রাঙামাটিতে সমাপ্তি ঘটলো মারমা সম্প্রদায়ের সাংগ্রাই জলকেলি উৎসবের

Published: 20 Apr 2017   Thursday   

পার্বত্য চট্টগ্রামের মারমাদের সামাজিক উৎসব সাংগ্রাই জল উৎসবের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার রাঙামাটিতে বিজু-সাংগ্রাই-বৈসুক-বিষু-বিহু-সাংক্রান শেষ হয়েছে। মারমা জনগোষ্ঠীরা পুরাতন বছরের সমস্ত গ্লানি, দুঃখ, অপশক্তিকে দূর করে ধুয়ে মুছে দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে এই জলকেলি উৎসবে মেতে উঠে থাকেন। 

 

রাঙামাটি সদর উপজেলা মারমা সম্প্রদায়ের উদ্যোগে শহরের আসামবস্তিস্থ নারিকেল বাগান এলাকায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য ও সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার। অনুষ্ঠানে উদ্ধোধক ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা। এ সময় রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান চিংকিউ রোয়াজা, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য মোঃ মুছা মাতব্বর, রেমলিয়ানা পাংখোয়া, রাঙামাটি উপজেলা মারমা সংস্কৃতি সংস্থার জল উৎসব কমিটির আহ্বায়ক মিন্টু মারমা, সাধারণ সম্পাদক মইনুচিং মারমা প্রমুখ।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার বলেন, পুরাতন বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিসত্বারা বিজু-সাংগ্রাই-বৈসুকসহ বিভিন্ন নামে উৎসবটি পালন করে থাকে। এর মধ্যে মারমা জনগোষ্ঠীরা সাংগ্রাই জল উৎসব উদযাপন করে থাকে। এসব উৎসবে সম্প্রীতি ও মৈত্রীর বন্ধন রয়েছে।

 

তিনি আরো বলেন, আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে  একমাত্র পার্বত্য চট্টগ্রামে বিভিন্ন উন্নয়ন হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র জাতিসত্বাদের নিজস্ব মাতৃ ভাষায় লেখা পড়া গ্রহনের জন্য পাঠ্য পুস্তক ও বিজু-সাংগ্রাই-বৈসুক উৎসবের জন্য ক্ষুদ্র  ক্ষুদ্র জাতিসত্বাদের জন্য শুধু এক দিনের নয় তিন দিনের ঐচ্ছিক ছুটির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার নেতৃত্বাধীন সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিসত্বাকে শুধু সংরক্ষণ নয় তাদের ঐতিহ্য,কৃষ্টি,সংস্কৃতি রক্ষায় ও বিকাশের  লক্ষে কাজ করে চলেছে।

 

আলোচনা সভা  শেষে ঐতিহ্যবাহী মং (ঘন্টা) বাজিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন রাঙামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা। জলকেলি উৎসবের ফিতা কেটে উদ্ধোধন করেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার।

 

এরপর শুরু হয় মারমা সম্প্রদায়ের যুবক-যুবতীদের একে অপরকে জল ছিটিয়ে জলকেলি উৎসবে মেতে উঠেন।  জলকেলি উৎসবের পাশাপাশি চলে মনোজ্ঞ সম্প্রীতির সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে সমবেত হয় দূর-দুরান্ত থেকে আগত পর্যটক ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের হাজারো নারী-পুরুষ।  দিন ব্যাপী অনুষ্ঠানটি যেনো পাহাড়ি-বাঙালীর মিলন মেলায় পরিণত হয়।

--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

উপদেষ্টা সম্পাদক : সুনীল কান্তি দে
সম্পাদক : দিশারি চাকমা
মোহাম্মদীয়া মার্কেট
কাটা পাহাড় লেন, বনরুপা
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।
ইমেইল : [email protected]
সকল স্বত্ব hillbd24.com কর্তৃক সংরক্ষিত