পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিনকে অপসারণ ও দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করে পূর্ন মন্ত্রী হিসেবে পুর্নবহালের দাবিতে রোববার রাঙামাটিতে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলার নাগরিক সমাজের ব্যানারে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন চলাকালে লংগদুর কালাপাগুজ্যা মৌজার হেডম্যান মো. মীর সিরাজ উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাবেশে অ্যান্যর মধ্যে বক্তব্য দেন সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সহসভাপতি সুজিত দেওয়ান, জেলা কার্বারি সভাপতি নন্দ বিকাশ চাকমা, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা স্বপন মল্লিক, জেলা মহিলা দলের সভাপতি নুর জাহান পারুল এবং মহিলা হেডম্যান মানুচিং মারমা। মানববন্ধনে পাহাড়ি ও বাঙালি সম্প্রদায়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের রোডম্যাপ ঘোষনা ও দীপেন দেওয়ানের মন্ত্রীত্ব পূর্নবহালসহ ৫ দফা দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
বক্তারা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙামাটির-২৯৯ আসন থেকে অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হন। তিনি পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের আস্থাভাজন এবং পার্বত্য অঞ্চলের একজন জনপ্রিয় নেতা। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র তিন মাসের মাথায় তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। এ ঘটনায় পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বক্তারা আরো বলেন, দীপেন দেওয়ান শারীরিক অসুস্থতার কারণে নয়, বরং চাপের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। মাত্র তিন মাসের মধ্যে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ায় পাহাড়ের মানুষ নিজেদের অধিকার থেকে বঞ্চিত মনে করছে। দীপেন দেওয়ান অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করেছেন এই কথা আমরা বিশ্বাস করি না। পার্বত্যাঞ্চলে স্থায়ী শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে অবিলম্বে দীপেন দেওয়ানকে দ্রুত মন্ত্রীর দায়িত্বে পুনর্বহালের দাবি জানান।
নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ বলেন, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপিকে পার্বত্যবাসী ভোট দেয়নি। তিনি এই অঞ্চলের স্থায়ী বাসিন্দাও নন। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর সম্পাদিত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ‘ঘ’ খণ্ডের ১৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, উপজাতীয়দের মধ্য থেকে একজন মন্ত্রী নিয়োগ করে এই মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। এতে মীর হেলালকে প্রতিমন্ত্রী করা চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও নীতিবহির্ভূত। তাকে দ্রুত অপসারণ করা না হলে পাহাড়ের সম্প্রীতি বিনষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই অবিলম্বে বর্তমান প্রতিমন্ত্রীকে অন্য মন্ত্রণালয়ে পদায়ন করে পার্বত্য চুক্তির শর্ত অনুযায়ী উপজাতীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী নিয়োগের দাবি জানান।
--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.