বিলাইছড়িতে ভিসিএফ কমুনিটিজ এর সুফলভোগীদের মাঝে নগদ অর্থ প্রদান

Published: 09 Aug 2018   Thursday   

পাহাড়ে পরিবেশ রক্ষার্থে ও মৌজা বা গ্রামীণ বন সংরক্ষেণের লক্ষে গঠিত গ্রামীণ বন সংরক্ষণ (ভিসিএফ) কমুনিটিজ এর  রাঙামাটির বিলাইছড়িতে ১১৮পরিবারের মাঝে বৃহস্পতিবার  নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।

               

বিলাইছড়ি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা। জেলা পরিষদ সদস্য রেমলিয়ানা পাংখোয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশেষ অতিথি ছিলেন বিলাইছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শুভ মঙ্গল চাকমা, ১নং বিলাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি দেওয়ান, বিলাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহমেদ নাসির উদ্দিন মোহাম্মদ, শাইনিং হিলের নির্বাহী পরিচালক মোঃ আলী। স্বাগত বক্তব্য দেন ইউএনডিপি জেলা ব্যবস্থাপক ঐশ্বর্য চাকমা।

 

এসময় বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুরেশ কান্তি তংচঙ্গ্যা, ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিদ্যালাল তংচঙ্গ্যা, বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা সুকুমার চক্রবর্তী’সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা দরিদ্র মানুষের উন্নয়নে বিরোধীতা না তাদের জীবন মান উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়ে বলেন, সরকার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীগুলিকে আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তারই আলোকে মৌজা বন রক্ষাকারী গ্রামবাসীকে বন রক্ষায় আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করছে। এতে কোন রাজনীতি নেই, শুধুমাত্র পার্বত্য পশ্চাদপদ মানুষের জীবন মানোন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছেন।

 

তিসি আরো বলেন, পাহাড়ের বন উজাড় হওয়ার ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো ভয়াবহ ঘটনা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে গেল বছর ভূমিধসে ১২০জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এ ঘটনার পরও মানুষের মাঝে চেতনা তৈরী হচ্ছে না। তিনি বলেন, মানুষ সচেতন না হলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ দিন দিন বৃদ্ধি পাবে। বর্ষাকালে বৃষ্টি হবে না, শীত কালে গরম পড়বে, গরম কালে শীত পড়বে। এর প্রভাব থেকে বাঁচতে হলে আমাদেরকে বেশী বেশী বন সৃষ্টি করতে হবে। প্রাকৃতিক বন সৃষ্টি করা গেলে আমাদের ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশ আবারো প্রাকৃতিক বনসম্পদে ভরে উঠবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

তিনি বলেন, মৌজাবন রক্ষার পাশাপাশি চাষীরা যদি অন্যান্য বনায়ন করতে চায় তাহলে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ তাদের পাশে থাকবে। তিনি আরো বলেন, বাড়ীর পাশে বা পরিত্যক্ত পাহাড়ে চাষাবাদের পাশাপাশি গবাদী পশুপালনে সরকারের এ অর্থ ব্যয় করুন দেখবেন সুফল আসবে। সরকারের এ অর্থগুলো ভালো কাজে বিনিয়োগ করে নিজেদের স্বাবলম্বী করারও পরামর্শ দেন তিনি। 

 

অনুষ্ঠানে বিলাইছড়ি উপজেলার গাছকাটা ছড়া, আমতলা, মোনপাড়া, নরশ্যে পাড়া ও নকাটাছড়া গ্রামের মোট ১১৮টি পরিবারকে পরিবার পিছু নগদ ৭হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়।

 

প্রকল্পের এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ২ আগষ্ট লংগদু উপজেলার ২৯৫ পরিবার, ৪আগষ্ট সদর উপজেলার ৩৫১টি পরিবার, ৫আগষ্ট কাপ্তাই উপজেলার ১৭৬টি পরিবার, ৮আগষ্ট বরকল উপজেলার ৩১৮টি পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়।

--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

উপদেষ্টা সম্পাদক : সুনীল কান্তি দে
সম্পাদক : দিশারি চাকমা
মোহাম্মদীয়া মার্কেট
কাটা পাহাড় লেন, বনরুপা
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।
ইমেইল : [email protected]
সকল স্বত্ব hillbd24.com কর্তৃক সংরক্ষিত