কাপ্তাইয়ে ১০ হাজার পরিবার ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ে বসবাস করছে

Published: 11 Jun 2018   Monday   

মারাত্মক বিপজ্জনক সত্বেও কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ের ঢালে প্রায় ১০ হাজার লোক ঝূঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করছে। এলাকার মসজিদ ও উপজেলা প্রশাসন থেকে এলাকার বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের আশ্রয় কেন্দ্রসহ নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। তা সত্বেও ঝুঁকিপূর্ণ বাসা ছেড়ে জনসাধারনকে আশ্রয় কেন্দ্র বা নিরাপদ স্থানে যেতে দেখা যাচ্ছে না।

 

এদিকে গত ২ দিনের টানা বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধস ও রাস্তাঘাট ভাঙ্গনের সম্মূখীন হয়েছে। মসুলধারে বৃষ্টি বলবৎ থাকলে পাহাড়ধস সহ জানমালের ব্যাপক ক্ষতির আশংকা করা হচ্ছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কাপ্তাইয়ের হরিণছড়া, ঢাকাইয়া কলোনী, কার্গোএলাকা, লগগেট এলাকা, ওয়াগ্গা ইউনিয়নের শিলছড়ি, বড়ইছড়ি, সাপছড়ি, মুরালী পাড়া, কুকিমারাসহ একাধিক স্থান, চন্দ্রঘোনার মিতিঙ্গাছড়ি, রেশম বাগান , ফকিরাঘোনা, সাদেকের ঘোনা, কাটাপাহাড়, রাইখালী ইউনিয়নের কারিগড় পাড়া, তাইতং পাড়া ,মইদং পাড়া, হাফছড়ি, চিৎমরমের উজানছড়ি, পেকুয়া, চংড়াছড়ি, চাকুয়া,আমতলীপাড়াসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ের ডালে প্রায় ১০ হাজার পরিবার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করছে। ২০১৭ সালের জুন মাসে ভায়াবহ পাহাড় ধসে এ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ১৮ জনের প্রাণহানিসহ ব্যাপক সম্পদের ক্ষতি সাধিত হয়। তখন এসব এলাকার কয়েক শতাদিক লোককে আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল। কিন্তু এদের বসবাসের স্থায়ী কোন বন্দোবস্ত করতে না পারায় মানুষগুলো পূনরায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করতে থাকে।


এদিকে, ১০জুন থেকে দু’দিন ধরে মষুলধারে বর্ষণে আবারও পাহাড় ধসের আশংকা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে উপজেলার বিভিন্নস্থানে পাহাড় ধসসহ সড়ক, কালভার্ট, ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। একাদিক স্থানে মারাতœক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে জনপ্রতিনিধিরা জানান। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে চন্দ্রঘোনা ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী বেবী জানান, ইতিমধ্যে এ ইউনিয়নের মিতিঙ্গাছড়ি এলাকার ইমান আলী, আবুল ও মোক্তার মিয়ার বাসস্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। প্রবল বর্ষণে পাহাড়ধসের কথা চিন্তা করে বাসার লোকজন নিরাপদ স্থানে অবস্থান করায় কোন প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তিনি আরও বলেন, মিতিঙ্গাছড়ির কয়েক স্থানে ব্রীজের পাশের ভাঙ্গনের কারনে ব্রীজ হুমকির মুখে রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের পেছনে নালন্দা বিহার এলাকা মারাতœক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে যেকোন মহুর্ত্বে বড় ধরনের দূঘটনা ঘটার আশংকা রয়েছে বলে তিনি জানান। কাপ্তাই ইউপি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ বলেন, এ ইউনিয়নের লগগেট ও ঢাকাইয়া কলোনীতে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটলেও প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটেনি। রাইখালী ইউপি চেয়ার‌্যম্যান সায়ামং মারমা জানান, পাহাড় ধসে কারিগড় পাড়া এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

 

এছাড়া পাহাড়ের মাটি এসে পাড়ায় বেশ কয়েকটি ঘরের সামনে মাটি ভরাট হয়ে গেছে। এতে ১০/১২ টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েঝে বলে তিনি জানান। উপজেলা ইউএনও মোহাম্মাদ রুহুল আমীনের সাথে গতকাল সোমবার যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পাহাড় ধসের আশংকার কথা চিন্তা করে প্রতিটি ইউনিয়নে ১টি স্কুল ও ইউনিয়ন পরিষদকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ঘোষনা করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নের মসজিদ ও উপজেলা প্রশাসন থেকে মাইকিং করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের আশ্রয় কেন্দ্র অথবা নিজ উদ্যোগে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ নির্দেশ অমান্য করা হলে প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে লোকজনতে সরাতে বাধ্য করবে।
--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

উপদেষ্টা সম্পাদক : সুনীল কান্তি দে
সম্পাদক : দিশারি চাকমা
মোহাম্মদীয়া মার্কেট
কাটা পাহাড় লেন, বনরুপা
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।
ইমেইল : [email protected]
সকল স্বত্ব hillbd24.com কর্তৃক সংরক্ষিত