পার্বত্যঞ্চলের মানুষের জীবন মানোন্নয়ন ও শান্তি আনায়নে ইউএসএইড’র সহায়তা অব্যাহত থাকবে

Published: 11 Mar 2018   Sunday   

রাঙামাটি ও বান্দরবানে প্রথমবারের সফরে এসেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া ব্লুম বার্নিকাট। সফরকালে প্রথম দিনে সোমবার রাঙামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, চাকমা রাজা ও জেলা প্রশাসকের সাথে পৃথক পৃথক সৌজন্য সাক্ষাত করেছেন।


রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত শেষে সাংবাদিকদের কাছে মার্কিন পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি আনায়ন ও এই অঞ্চলের মানুষের জীবন মানোন্নয়নে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সাহায্য সংস্থা ইউএসএইড’এর সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন।


জানা গেছে, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কক্ষে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রেমলিয়ানা পাংখোয়ার সৌজন্য সাক্ষাত করেন। ঘন্টব্যাপী এ সৌজন্য সাক্ষাতের সময় অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইউএসএইড এর বাংলাদেশ মিশন প্রধান জেনিনা জারুজেলস্কি, জাতিসংঘের পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন সহায়তা প্রকল্পের(ইউএনডিপি-সিএইচডিপি) সহকারী পরিচালক প্রসেনজিত চাকমা, জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা সাদেক আহমেদ, পরিষদ সদস্য জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকম, ত্রিদীব কান্তি দাশ, পরিষদের জনসংযোগ কর্মকর্তা অরুনেন্দু ত্রিপুরা, ইউএনডিপি-সিএইচডিপি বিপ্লব চাকমা, জেলা পরিষদের হিসাব ও নিরীক্ষা কর্মকর্তা খোরশেদুল আলম চৌধুরীসহ ইউএসএইড,এসআইডি,সিএইচটি-ইউএনডিপির কর্মকর্তারা।


সৌজন্য সাক্ষাতে রাষ্ট্রদূত রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের উন্নয়ন কার্যক্রম, পরিষদগুলির কার্যপ্রণালী, হস্তান্তরিত বিভাগগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক এবং পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাচনের ব্যাপারে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন।


ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রেমলিয়ানা পাংখোয়া রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির কারণে বিভিন্ন দাতাসংস্থা পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে এগিয়ে এসেছে। ইতোমধ্যে ইউএনডিপি-সিএইচটিডিএফ এবং রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের যৌথ উদ্যোগে স্বাস্থ্য, প্রাথমিক শিক্ষা, কৃষি এবং পরিষদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে পরিচালিত প্রকল্পগুলির কারণে এলাকার মানুষের যথেষ্ট উপকার সাধিত হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় প্রতিষ্ঠিত ৬৮টি স্কুল জাতীয়করণের আওতাভুক্ত হয়েছে। সম্প্রতি এসআইডি-সিএইচটি-ইউএনডিপি অধীনে কৃষি ক্ষেত্রে উন্নয়নের তৃতীয় পর্যায়ের প্রকল্প কার্যক্রম শুরু হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন, পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী ভূমি, পুলিশ, বন পরিষদে হস্তান্তর এবং পার্বত্য জেলা পরিষদসমূহের নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ জেলার প্রকৃত উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব। তিনি এ জেলার দারিদ্র বিমোচন কর্মসূচি এবং সামগ্রীক আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন দাতা সংস্থার সহযোগিতা কামনা করেন।


এদিকে, এর আগে সকালে রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট চাকমা সার্কেল চীফ রাজা ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায় ও রানী য়েন য়েন এর সাথে রাজ কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাত করেন। তবে তাদের মধ্যে কি কি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা জানা যায়নি। দুপুরের দিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ কার্যালয়ে পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা( সন্তু লারমা) ও জেলা প্রশাসক মোঃ মামুনুর রশিদের সাথে পৃথক পৃথক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।


সফরের দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার জেলার বরকল উপজেলার বেগেনাছড়ি এলাকায় ইউএসএইড এর অর্থায়নে গ্রামীণ বন সংরক্ষন প্রকল্পের কার্যক্রম পরিদর্শন এবং বিকালের বান্দরবানের উদ্দেশ্য তার রাঙামাটি ত্যাগ করার কথা রয়েছে।
একটি সূত্র জানিয়েছে, সন্তু লারমার সাথে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাতকালে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন বিষয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ-আলোচনা হয়েছে।
--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

উপদেষ্টা সম্পাদক : সুনীল কান্তি দে
সম্পাদক : দিশারি চাকমা
মোহাম্মদীয়া মার্কেট
কাটা পাহাড় লেন, বনরুপা
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।
ইমেইল : [email protected]
সকল স্বত্ব hillbd24.com কর্তৃক সংরক্ষিত