পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়িত না হওয়ার কারণে পাহাড়ে জুম্ম জনগণের ওপর জাতিগত ও শ্রেনীগত নির্যাতন-নিপীড়ন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিজেরে অস্তিত্ব রক্ষা করা এখন বড়ই সংকট হয়ে দাঁিড়য়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা।
বৃহস্পতিবার রাঙামাটিতে সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্ক সন্মেলনে প্রধান অতিথি বক্তব্যে সন্তু লারমা এ কথা বলেন।
পার্বত্য চুক্তি দীর্ঘ ২৮ বছরেও পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করে উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে অভিযোগ করে সন্তু লারমা বলেন,পাহাড়ে বর্তমানে যে ভীতিকর বাস্তবতা বিরাজ করছে তাতে সাধারন মানুষ মন খুলে কথা বলতে পারছে না। কথা বলতে গেলে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে হয়। যার কারণে নিরাপত্তাহীনতার কথা বিবেচনা করেই এ সন্মেলনে অংশ নেয়া প্রথাগত নেতৃবৃন্দ তাদের অন্তরের আসল কথা ও গভীর সংকটগুলো ব্যক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
তিনি আরো বলেন,স্মরণাতীতকাল থেকে প্রথাগত হেডম্যান(মৌজা প্রধান) নেতৃত্ব পার্বত্যাঞ্চলের জুম্ম জনগণের জীবন ও সংস্কৃতির সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত হয়ে এ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। র্দীঘ ২৫ বছররে সশস্ত্র সংগ্রামরে মধ্য দিয়ে সরকারের সাথে জুম্মগণের মধ্য যে চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছিল তার পেছনে এ প্রথাগত নেতৃবৃন্দের অবদান অনস্বীকার্য। তবে দুঃখের বিষয় তারা আজও নিজেদের দায়িত্ব স্বাধীনভাবে পালন করতে পারছে না। তাঁরা নানান পদে প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন।
সন্তু লারমা বলেন, বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের পূর্নাঙ্গ মন্ত্রী নেই। যার ফলে এর দায়িত্ব স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর হাতে ন্যস্ত। কিন্তু এই মন্ত্রনালয় আমাদের নিজেদের হলেও এটি কখনোই জুম্ম জনগণের অধিকার রক্ষায় এগিয়ে আসেনি। বরং পাহাড়ের মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করে এসেছে। তিনি পার্বত্যাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং কারবারী ও হেডম্যান ও সার্কেল চীফদের নিয়ে গঠিত প্রথাগত নেতৃত্বের ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
সন্মেলনে হেডম্যানদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষে দশ দফাদাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয় র্কতৃক প্রজ্ঞাপিত গ্রোভল্যান্ড ও জুম খাজনার বিষয়ে হেডম্যানদরে অংশীদারত্ব স্পষ্ট করা, ১৯০০ সালরে রেগুলেশন অনুযায়ী হেডম্যান র্কতৃক বাস্তুভিটার ৩০শতক ভূমি র্কাযকর করা, পার্বত্য চুক্তি অনুযায়ী ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের কার্যক্রম পর্যালোচনা,অস্থায়ী বাসিন্দা কর্তৃক মৌজার ভূমি বেদখল বন্ধ ও বেদখলকৃত ভূমি স্থায়ী বাসিন্দাদের ফেরত দেওয়া, সরকারি ভাতা বঞ্চিত সকল নারী ও পুরুষ কারবারীদের দ্রুত ভাতা বরাদ্দসহ ইত্যাদি।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের এনেক্স ভবন সন্মেলন কক্ষে আয়োজিত দিন ব্যাপী সন্মেলনে অন্যান্যরে মধ্যে বক্তব্য দেন চাকমা সার্কেল চীফ দেবাশীষ রায়,রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার, জেলা প্রশাসনের এএলআরডির উপ-নির্বাহী পরচিালক রওশন জাহান মনি, সিএইচটি নারী হেডম্যান কারবারী নেটওয়ার্কের সাংগঠনকি সম্পাদক জয়া ত্রিপুরা, বান্দরবান বোমাং সার্কেলের হেডম্যান-কারবারী কল্যাণ পরিষদের সভাপতি হ্লা থোয়াই মারমা, রাঙামাটি জেলা হেডম্যান অ্যাসোসিশেয়নের সহ-সভাপতি থোয়াইঅং মারমা, খাগড়াছড়ি জেলা হেডম্যান অ্যাসেসিয়েশনের সভাপতি যুবলক্ষণ চাকমা ও বোমাং সার্কেল হেডম্যান অ্যাসোসিয়শনের সাধারণ সম্পাদক টমিংপ্রু মারমা।
--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.