল ধর্মীয় শোভাযাত্রা ও ধর্ম সভায় অংশগ্রহণ করেন। পূণ্যার্থীদের অংশগ্রহণ ও ভক্তি শ্রদ্ধায় মূখর হয়ে উঠে সাধনানন্দ বনবিহার।
ধর্মদেশনায় বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বলেন, ভগবান বুদ্ধ সবর্দা উপদেশ দিতেন কাউকে হিংসা না করে মৈত্রী প্রদান করা। মৈত্রী প্রদানের মাধ্যমে শত্রুকে জয় করা। তাই কোনো প্রাণী বা ব্যক্তির উপর হিংসা মনোভাব না করা। একে অপরের প্রতি মৈত্রী স্থাপিত হলে সমগ্র বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।
শুধু তাই নয় গৃহী জীবনে পঞ্চশীল পালন ছাড়া পরিবারে উন্নয়ন সম্ভব নয়। পরিবারে বাবা-মা শীলবান হলে তাদের সন্তানও শীলবান হয়। সেজন্য পঞ্চশীল পালনের মাধ্যমে দান শীল ও ভাবনার প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্ববান জানান বৌদ্ধ ভিক্ষুরা।
প্রসঙ্গত,ভগবান বুদ্ধের সময়ে মহাপূর্নবতী বিশাখার প্রবর্তিত তুলা থেকে সূতা বের করে রঙকরণ করে কাপড় বুনা হয়। সেই কাপড় সেলাই করে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ভিক্ষুদের দান করা হয় বলে কঠিন চীবর হিসেবে অভিহিত করা হয়। এ কঠিন চীবর দান বৌদ্ধদের বছরে একবার অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.