পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ায় পাহাড়ের মানুষ অধিকার থেকে বঞ্চিত

Published: 31 May 2018   Thursday   

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণে শুধু নারীরা নয়, পাহাড়ের নারী পুরুষ সবাই তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। চুক্তি অকার্যকর অবস্থায় থাকার কারণে মানুষ তাদের অধিকার ভোগ করতে পারছে না। এ অবস্থায় আদিবাসীদের প্রথাগত আইনসমূহগুলোও অস্তিত্বের হুমকিতে পড়েছে। তাই চুক্তি বাস্তবায়ন করা জরুরী।

 

বৃহস্পতিবার রাঙামাটি শহরের আশিকা সম্মেলন কক্ষে প্রথাগত আইনে নারীর অবস্থান ও করণীয় এক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা।


বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের সহায়তায় স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা প্রোগ্রেসিভ এ সেমিনার আয়োজন করে।


সেমিনারে বক্তারা বলেন, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি আলোকে তিন (রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান) পার্বত্য জেলা পরিষদ শক্তিশালী করা হয়। এ পরিষত পাহাড়ে বসবাসরত স্থায়ী বাঙালী ও আদিবাসীদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দারা পরিচালিত হওয়ার কথা। কিন্তু সেটি না হয়ে যে সরকার আসে সে সরকার তার মনোনীত লোক বসিয়ে দিচ্ছে। এতে পাহাড়ের মানুষ তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।


যেখানে প্রত্যকটি পরিষদে ৩৪ জন জনগণের ভোটে নির্বাচিত সদস্য থাকার কথা। কিন্তু সেখানে ১৫ জন মনোনীত লোক বসিয়ে দিয়ে পরিষদ চালানো হচ্ছে। এ অবস্থায় আঞ্চলিক পরিষদও একই অবস্থা। বর্তমানে যেভাবে পরিষদগুলো পরিচালিত হচ্ছে এতে উভয় পরিষদে নারীদের উপস্থিতি সন্তোষজনক নয়।


চুক্তি মতে যদি এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হত তাহলে এসব অসঙ্গতি দুর হয়ে মানুষ তাদের অধিকার ভোগ করতে পারত।


সেমিনারে প্রধান অতিথি রাঙামাটি সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অরুন কান্তি চাকমা বলেন, পাহাড়ের মানুষ তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত। চুক্তির আলোকে যেসব অধিকার পাওয়ার কথা সে অধিকার তারা ভোগ করতে পারছে না। তাই চুক্তি বাস্তবায়ন জরুরী।


বক্তারা আরো বলেন, প্রথাগত আইনের নারীদের অধিকারের কথা বললে ভুমির কথা, সম্পত্তির কথা চলে আসে। কিন্তু যেখানে আদিবাসীদের ভুমির অধিকার নিশ্চিত হয়নি সেখানে অধিকার কথা বলা হচ্ছে। ভুমি বিরোধ নিষ্পত্তি করার জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে কিন্তু সেটি এখন পর্যন্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারছে না। চুক্তির মধ্যে আদিবাসীদের প্রথাগত প্রতিষ্ঠানসমূহের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠান গুরুত্বহীনভাবে দেখা হচ্ছে।


প্রোগ্রেসিভের নির্বাহী পরিচালক সুচরিতা চাকমার সভাপতিত্বে সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন, রাঙামাটি সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রিতা চাকমা, হিমাওয়ান্তির নির্বাহী পরিচালক নারী নেত্রী টুকু তালুকদার, রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন রুবেল, আইনজীবী সুস্মিতা চাকমা, হেডম্যান থোয়াই অং মারমা প্রমূখ। সেমিনারে রাঙামাটি জেলার একাধিক নারী গ্রাম প্রধান, মৌজা প্রধান, মানবাধিকার কর্মী অংশ নেয়।
--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

 

উপদেষ্টা সম্পাদক : সুনীল কান্তি দে
সম্পাদক : দিশারি চাকমা
মোহাম্মদীয়া মার্কেট
কাটা পাহাড় লেন, বনরুপা
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।
ইমেইল : [email protected]
সকল স্বত্ব hillbd24.com কর্তৃক সংরক্ষিত