পাহাড়ে সম্পদ কমে যাওয়ায় বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে-সন্তু লারমা

Published: 15 Mar 2017   Wednesday   

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা(সন্তু লারমা) বলেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আগের মত আর নেই। কাপ্তাই হ্রদের পানিতে তলিয়ে গেছে ভুমি। হারিয়ে গেছে সম্পদ। অস্বাভাবিক হারে জনসংখ্যা মানুষ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে পাহাড়ে সম্পদ কমে যাওয়ায় বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি পার্বত্যাঞ্চলে সমাজ, রাজনৈতিক, শাসনতান্ত্রিক ব্যবস্থা সঠিকভাবে পরিচালিত হতে পারছে না।

 

তিনি আরো বলেন, প্রয়োজনীয় খাবার সবাই পাচ্ছেন না। কেউ পায় কেউ পায় না। মানুষ যে জিনিস পুষ্টি ভেবে খাচ্ছে সেখানে ভেজাল মিশিয়ে বিষে পরিণত করা হচ্ছে। এটি সারা দেশের চিত্র হলেও পার্বত্য চট্টগ্রামে এর অবস্থা আরো ভয়াবহ। এখানকার বাজার কারোর নিয়ন্ত্রণে নেই। জনস্বার্থে স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করতে চাইলেও নানান জটিলতা তা হচ্ছে না।

 

বুধবার রাঙামাটিতে সাউথ এশিয়া ফুড এ্যান্ড নিউট্রিশন সিকিরিউটি ইনিসিয়েটিভ (এসএএফএনএসআই) পেইজ টু-এর খাদ্য এবং পুষ্টি নিরাপদ বিষয়ক প্রকল্পের কার্যক্রম শুরুর উপলক্ষে আয়োজিত কর্মশালার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ সন্মেলেন কক্ষে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের(এমজেএফ) উদ্যোগে আয়োজিত কর্মশালার সভাপতিত্ব করেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের কর্মসূচি পরিচালক ড. শামীম ইমাম। অতিথিরে বক্তব্যে দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সহকারী নির্বাহী কর্মকর্তা সুপর্ণা চাকমা, সিভিল সার্জন প্রতিনিধি ডা. বিনোধ শেখর চাকমা। অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্যে রাখেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ পরিচালক কৃষ্ণ প্রসাদ মল্লিক, সিআইপিডি’র নির্বাহী পরিচালক জনলাল চাকমা, ডা. বেবী ত্রিপুরা, ডা. দেবরাজ চাকমা, আশিকা নির্বাহী পরিচালক বিপ্লব চাকমা, এনজিও কর্মী লিনা লুসাই প্রমুখ। কর্মশালায় সরকারী-বেসরকারী ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ অংশ গ্রহন করেন।


সন্তু লারমা তার বক্তব্যে আরো বলেন, পাহাড়ের জনগণের স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন, পরিবেশসহ বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন এনজিও কাজ করছে। কিন্তু এগুলোর সবগুলো দৃশ্যমান নয়। তবে স্থানীয় এনজিও সিআইপিডি দুর্গম এখনও কাজ করছেভ তাদের সুনাম লোকমুখে শুনা যায়। জাতীয় পর্যায়ের এনজিওর মধ্যে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন পাহাড়ের মানুষের জীবনধারার সাথে মিশে গিয়ে উন্নয়নের কাজ করছে।

 

ডা. দেবরাজ চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে শুটকি বেশ জনপ্রিয় একটি খাদ্য। কিন্তু এগুলো শুকানো এবং বাজারজাত করণে বেশী পরিমান ঔষধ স্প্রে করা হচ্ছে। ফলে পাহাড়ের আদিবাসীদের স্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে। এগুলো পরীক্ষার জন্য বাজারে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা দরকার। পাশাপাশি জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে।


ডা. বেবী ত্রিপুরা বলেন, পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় গর্ভবতী নারী, শিশুরা পুষ্টিহীনতায় ভুগেন। এখানে সম্প্রদায় ভিত্তিক বিভিন্ন কুসংস্কার তৈরি করতে হবে। এগুলো দুর করে ভালগুলো গ্রহণ করতে হবে।
--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

 

 

উপদেষ্টা সম্পাদক : সুনীল কান্তি দে
সম্পাদক : দিশারি চাকমা
মোহাম্মদীয়া মার্কেট
কাটা পাহাড় লেন, বনরুপা
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।
ইমেইল : [email protected]
সকল স্বত্ব hillbd24.com কর্তৃক সংরক্ষিত