আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের বাঁধার মূখে কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভা স্থগিত

Published: 11 Oct 2017   Wednesday   

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি দিলদার হোসেন মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভায় অংশগ্রহণ করতে গেলে আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বাঁধার মূখে যোগদান করতে পারেননি। পরে উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতি সামাল দিতে উপজেলা প্রশাসন থেকে সভার কার্যক্রম স্থগিত ঘোষনা করা হয়েছে।বুধবার উপজেলা পরিষদের মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভা নির্ধারিত ছিল।

 

জানা যায়, বুধবার কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের নির্ধারিত আইন-শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর পর পর উপজেলা পরিষদের মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভা নির্ধারিত ছিল। এ সভায় কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি দিলদার হোসেন মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভায় অংশগ্রহণ করতে গেলে আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বাঁধার দেন। বাঁধার মূখে উপজেলা চেয়ারম্যান দিলদার এসময় সভাকক্ষ ত্যাগ করতে বাধ্য হন। এসময় কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল আলম ও থানার ওসি সৈয়দ মোহাম্মদ নুর ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। বিক্ষোভকারীদের কয়েকজন সভা কক্ষে ঢুকে কয়েকটি জানালার পর্দা ছিড়ে ফেলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এই উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতি শান্ত রাখতে উপজেলা প্রশাসন থেকে মাসিক সমন্বয় সভার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

 

এদিকে, উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানসহ আরো কয়েকজন পরিষদ সদস্য উপজেলা চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে উন্নয়ন সমন্বয় সভা বয়কট করেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নুরনাহার বেগম উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথেই অবস্থান করছিলেন এসময় কাপ্তাই উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অংসুইছাইন চৌধুরীর নেতৃত্বে আ.লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করে উপজেলা রেষ্ট হাউজের সভা কক্ষে গিয়ে গেইট বন্ধ করে দেয়ার চেষ্টা চালান। এরপর তারা উপজেলা কেন্দ্রিয় শহীদ মিনার চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। 

 

কাপ্তাই উপজেলা আ.লীগের সভাপতি অংসুইছাইন চৌধুরী জানান, দিলদার হোসেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবার উপজেলা বিএনপির সভাপতিও। তিনি দলীয় কার্যক্রম চালাবেন এতে আমাদের কিছু বলার নেই। কিন্তু তিনি সরকারি অফিসে বসে সরকারি সুযোগ সুবিধা নিয়ে জাতির পিতা ও সরকার প্রধানকে অবমাননা করবেন তা আমরা মেনে নেয়া হবে না। তিনি অবিলম্বে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে তার পদ থেকে অপসারন করার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে আরো জানান,এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হলে তার দায় দায়িত্ব প্রশাসনকেই নিতে হবে। 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল আলম জানান, উপজেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় পরিষদের চেয়ারম্যানের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে আ.লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে এলে পরিস্থিতি সামাল দিতে সভার কার্যক্রম আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।

 

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন একটি মিথ্যা অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে সাজানো মামলা করা হয়েছে দাবী করে জানান, তিনিসহ অন্যরা আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। তিনি অপরাধ করে থাকলে আদালত শাস্তি দেবেন। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে সভা করতে  দেবে না এধরণের আচরণ রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত।

 

উল্লেখ্য, গেল ২৭ আগস্ট কাপ্তাইয়ের ওয়াগ্গা ইউনিয়ন পরিষদের তালা ভেঙ্গে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি উল্টে রেখে ব্যানার ঠাঙ্গিয়ে বিএনপির সদস্য সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধনের সভা করায় কাপ্তাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. দিলদার হোসেন সহ ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ২৫  জনের বিরুদ্ধে কাপ্তাই থানায় মামলা দায়ের করেন ওয়াগ্গা ইউপি চেয়ারম্যান চিরঞ্জিত তঞ্চঙ্গ্যা।

 

গেল ৬ সেপ্টেম্বর কাপ্তাই উপজেলা চেয়ারম্যান দিলদার হোসেনসহ বিএনপির ১০ নেতাকর্মীকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন নেন হাইকোর্ট থেকে। এরপর তারা রাঙামাটি চীফ জুডিশিয়াল আদালত থেকে স্থায়ী জামিন নেন। কাপ্তাই উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি অবমাননার অভিযোগে সরকারি দলের নেতাকর্মীরা দুই মাস ধরে আন্দোলন করে আসছে। তারা উপজেলা চেয়ারম্যানকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন। এর আগে সরকারি দলের নেতাকর্মীদের বিক্ষোভের মূখে গেল ১৯ সেপ্টেম্বরের উন্নয়ন সমন্বয় সভায়ও তিনি যোগদান করতে পারেননি।


--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

উপদেষ্টা সম্পাদক : সুনীল কান্তি দে
সম্পাদক : দিশারি চাকমা
মোহাম্মদীয়া মার্কেট
কাটা পাহাড় লেন, বনরুপা
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।
ইমেইল : [email protected]
সকল স্বত্ব hillbd24.com কর্তৃক সংরক্ষিত