সাড়ে চার শতাধিক শ্রমিক পরিবারের নির্ভরতার নাম খাগড়াছড়ি সড়ক পরিবহন চালক সমবায় সমিতি

Published: 27 Mar 2015   Friday   

দেশের সব জেলাতেই পরিবহন শ্রমিকদের সংগঠন  থাকলেও সেগুলোর আর্থিকভাবে সবল রয়েছে। পাশাপশি সংগঠনের নেতৃত্বের স্বেচ্ছাচারিতা, দলাদলি আর সংগঠনের অর্থ আত্মসাতের ভুরি ভুরি নজিরও রয়েছে। ফলে পরিবহন খাতের অনেক সংগঠন যেভাবে জম্ম সেভাবেই নুয়ে পড়ে। কিন্তু এতোসব চরাই-উৎরাই পেরিয়েই টিকে রয়েছে  খাগড়াছড়ি সড়ক পরিবহন চালক সমবায় সমিতি। শুধু টিকে থাকা বললেও ভুল হবে, নেতৃত্বের দক্ষতায় সংগঠনটি বিগত তিন দশক ধরে চার শতাধিক শ্রমজীবি পরিবারের নির্ভরতার প্রতীক হয়ে দাড়িছে।

 

উল্লেখ্য, ১৯৮৫ সালে খাগড়াছড়ি সড়ক পরিবহন চালক সমবায় সমিতি লিঃ রেজিষ্ট্রেশন ভুক্ত হয়। যার রেজিষ্ট্রেশন নং-খাগড়া/৩/১৯৮৫)। ১৯৯২ সালে জেলাপর্যায়ে শ্রেষ্ঠ এবং ১৯৯৫ সালে জাতীয় সমবায় পুরস্কার অর্জন করে। তাই সারাদেশে এই সমিতি একটি মডেল হিসেবে পরিগণিত। খাগড়াছড়ির স্থায়ী বাসিন্দাদের মধ্যে এখন সর্বমোট ৪’শ ৬০ পরিবহন শ্রমিক এই সংগঠনের সদস্য। সমিতির পথচলায় অটল থেকে অনেক শ্রমিক এখন নিজেরাই পরিবহন মালিক হয়েছেন।

 

সমিতির বর্তমান সভাপতি মনতোষ ধর এবং সাঃ সম্পাদক মোঃ ইউনুস মিয়া জানান,  সংগঠনের শুরু থেকে সম্মানিত প্রতিষ্ঠাতারা এই সংগঠনকে একটি আয়বর্ধক এবং স্থায়িত্বশীল সাংগঠনিক কাঠামোর ওপর দাঁড় করাতে চেয়েছিলেন। তাঁদের সেই স্বপ্নে সিড়ি বেয়ে আমরা খাগড়াছড়ি এবং চট্টগ্রামে নেতৃস্থানীয় ট্রান্সপোর্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুখ্যাতি অর্জন করেছেন।

তারা আরও বলেন, সারাদেশ থেকে খাগড়াছড়িতে ট্রাক প্রবেশ এবং ভাড়া নিয়ে বর্হিগমনের ক্ষেত্রে চালানমুলে সর্বোচ্চ ৫’শ টাকা নিয়ে থাকেন। ক্রমঅনুসারে ট্রাকগুলো খাগড়াছড়ি ছেড়ে যাবার মধ্য দিয়ে পরিবহন রুট ও ভাড়া পাবার ক্ষেত্রে একটি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এজন্য সমিতির প্রধান অফিস ৫ জন এবং শাখা অফিসগুলোতে মোট ১১ জন লোকবল নিয়োজিত রয়েছেন।

 

সমিতির বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, প্রত্যেক সদস্য শ্রমিকের পরিবারকে সঙগঠন থেকে এককালীন ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা করে দেয়া হচ্ছে। একই সাথে সদস্যদের কন্যার বিয়ে, উত্তরাধিকারীদের লেখাপড়া, দুর্ঘটনাজনিত কারণে সাহায্য প্রদানে সংগঠনের আয়ের একটি বড়ো অংশ ব্যয় হয়ে থাকে।

 

ব্যবসার সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে প্রতিবছরই আর্থ-সামাজিক ও সমাজ কল্যাণমুলক কর্মকান্ডে সক্রিয় অবদান রেখে চলেছে। এর অংশ হিসেবে সমিতির বাইরের পুরো খাগড়াছড়ি জেলায় জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দুঃস্থ পরিবারকে কন্যা পাত্রস্থ, দরিদ্র মেধাবীদের সহায়তা এবং মসজিদ-মন্দির ও বিহারের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আর্থিক সাহায্য দেয়া হয়ে থাকে।

 

সমিতির কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে সংগঠনের সম্পদ হিসেবে ৫টি ট্রাক দেশের সর্বত্র চলাচল করছে। ক্রয়সূত্রে জেলাসদরে ২০ শতক, মাটিরাঙা উপজেলা সদরে ৪০ শতক এবং জালিয়াপাড়ায় ৬ শতক মুল্যবান জায়গা অফিস ভবনের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলা সদরে ভবন নির্মাণের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ১৫ লক্ষ এবং মাটিরাঙায় পার্বত্য জেলা পরিষদ থেকে ১০ লক্ষ টাকার অবকাঠামো প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এসব উন্নয়ন অনুদান দুটি শেষতক ৩০ লক্ষ টাকায় গিয়ে দাড়াবে।

 

জেলা সমবায় অফিস সূত্রে জানা গেছে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রতি তিন বছর পর পর নির্বাচনের মাধ্যমে সমিতির নয় সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়।

 

সমিতির বর্তমান সভাপতি মনতোষ ধর এবং সাঃ সম্পাদক মোঃ ইউনুস মিয়া জানান, আলোকিত এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে হাজী আব্দুল লতিফ চৌধুরী, সুধীর চন্দ্র দত্ত, মাহবুবুল আলম, খোরশেদ আলম, খোকন দত্ত, রনজিত বড়–য়া, সোলায়মান বাদশা, এস. এম. শফি, সাধন বিকাশ দাশ, আবু তাহের (মদনহাট) এবং জালালউদ্দীন অন্যতম।

 

সমিতির অফিস সহকারী মোঃ মোমিনুল হক জানান, এযাবত ১’শ ৩৭ জন সদস্যকে মৃত্যুজনিত কারণে দেড় লক্ষ টাকা করে দেড় কোটি টাকার বেশী প্রদান করা হয়েছে।

 

শিক্ষাখাতে কমপক্ষে ২৫ লক্ষ টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। সদস্যভুক্ত শিক্ষার্থীর পাশাপাশি বাইরের প্রার্থীরাও এই সাহায্য পেয়ে জীবন বিকাশের সুযোগ পাচ্ছেন।

 

মোমিনুল হক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন। অনেক সদস্য জীবদ্দশাতেও অনুদান পেয়ে থাকেন।

--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

উপদেষ্টা সম্পাদক : সুনীল কান্তি দে
সম্পাদক : দিশারি চাকমা
মোহাম্মদীয়া মার্কেট
কাটা পাহাড় লেন, বনরুপা
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।
ইমেইল : info@hillbd24.com
সকল স্বত্ব hillbd24.com কর্তৃক সংরক্ষিত