রাঙামাটিতে অপহরণের পর এমএন লামরা গ্রুপের জনসংহতি সমিতির দুই কর্মীকে হত্যা

Published: 12 Apr 2018   Thursday   

রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলায় এমএন লারমা সমর্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির দুই কর্মীকে অপহরনের পর হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ও বুধবার রাতে দুজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এমএন লারমা সমর্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ইউপিডিএফকে দায়ী করলেও অস্বীকার করেছে।


পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়,  গেল বুধবার বিকেল চার টার দিকে নানিয়ারচর উপজেলা সাবেক্ষং ইউনিয়নের বাজেছড়া গ্রাম থেকে এমএন লারমা সমর্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি কর্মী সাধন চাকমাকে (৩০) দুর্বৃত্তরা অস্ত্রের মূখে অপহরন করে। রাত ১০টার দিকে একই ইউনিয়নের ক্যাঙ্গেলছড়ি ব্রিজ এলাকায় তার লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। রাত দেড় টার দিকে পুলিশ সাধন চাকমার লাশ উদ্ধার করে। গতকাল লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।


অপরদিকে,গেল বুধবার সন্ধ্যার দিকে একই উপজেলা সাবেক্ষং ইউনিয়নের জগনাতলী গ্রাম থেকে এমএন লারমা সমর্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কর্মী কালোময় চাকমাকে (৪৫) অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে কালোময় চাকমার লাশ তাঁর বাড়ি থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে ঝোপঝাড়ে স্থানীয় লোকজন দেখতে পায়। এতে পরিবারের লোকজন পুলিশ লাশ উদ্ধার করতে ঘটনাস্থলে গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।


এ ব্যাপারে এমএন লারমা সমর্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রগতি চাকমার সাথে যোগাযোগ করা হলে ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ইউপিডিএফের অস্ত্রধারী লোকজন তাদের দুই সক্রিয় কর্মীকে অপহরন করে খুন করেছে। তিনি এ ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

 

তবে ইউপিডিএফের রাঙামাটি জেলা ইউনিটের প্রধান শান্তি দেব চাকমা এ ঘটনার সাথে তার সংগঠন জড়িত নয় দাবী করে জানান, এমএন লারমা সমর্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির দুই কর্মী অপহরণ ও খুনের ঘটনায় ইউপিডিএফ দায়ী নয়। এ অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি দাবী করে জানান, দীর্ঘ দিন ধরে এমএন লারমা সমর্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ও নব্য মুখোশ বাহিনী ( ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক) দুই দল মিলে নানিয়ারচরসহ বিভিন্ন এলাকায় খুন, অপহরণ ভয়ভীতি করে ত্রাস সৃষ্টি আসছে। স্থানীয় বিক্ষুদ্ধ জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে এমন কাজ করতে পারে বলে তার ধারনা।


নানিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবদুল লতিফ এসব ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, এমএন লারমা সমর্থিত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির দুই কর্মীর মধ্যে গত বুধবার রাতে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং গতকাল দুপুরের দিকে অপর একজনের লাশ পাওয়া গেছে জানতে পেরেছি। লাশ উদ্ধারের জন্য পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে।


উল্লেখ্য, গেল বুধববার দুপুরের দিকে নানিয়ারচর উপজেলার সাবেক্ষং ইউনিয়নের হেডম্যান পাড়ায় একদল দুর্বৃত্ত গুলি করে ইউপিডিএফ কর্মী সুনীল তংচংগ্যা ওরফে জনির ঘটনাস্থলে নিহত হন।
--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

 

উপদেষ্টা সম্পাদক : সুনীল কান্তি দে
সম্পাদক : দিশারি চাকমা
মোহাম্মদীয়া মার্কেট
কাটা পাহাড় লেন, বনরুপা
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।
ইমেইল : [email protected]
সকল স্বত্ব hillbd24.com কর্তৃক সংরক্ষিত