৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলে চট্টগ্রামে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের র‌্যালী ও সমাবেশ

Published: 20 May 2022   Friday   

বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)-এর ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলে  শুক্রবার বন্দর নগরী চট্টগ্রামে র‌্যালী  ও সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।


পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ  কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক শুভাশীষ চাকমার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘শাসকচক্রের নীল নক্সা ভেস্তে দিতে ছাত্র-জনতা এক হোন, দালাল প্রতিক্রিয়াশীল ও লেজুড়দের মুখোশ উন্মোচন করে দিন, পূর্ণস্বায়ত্তশাসনের লড়াই জোরদার করুন’ এই শ্লোগানকে সামনে সমাবেশে পিসিপি’র কেন্দ্রীয় সভাপতি সুনয়ন চাকমার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সুনীল ত্রিপুরার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল চট্টগ্রাম পূর্ব-৩ অঞ্চলে সভাপতি ভূলন ভৌমিক, প্রগতিশীল চিকিৎসক ডাঃ সুশান্ত বড়ুয়া, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নীতি চাকমা, প্রমূখ। এছাড়াও সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী সভাপতি সাদেকুল ইসলাম সোহেল, বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনে কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি তিতাস চাকমা, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলে অর্থ সম্পাদক এনি চৌধূরী, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সাইফুর রূদ্র। সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পিসিপি’র কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অংকন চাকমা। এসময় উপস্থিত ছিলেন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক থুইক্যাচিং মারমা প্রমূখ।

প্রগতিশীল চিকিৎসক ডাঃ সুশান্ত বড়–য়া  তার বক্তব্যে বলেন, যারা নিপীড়িত জনগণের পক্ষে কথা বলে, মাতৃভূমি-পিতৃভূমির রক্ষার জন্য যারা আন্দোলন করে তাদের জীবন বৃথা যেতে পারে না। আমাদের মা যখন ধর্ষিত হয়, আমাদের ভূমিকে যখন কেড়ে নেওয়া হয় তাহলে আমাদের বেঁচে থাকা আর না থাকার কোন কোন পার্থক্য থাকে না। পাহাড়ি জনগণকে লড়াই সংগ্রাম করে বেঁচে থাকতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি জনগণকে ভাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধ করে ইস্যুভিত্তি কর্মসূচির মাধ্যমে হলেও নিজেদেরকে সংগঠিত হতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে যৌথভাবে আন্দোলন সংগ্রাম পরিচালনা করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, পাহাড়ে প্রতিদিন কোনো না কোনোভাবে নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। শরীরে যতক্ষণ পর্যন্ত রক্ত থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। পাহাড়িদের হারাবার আর কিছুই নেই। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করতে হবে। শাসক গোষ্ঠী পাহাড়ে ভাগ করা শাসন করে নীতি গ্রহণ করেছে। পাহাড়ে প্রতিটি জাতিত্তাদের সংগঠন করে দিয়ে সাম্প্রদায়িক উসকানি সৃষ্টি করে যাচ্ছে।


 তিনি এসব কথা বলেন প্রগতিশীল চিকিৎসক ডাঃ সুশান্ত বড়ুয়া বলেছেন, যারা নিপীড়িত জনগণের পক্ষে কথা বলে, মাতৃভূমি-পিতৃভূমির রক্ষার জন্য যারা আন্দোলন করে তাদের জীবন বৃথা যেতে পারে না। আমাদের মা যখন ধর্ষিত হয়, আমাদের ভূমিকে যখন কেড়ে নেওয়া হয় তাহলে আমাদের বেঁচে থাকা আর না থাকার কোন কোন পার্থক্য থাকে না। পাহাড়ি জনগণকে লড়াই সংগ্রাম করে বেঁচে থাকতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি জনগণকে ভাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধ করে ইস্যুভিত্তি কর্মসূচির মাধ্যমে হলেও নিজেদেরকে সংগঠিত হতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে যৌথভাবে আন্দোলন সংগ্রাম পরিচালনা করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, পাহাড়ে প্রতিদিন কোনো না কোনোভাবে নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। শরীরে যতক্ষণ পর্যন্ত রক্ত থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। পাহাড়িদের হারাবার আর কিছুই নেই। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করতে হবে। শাসক গোষ্ঠী পাহাড়ে ভাগ করা শাসন করে নীতি গ্রহণ করেছে। পাহাড়ে প্রতিটি জাতিত্তাদের সংগঠন করে দিয়ে সাম্প্রদায়িক উসকানি সৃষ্টি করে যাচ্ছে।

