আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানালে বিছিন্নবাদী বলে তকমা দেওয়া হচ্ছে

Published: 09 Aug 2026   Sunday   

নানা আয়োজনে রোববার রাঙামাটিতে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বর্নাঢ্য র‌্যালী ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আলোচনা সভায় বক্তারা আমরা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নয়, আদিবাসী হিসেবে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি চাই দাবি জানিয়ে বলেছেন, আমাদের পরিচয় রাষ্ট্র চাপিয়ে দিতে পারে না। যা মানবাধিকার লঙ্ঘন। আমরা বাঙালি বা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নয়, আদিবাসী হিসেবে বেঁচে থাকতে চাই। কিন্তু রাষ্ট্র কখনো আদিবাসী হিসেবে স্বীকার করছে না। বরং আদিবাসী বললে আমাদের বিছিন্নবাদী বলে তকমা দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম পার্বত্যাঞ্চল শাখার উদ্যোগে রাঙামাটি পৌর সভা প্রাঙ্গনে দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জুম ঈসথেটিকস কাউন্সিলের সভাপতি শিক্ষাবিদ শিশির চাকমা। আদিবাসী ফোরামের পার্বত্যাঞ্চল শাখার সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য ফদাং তাং রান্দাল, বিশিষ্ট আইনজীবী জুয়েল দেওয়ান, সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্ক সহ সভাপতি থোয়াই অং মারমা,গিরিসুর শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি জয়তী চাকমা ইনু ও আইনজীবি দীপন চাকমা। স্বাগত বক্তব্যে দেন আদিবাসী দিবস উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ইন্টুমনি তালুকদার। এর আগে বেলুন উড়িয়ে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য চঞ্চু চাকমা। এর পর গিরিসুর শিল্পী গোষ্ঠীর দল মনোজ্ঞ নৃত্য পরিবেশনা করে। আলোচনা সভা শেষে পৌরসভা প্রাঙ্গন থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমী প্রাঙ্গনে গিয়ে শেষ হয়। এসময় আদিবাসী জনগোষ্ঠী তাদের নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে নানা বয়সী নারী পুরুষ বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিশির চাকমা বলেন, বিএনপির সরকার শুরুতে বলেছেন তারা রংধনু জাতি গঠন করবে। কিন্তু পার্বত্য অঞ্চলের মানুষকে কষ্ট, বৈষম্য ও অন্ধকারে মধ্যে রেখে বাংলাদেশে কোন অবস্থাতে রংধনু জাতি গঠিত হতে পারে না। তিন পার্বত্য জেলায় চার জন সাংসদ রয়েছেন। তার মধ্যে তিন জন রয়েছেন আদিবাসী সাংসদ। কিন্তু সংবিধান সংস্কার কমিটিতে তিন জনের কাউকে রাখা হয়নি। পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের ব্যাপারে সরকারের অনীহা রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পর ২৯ বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো সুরাহা হয়নি। এমন পরিস্থিতি অনন্তকাল চলতে পারে না। এটি সরকার ও দেশের জনগণের জন্য যেমন ভালো নয়, তেমনি পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জন্যও কল্যাণকর নয়। তাই সরকার যদি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিকে ভিত্তি করে এই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার কোনো রূপরেখা ঘোষণা না করে, তবে পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মনে সৃষ্ট ক্ষত কখনোই সারবে না।

তিনি বলেন, পাহাড়ের মানুষের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বা অন্য কোনো কার্ডের প্রতি কোনো আগ্রহ নেই। তিনি বলেন, “আমরা এখানে শান্তিতে বসবাস করতে চাই। সরকারের ভেতরে থেকেই যারা পার্বত্য অঞ্চলে আমাদের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে, তাদের শাসনের অবসান আমরা অবশ্যই চাই।”

উদ্বোধকের বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য এ্যাডভোকেট চঞ্চু চাকমা বলেন, তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে আমরা আদিবাসী দিবস পালন করছি। কিন্তু রাষ্ট্র কখনো আমাদের স্বীকার করছে না। আমাদেরকে অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখছে। আদিবাসী বললে আমাদের বিছিন্নবাদী বলে তকমা দেওয়া হচ্ছে। আমরা বর্তমান সরকারের রেইবো নেশনের অংশীদার হতে চায়। এই বিষয়ে বিএনপি সরকারের আন্তরিকতা প্রয়োজন রয়েছে।
--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

উপদেষ্টা সম্পাদক : সুনীল কান্তি দে
সম্পাদক : সত্রং চাকমা

মোহাম্মদীয়া মার্কেট, কাটা পাহাড় লেন, বনরুপা, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।
ইমেইল : info@hillbd24.com
সকল স্বত্ব hillbd24.com কর্তৃক সংরক্ষিত