বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে আলীকদম!

Published: 22 Mar 2018   Thursday   

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার আনাচে কানাচে, স্থাপিত বেশীরভাগ রিংওয়েল ও টিউবওয়েলগুলো অকেজু। দুর্ভোগে ধেকা দিয়েছে সাধারণ মানুষ। প্রতিবছর শুষ্কমৌসুমে এ উপজেলায় পানীয় জলের সংকট থাকলেও সমাধানে সরকারী বেসরকারী কোন পর্যায়ে সমন্বিত কোন উদ্যোগ নেই। 

 

সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঝিরি-ছড়া ও ঝরণার পানি দিয়ে চলছে নিত্যদিনের কাজ কারবার। অন্যসব মৌসুমে ঝিরি-ছড়া ও ঝরনার পানি খাবারসহ অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা গেলেও তীব্র তাপদাহে তা দুষিত হয়ে পড়েছে। খাবার পানির প্রকট সংকটে পড়েছে দুর্গম এলাকার বাসিন্দারা।

 

তাপদাহে পাখ-পাখালি ও বন্যপ্রাণীরা পানির উৎস খোঁজে ঝিরি-ছড়ায় নেমে আসছে। যার ফলে পানির শেষ উৎসগুলো এখন দুষিত হয়ে পড়েছে। শুধু দুর্গম এলাকায় নয়। উপজেলা সদর এলাকায়ও বহু পাড়ায় পানির সংকট চলছে। ১নং আলীকদম সদর ইউনিয়নের উত্তরপালং পাড়া, পূর্বপালং পাড়া, প্রভাত পাড়া,দানু সর্দ্দার পাড়া, সিলেটি পাড়া ও আবুমাঝি পাড়া এবং ২ নম্বর চৈক্ষং ইউনিয়নের পূর্ণবাসন, বাঘেরঝিরি, যোগেন্দ্র পাড়া, তারাবনিয়া, রোয়াম্ভু বশির সর্দার পাড়া ও নয়াপাড়া এলাকায় যেসব কুয়া, নলকূপ ও রিংওয়েল রয়েছে সেগুলো প্রায় আশিভাগই পানি মিলছে না। এছাড়াও প্রতিবছর পানির স্থর নিচে নেমে যাওয়ায় দিন দিন পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করছে। যেখানে সামান্য পানি মেলে সেখানে কলসি নিয়ে ভীড় জমান মহিলারা। এক কলসি পানি পেলেই বুঝি স্বস্তি ফিরল মনে। প্রতি বছর চৈত্র ও বৈশাখ মাস না আসতেই এই অবস্থা! না পরে কি হয়! এখন একটাই উপায়, বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করা।

 

স্থানীয় সুত্রগুলো বলেছে, উপজেলার পোয়ামূহুরী, কুরুকপাতা, দোছরী ও মাংগু এলাকায় শতাধিক পাহাড়ি পল্লীতে সহ¯্রাধিক পরিবার বসবাস করছে। সেখানে এখন নিরাপদ পানির উৎস বলতে নেই। গ্রীষ্ম মৌসুম আসতে না আসতে এসব ঝিরি-ছড়ার পানির উৎসও শুকিয়ে যায়। প্রতিবছরই পানির জন্য হাহাকার অবস্থা সৃষ্টি হয় দুর্গমের বাসিন্দাদের। যুগযুগ ধরে ঝিরি-ছড়ার পানি দিয়ে চললেও এখন তাও মিলছে না। দুষিত পানি পান করে পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা।

 

এ ব্যাপারে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের সহকারি প্রকৌশলী মনির আহমদের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

 

আলীকদম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জামাল উদ্দিন জানান, উপজেলার সবখানেই পানি সংকটের খবর পাওয়া যাচ্ছে। যেসব রিংওয়েল সরকারীভাবে বরাদ্দ পাওয়া গেছে তা জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে দেওয়া হয়েছে। দুর্গম এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে কোনো প্রকল্প নেই বলে জানান তিনি।

--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

উপদেষ্টা সম্পাদক : সুনীল কান্তি দে
সম্পাদক : দিশারি চাকমা
মোহাম্মদীয়া মার্কেট
কাটা পাহাড় লেন, বনরুপা
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।
ইমেইল : [email protected]
সকল স্বত্ব hillbd24.com কর্তৃক সংরক্ষিত