সমাবেশে ভূলন ভৌমিক বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে সরকারের মূল জায়গায় পাহাড়ি ছাত্র পরিষদকে আঘাত করতে হবে। বাংলাদেশে যতক্ষণ পর্যন্ত রাষ্ট্র ব্যবস্থা পরিবর্তন না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত পাহাড়ে পূর্ণ স্বায়ত্বশাসন কিংবা সমতলে জগণের মুক্তি হবে না। তাই পাহাড় এবং সমতলে সকল নিপীড়িত মানুষকে একত্র করে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হবে।

সাহেল বলেন, বিশ্ব বিদ্যালয়ে সংখ্যালঘু জাতিসত্বাদের ভাষা ইনস্টিটিউট গঠন করে ভাষা কোর্স হিসেবে চালু করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বলতে কিছু নেই। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকারী দলের দখলদারিত্ব। পাহাড় আর সমতলে সংকটকর মিলিয়ে আগামী দিনের সংগ্রামকে পরিচালনা করতে হবে। পাহাড় এবং সমতলে নিপীড়নের বিরুদ্ধে সব ছাত্র-সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করতে হবে।


সমাবেশে পিসিপি’র সভাপতি সুনয়ন চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি জনগণের অধিকার আদায়ের লে পিসিপি নিরলসভাবে দীর্ঘ সময় ধরে লড়াই সংগ্রাম করে আসছে। ৩৩ বছরে অনেক গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে পিসিপি’র। শিার সংগ্রামের পাশাপাশি পাহাড়-সমতলে ভূমি রার আন্দোলন, নারী নির্যাতন ও শিার্থীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের লে লড়াই সংগ্রাম করে যাচ্ছে। পিসিপি ছাত্রসমাজকে সংগঠিত করে আপোষহীনভাবে শাসকগোষ্ঠীর সকল ধরনের অন্যায় অত্যাচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাড়িয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে শাসকগোষ্ঠীর সকল ষড়যন্ত্র ভেস্তে যাওয়ায় ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পিসিপি’র নেতা-কর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন, ধরপাকড়, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে ছাত্র সমাজ আজ দিশাহীন। ছাত্র আন্দোলনের নামে ব্যাঙের ছাতার মতন অনেকগুলো ভূঁইফোড় সংগঠন গড়ে উঠেছে। তারা আন্দোলনের নামে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের নাম ভাঙ্গিয়ে ছাত্র সমাজকে বিভ্রান্ত করার অপ্রপয়াস চালাচ্ছে। ছাত্রদের মাঝে আন্দোলন সংগ্রামের বুলি আওড়ালেও প্রকৃতপে তাদের কাছে ব্যক্তিস্বার্থ ব্যতিত ছাত্রদের ও জনগণের অধিকারের প্রশ্নে তাদের কোন কর্মসূচি দেখা যায় না। ছাত্র সমাজকে এসব সংগঠন থেকে বিরত ও সতর্ক থাকতে হবে।


নারী নেত্রী নীতি চাকমা বলেন, পাহাড়ি নারীরা আজ কোথাও নিরাপদ নয়। তাদেরকে নিজ বাড়িতেও ধর্ষণ-নির্যাতেনের শিকার হতে হচ্ছে। গত কয়েকদিন আগেও সাজেক পর্যটন এলাকা কংলাক পাড়ায় সেটলার কর্তৃক এক ত্রিপুরা কিশোরী ও বান্দরবানে এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ত্রিপুরা নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছিল। তিনি পাহাড়ি নারীদের ওপর চলা নিপীড়ন-নির্যাতন প্রতিরোধ করতে নারী সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
--প্রেস বিজ্ঞপ্তি।  

উপদেষ্টা সম্পাদক : সুনীল কান্তি দে
সম্পাদক : সত্রং চাকমা

মোহাম্মদীয়া মার্কেট, কাটা পাহাড় লেন, বনরুপা, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।
ইমেইল : [email protected]
সকল স্বত্ব hillbd24.com কর্তৃক সংরক্ষিত