লামায় ভূমি দখলের প্রতিবাদে ও দখলকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবীতে রাঙামাটিতে মানবন্ধন

Published: 10 Sep 2022   Saturday   

বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নে রাবার বাগান কোম্পানী কর্তৃক ম্রো ও ত্রিপুরাদের ভোগ দখলীয় ৪শ একর জমি বেদখলের প্রতিবাদে ও দখলকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবীতে শনিবার রাঙামাটিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

 

মানববন্ধনে অবিলম্বে রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ মালিকদের অবৈধ লীজ বাতিল, জুম ভূমিতে অগ্নিসংযোগকারী ও কীটনাশক ছিটানোকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ, ভূমি সমস্যা সমাধানে পার্বত্য ভূমি কমিশনকে দ্রুত কার্যকর করা ও পার্বত্য চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়নের দাবী জানান।


পার্বত্য চট্টগ্রাম সচেতন জুম্ম ছাত্র সমাজের ব্যানারে জেলা প্রশাসন কার্যালয় চত্বরে আয়োজিত ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধন চলাকালে সমাবেশে রাঙামাটি সরকারী কলেজর শিক্ষাথী মেনন চাকমার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন পাহাড়ী ছাত্র পরিষেদর(পিসিপি) কেন্দ্রীয় সভাপতি সুমন মারমা। বিশেষ অতিথি ছিলেন পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক জগদীশ চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক শান্তিদেবী তংচংগ্যা। বক্তব্যে দেন রাঙামাটি সরকারী কলেজের শিক্ষার্থী মেংসিং মারমা, প্রেনঙি ম্রো।

 

সংহতি ও একাত্মতা জানিয়ে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শান্তিদেবী তনচংগ্যা বলেন, লামায় যে ঘটনাটি ঘটেছে তার কোন যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন। কীটনাশক ছিটানো ও জুমে অগ্নিসংযোগ করায় সেখানকার পরিবেশ বিপর্যয় ঘটেছে। রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানী কতৃক ৪০০ একরের জমি বেদখলের চেষ্টা এবং উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র প্রশাসন কোনভাবে দায় এড়াতে পারে না।

বক্তারা পাহাড়ে একটি বিশেষ গোষ্ঠীর মদদে কিছু সংগঠন পার্বত্য চুক্তি বিরোধিতা করে আসছে বলে অভিযোগ করে বলেন, গত ৭ সেপ্টেম্বর পার্বত্য ভূমি কমিশনের বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও সেই বৈঠকটি কিছু সংগঠন হরতালের ডাক দিয়ে বানচাল করে দিয়েছে। তারা হরতাল ডেকে পাহাড়ের শান্তি চাই না, অশান্তি সৃষ্টি করতে চায়। ভবিষ্যতে যারা চুক্তি বিরোধিতা ও  ভূমি কমিশনের যে কোন কার্যক্রমে কেউ বাঁধা প্রদান করে এ ধরনের হরতাল দেওয়া হয় তাহলে ছাত্র সমাজকে নিয়ে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। 


পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক জগদীশ চাকমা সংহতি জানিয়ে বলেন, ভূমি কমিশনের বিরুদ্ধে যারা আজকে ষড়যন্ত্র করছে তারা চুক্তি বিরোধী এবং এই এলাকার শান্তি বিনষ্টকারী। হরতাল দিয়ে একটি মহল পরিস্থিতিকে ঘোলাতে করার চেষ্টা চালাচ্ছে। লামায় রাবার বাগান কোম্পানী তিনটি গ্রামের ম্রো ও ত্রিপুরাদের উচ্ছেদের লীলা খেলায় মেতে উঠেছে। সেই ভূমি দস্যুদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান তিনি।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে পিসিপির সভাপতি সুমন মারমা বলেন, আজকে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ায় ভূমি বেদখলের ঘটনা একের পর এক বৃদ্ধি পেতে চলেছে। লামায় রাবার বাগান কোম্পানী কতৃক ম্রো ও ত্রিপুরাদের ৪০০ একর জমি জবর দখলের ঘটনা নতুন কোন ঘটনা নয়। বান্দরবানে এর আগেও ৬৪ হাজার একর অধিক জমি জবর দখল করেছে বিভিন্ন গ্রুপ, প্রকল্প ও কোম্পানী। যারা এই ভূমি বেদখলের সাথে রয়েছে তাদের হাত অনেক লম্বা। প্রশাসনের ছত্রছায়ায় ভূমি বেদখলদাররা কীভাবে জমি লীজ পায় তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন সুমন মারমা । ভূমি কমিশন আইন গেজেট হতে ষোল বছর লেগেছে বলেও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, ভূমি কমিশন হলেও কমিশন কীভাবে কাজ করবে তার বিধিমালা এখনও প্রণয়ন করেনি সরকার। জনবল ছাড়া কমিশন চলছে আর কমিশনকে অথর্বহ করে রাখা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।


উল্লেখ্য, বান্দরবানে লামার সরই ইউনিয়নের ৩০৩ নং ডলুছড়ি মৌজায় ম্রো ও ত্রিপুরারা বংশপরম্পরায় তিন গ্রামবাসী লাংকম ম্রো পাড়া, জয় চন্দ্র ত্রিপুরা পাড়া ও রেংয়েন ম্রো পাড়ার মোট ৩৯ পরিবার জমি ভোগ দখল করে আসছে দখলকারীরা।
--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

উপদেষ্টা সম্পাদক : সুনীল কান্তি দে
সম্পাদক : সত্রং চাকমা

মোহাম্মদীয়া মার্কেট, কাটা পাহাড় লেন, বনরুপা, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।
ইমেইল : [email protected]
সকল স্বত্ব hillbd24.com কর্তৃক সংরক্ষিত