বান্দরবানে কেএসমংমারমাসহ গ্রেফতারকৃত অন্যদের নি:শর্তমুক্তিরদাবি জেএসএস’র

Published: 26 May 2019   Sunday   

বান্দরবানে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কেএস মং মারমা ও জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও রোয়াংছড়ি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ক্যবামং মারমাকে গ্রেফতারের ঘটনায় জনসংহতি সমিতি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ  জানিয়েছে জনসংহতি সমিতি।

 

রোববার পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সহ সাধারণ সম্পাদক গুণেন্দু বিকাশ চাকমার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বার্তায় এই প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হয়েছে।

 

প্রেস বার্তায় বলা হয়, শনিবার দুপুর ২টার দিকে  আলোচনার জন্য কেএস মং মারমা ও ক্যবামং মারমা বান্দরবান সেনাজোনে ডাকা হয়। সেখানে দুই ঘন্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদের পর অবৈধভাবে গ্রেফতার করে তাদেরকে বান্দরবান থানায় সোপর্দ করা হয়। অ এছাড়া শনিবার  কোলক্ষ্যং মৌজার হেডম্যান থোয়াইহ্ণা প্রু মারমা ও জর্ডান পাড়ার কার্বারী মংহ্লা ত্রিপুরাসহ আরো তিনজনকে আটক করে থানায় নেয়া হয়। তাদের সকলের বিরুদ্ধে  গেল ২২ মে বান্দরবান জেলার কুহালং ইউনিয়নের উজিমুখ হেডম্যান পাড়া থেকে বান্দরবান পৌরসভার সাবেক কমিশনার ও পৌর আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি চথুইমং মারমাকে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্ত কর্তৃক অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িত করে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

 

প্রেস বার্তায় দাবী করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ও নিরাপত্তা বাহিনীর ছত্রছায়ায় স্থানীয়ভাবে মগ পার্টি নামে খ্যাত আরাকান লিবারেশন পার্টি (এএলপি)-এর সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বান্দরবান সদর উপজেলা এবং রাঙামাটি জেলার রাজস্থলী ও কাপ্তাই উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক হত্যা, অপহরণ, হুমকি, চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছে। এর মধ্যে গেল ১৮ ফেব্রুয়ারি পিসিপির রাজস্থলী শাখার সভাপতি উক্যনু মারমার বাড়ি ঘেরাও, ১১ মার্চ কাপ্তাইয়ের রাইখালীতে যুব সমিতির চিংসাউ মারমা, জনসংহতি সমিতির উচিংমং মারমা ও যুব সমিতির অংথোয়াইচিং মারমাকে মারধর করে আহত  করে। গেল ১৪ এপ্রিল রাজস্থলীতে জনসংহতি সমিতির রাজবিলা শাখার সদস্য অংক্যচিং মারমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়, গেল ২৩ এপ্রিল জনসংহতি সমিতির রাজস্থলী শাখার সদস্য ও গাইন্দ্যা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মংক্যসিং মারমাকে অপহরণ (এখনো নিখোঁজ), গেল ৭ মে বান্দরবানের রাজবিলা ইউনিয়নের রাবার বাগানে যুব সমিতির বিনয় তঞ্চঙ্গ্যাকে গুলি করে হত্যা এবং ফোলারাম তঞ্চঙ্গ্যাকে অপহরণ; গেল ৯ মে বান্দরবানের কুহালং ইউনিয়নের ৩নং রাবার বাগানে জয়মণি তঞ্চঙ্গ্যাকে গুলি করে হত্যা; গেল ১৩ মে বান্দরবান শহরের উপকণ্ঠে প্রুমংঞো পাড়ায় ১২ গ্রামবাসীকে হত্যার হুমকি; গেল ১৫ মে রোয়াংছড়ি উপজেলার আলেক্ষ্যং ইউনিয়নের সাধু হেডম্যান পাড়ায় শান্তিলাল ত্রিপুরাসহ দুইজনকে গুলি করে হত্যা, গেল ১৮ মে রাজবিলা ইউনিয়নের চিংক্ষ্যং পাড়া থেকে উনুমং মারমাকে অপহরণ (এখনো নিখোঁজ), গেল ১৯ মে ভোরে রাজবিলা ইউনিয়নের তাইংখালী ৮নং রাবার বাগান পাড়ায় ক্যচিংথোয়াই মারমা নামে এক গ্রামবাসীকে ধরে নিয়ে গুলি করে হত্যা,গেল ২২ মে চথুইমং মারমাকে অপহরণ ও পরে তার লাশ উদ্ধার ইত্যাদি ঘটনা ঘটিয়েছে। এএলপিকে দায়ি করে এসব অধিকাংশ ঘটনার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।

 

প্রেস বার্তায় অভিযোগ করা হয়, স্থানীয় আওয়ামীলীগের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও প্রত্যক্ষ মদদে বিদেশী সন্ত্রাসী সংগঠন এএলপি কর্তৃক এভাবে একের পর এক হত্যা, অপহরণ ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জনসংহতি সমিতি বার বার দাবি করে আসছিল। কিন্তু প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। উপরন্তু  গেল ২২ মে চথুইমং মারমাকে অপহরণের ঘটনায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে জনসংহতি সমিতিকে দায়ি করে ক্ষমতাসীন দল ও সরকারি বাহিনী কর্তৃক অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তাদেরকে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের, ধরপাকড়, দমন-পীড়ন, এলাকা ছাড়া করা, জনসংহতি সমিতির নেতৃত্ব শূণ্য করা ইত্যাদি ন্যাক্কারজনক ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে শনিবার জনসংহতি সমিতির দুই কেন্দ্রীয় সদস্য কেএস মং মারমা ও ক্যবামং মারমাকে অবৈধভাবে গ্রেফতার করা হয়। সারারাত ধরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বান্দরবান শহরে জনসংহতি সমিতির নেতা-কর্মীদেরকে অবৈধ গ্রেফতারের হীনউদ্দেশ্যে তাদের ঘরবাড়ি ঘেরাও করেছে। এএলপি নামক একটি বিদেশী সশস্ত্র সন্ত্রাসী দলকে অবাধে সশস্ত্র সন্ত্রাসী কার্যকলাপে মদদ দিয়ে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী এসব এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। 

 

প্রেস বার্তায় গ্রেফতারকৃত হেডম্যান ও গ্রামের কার্বারীসহ জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্য কেএস মং মারমা ও ক্যবামং মারমাকে অচিরেই নি:শর্তে মুক্তি,বিদেশী সশস্ত্র সংগঠন- এএলপি’কে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে চলমান হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস বন্ধ করা এবং এএলপির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এসব ঘটনায় জনসংহতি সমিতির সদস্যদেরকে জড়িত করে মিথ্যা মামলা দায়ের, ধরপাকড়, দমন-পীড়ন, এলাকা ছাড়া করার হীন ষড়যন্ত্র বন্ধ করার দাবী জানানো হয়েছে।

--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

উপদেষ্টা সম্পাদক : সুনীল কান্তি দে
সম্পাদক : দিশারি চাকমা
মোহাম্মদীয়া মার্কেট
কাটা পাহাড় লেন, বনরুপা
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।
ইমেইল : info@hillbd24.com
সকল স্বত্ব hillbd24.com কর্তৃক সংরক্ষিত