রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) শিক্ষা ও গবেষণার পরিধি সম্প্রসারণে নেওয়া হয়েছে একাধিক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। এর অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইনস্টিটিউট অব লিঙ্গুইস্টিকস অ্যান্ড সিএইচটি ল্যাঙ্গুয়েজেস’ প্রতিষ্ঠা ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ভাষা হিসেবে চাইনিজ ও জাপানিজ ভাষা শিক্ষা চালুর পাশাপাশি নতুন একাধিক বিভাগ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট খোলার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-১ এর সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত ১৫তম একাডেমিক কাউন্সিল সভায় এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন রাবিপ্রবি’র ভাইস-চ্যান্সেলর ও একাডেমিক কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য ও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ড. মো. শফিকুল ইসলাম, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ জুনাইদ কবির, সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন ড. তৌহিদুল আলম, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ড. মুহাম্মদ রহিম উদ্দিন, প্রক্টর ড. মোঃ ফখরুদ্দিন, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান আহমেদ ইমতিয়াজ, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান মোহনা বিশ্বাস এবং ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান ড. নিখিল চাকমা, ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান জনাব মোসা. হাবিবা, ফিশারিজ এন্ড মেরিন রিসোর্সেস টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোঃ মতিউর রহমান চৌধুরী, গ্রন্থাগারিক (ভারপ্রাপ্ত) ড. সুপ্রিয় চাকমা এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, ঢাকা এর প্রিন্সিপাল জিওলোজিস্ট ও বিভাগীয় প্রধান ড. মোঃ মনিরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সভায় একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে অনলাইন প্লাটফর্মে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রফেসর ড. ওয়াহিদা সুমী, বাংলাদেশ ফিশারিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউট (নদী উপকেন্দ্র) পটুয়াখালী এর সিনিয়র সাইন্টিফিক অফিসার ও সাবস্টেশন চীফ ড. মোহাম্মদ আশরাফুল হক সংযুক্ত ছিলেন।
একাডেমিক কাউন্সিলের এই সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ শিক্ষাবিষয়ক পরিকল্পনা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। সভায় অন্যান্য সিদ্ধান্তের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো,`ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ার্স` প্রতিষ্ঠা ছাড়াও ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের অধীনে আইওটি অ্যান্ড ন্যানো টেকনোলজি, ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি, ইনস্টিটিউট অব এআই অ্যান্ড ডাটা সায়েন্স, সেন্টার ফর এআই ইন এগ্রিকালচার অ্যান্ড স্মার্ট ফার্মিং এবং সেন্টার ফর রোবটিকস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স খোলার প্রস্তাবনা অনুমোদন করা হয়। এছাড়া আধুনিক চাহিদার কথা মাথায় রেখে ডাটা সায়েন্স অ্যান্ড ডাটা এনালাইসিস ফর রিসার্চ, হ্যান্ডস-অন রিসার্চ টুলস ফর একাডেমিক রাইটিং, পাইথন ফর এআই এবং বিজনেস ডাটা এনালিটিকস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স সংক্রান্ত শর্ট টার্ম কোর্স চালু করার সুপারিশ করা হয়। তাছাড়াও সান্ধ্যকালীন এমবিএ প্রোগ্রাম চালুসহ ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের বিবিএ ও এমবিএ প্রোগ্রামের নতুন কারিকুলাম অনুমোদন দেওয়া হয়। এছাড়া সভায় শিক্ষার্থীদের পুনঃভর্তি, ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের তালিকা, পাঠ্যক্রম ও পরীক্ষা কমিটি গঠন, এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের মতো বাস্তবায়নাধীন প্রশাসনিক বিষয়সমূহ সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিচালনা সুসংহত করতে নতুন অর্ডিন্যান্স প্রণয়ন করে যথাযথ পর্ষদে উপস্থাপনেরও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
উল্লেখ্য, একাডেমিক কাউন্সিল রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষা বিষয়ক পর্ষদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধি-বিধান সাপেক্ষে একাডেমিক কার্যক্রমের লক্ষ্য নির্ধারণ, শিক্ষাবর্ষের সময়সূচী প্রণয়ন এবং শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ভূমিকা পালন করে আসছে এই কাউন্সিল।
--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.