সরকার পার্বত্যাঞ্চলে বসবাসরত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে--বৃষ কেতু চাকমা

Published: 23 May 2015   Saturday   

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা বলেছেন, বর্তমান সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের কল্যাণ ও উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।

 

তিনি বলেন, এ অঞ্চলের নৃ-গোষ্ঠীদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, ভাষা রক্ষায় বর্তমান সরকার রাজধানীর বুকে ১১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহন করেছে। এতে পার্বত্য অঞ্চলের নৃ-গোষ্ঠীদের ঐতিহ্য, পোশাক ও সংস্কৃতি নকশা আকারে ফুটিয়ে তোলা হবে। এর ফলে বাইরের দেশ থেকে আগত পর্যটকরা পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত মানুষের সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা লাভ করবে। তিনি নৃ-গোষ্ঠীদের হারিয়ে যাওয়া প্রাচীণ ঐতিহ্যগুলো ফিরিয়ে আনতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান। 

 

শনিবার শহরের গর্জনতলী এলাকার রোলেক্স স্মৃতি মিলনায়তনে ১৫ দিনব্যাপী ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীদের ঐতিহ্যবাহী নৃত্য প্রশিক্ষন কোর্সের সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্ত্যবে তিনি এসব কথা বলেন।


রাঙামাটিতে ত্রিপুরা কল্যাণ ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত সংস্থার সভাপতি সুরেশ ত্রিপুরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদ সদস্য অংসুই প্রু চৌধুরী, স্মৃতি বিকাশ ত্রিপুরা, অমিত চাকমা (রাজু), জনসংযোগ কর্মকর্তা অরুনেন্দু ত্রিপুরা, ত্রিপুরা কল্যাণ ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের পরিকল্পনা কর্মকর্তা মুক্তিযোদ্ধা প্রীতি কান্তি ত্রিপুরা, সাগরিকা রোয়াজা ও রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন রুবেল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ত্রিপুরা কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ঝিনুক ত্রিপুরা।

 

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত নৃত্য প্রশিক্ষনার্থীদের মাঝে সনদপত্র তুলে দেন। পরে প্রশিক্ষণ গ্রহনকারীদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্ত্যব্যে পরিষদ চেয়ারম্যান আরও সংস্কৃতি , ঐতিহ্য, ভাষা ও পোশাকের মাধ্যমে একটি জাতির পরিচয়। কিন্তু বর্তমানে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণে দিন দিন আমরা আমাদের সংস্কৃতিকে হারিয়ে যেতে বসেছি। আমাদের ঐতিহ্য, ভাষা, পোশাক ও সংস্কৃতিকে আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে সকলের প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের প্রাধান্য দিয়ে সংবিধানে নাম অর্ন্তভূক্ত করেছে এটি আমাদের জন্য একটি বড় প্রাপ্তি। অন্যদিকে এ অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে রাঙামাটিতে মেডিকেল কলেজ চালু করেছে এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কার্যক্রম শুরু করেছে। তিনি বলেন, নিজ নিজ ভাষায় মার্তৃভাষায় শিক্ষা গ্রহণের জন্য জেলা পরিষদ কর্তৃক বই পুস্তক প্রকাশ করেছে পাশাপাশি এ বছর পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের সবচেয়ে বড় উৎসব বিজু, বিহু, সাংগ্রাই উপলক্ষে ৪দিনের ছুটির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে যা আগামী বছর থেকেই কার্যকর হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামবাসীর জন্য বর্তমান সরকার কতটা আন্তরিক এটি তার প্রমাণ।


তিনি আরও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদে ত্রিপুরাদের কোটা অনুসারে নিয়োগ প্রদান ও আগামী অর্থ বছরে ত্রিপুরা ছাত্র-ছাত্রীদের কল্যাণে ছাত্রাবাস নির্মাণের প্রতিশ্রুতী ব্যক্ত করেন।
--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

উপদেষ্টা সম্পাদক : সুনীল কান্তি দে
সম্পাদক : দিশারি চাকমা
মোহাম্মদীয়া মার্কেট
কাটা পাহাড় লেন, বনরুপা
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।
ইমেইল : info@hillbd24.com
সকল স্বত্ব hillbd24.com কর্তৃক সংরক্ষিত