রাঙামাটিতে নির্মাণাধীন সেতু ধসে শ্রমিক নিহত, আহত ১৭

Published: 28 Apr 2022   Thursday   

বৃহস্পতিবার রাঙামাটি-কাপ্তাই সড়কের সদর উপজেলার মগবান ইউনিয়নের বড়াদম এলাকায় নির্মাণাধীন একটি সেতু ঢালাইয়ের সময় সেন্টারিং ধসে এক নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।  এ ঘটনায়  আরো ১৭ জন আহত হয়েছেন। নিহত শ্রমিকের নাম মো. রফিক (৩৮)। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 

রাঙামাটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) থেকে এ ঘটনার জন্য কাজের ঠিদকাদারকে দোষারুপ করেছে। এ ঘটনায় ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি আগামী দুই দিনের মধ্যে প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।


জানা গেছে, রাঙামাটি-আসামবস্তি-কাপ্তাই সড়কের মোট দুরত্ব ১৯ কিলোমিটার। এই সড়কের মধ্যে বড়াদম এলাকার স্থানে ঝুকিপূর্ন বিবেচনা করে সেতু নির্মানের হাতে নেয় এলজিইডি।  ১২০ মিটার দৈর্ঘ্য এই সেতুর ব্যয় ধরা হয়  প্রায় ৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। সেতুর কাজের কার্যাদেশ খাগড়াছড়ির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সেলিম অ্যান্ড ব্রাদার্স পেলেও উপঠিকাদার হিসেবে কাজটি বাস্তবায়ন করছেন মেসার্স এসএস ট্রেডার্সের সত্ত¡াধিকারী ও রাঙামাটি জেলা যুবলীগ নেতা জসিম উদ্দীন। গত দুমাস ধরে এ সেতুর কাজ চলছিল। গতকাল রাঙামাটি সদর উপজেলার মগবান ইউনিয়নের বড়াদম এলাকায় রাঙামাটি-আসামবস্তি-কাপ্তাই সড়কের এই গার্ডার সেতুতে শ্রমিকরা ঢালাই ও সেন্টারিং এর কাজ  করছিল। সকাল ৯টার দিকে শ্রমিকরা ঢালাইয়ের স্থানের উপরেই মিক্সার মেশিন রেখে কাজ করার সময় মেশিনের অতিরিক্ত ভায়ব্রেশনের কারণে স্প্যানের জয়েন্টে নড়বড়ে হয়ে যায়। ফলে কাজ শুরুর ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যেই মিক্সার মেশিনসহ গার্ডারের মধ্যবর্তী ঢালাইয়ের জন্য প্রস্তুতকৃত ৩৬ মিটার অংশ ধসে গিয়ে ১৮ জন শ্রমিক  আহত  হন। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ও অন্য শ্রমিকরা তাদের উদ্ধার করে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে  ভর্তি করে।  রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোঃ রফিক একজন শ্রমিক মারা যান। তার গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা থানায়। আহত ১৭ জনেই হাসপাতালে  চিকিৎসাধীণ রয়েছেন। তাদের মধ্যে মধ্যে কাওসার, খলিল,শাহ আলম ও সুজনের  আবস্থা গুরুত্বর।


রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ত্রিতন চাকমা জানান, সেতু ধসে পড়ে আহত বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজন মারা গেছেন এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।


রাঙামাটি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মাহমুদা বেগম জানান, এটি অবহেলাজনিত কারণেই হয়েছে বলে জানা গেছে। মামলা হলে অবশ্যই দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এলজিইডির রাঙামাটি সদর উপজেলা প্রকৌশলী প্রণব রায় চৌধুরী জানান, শ্রমিকরা সেতুর উপর মিক্সার মেশিন রেখে কাজ করার সময় অতিরিক্ত ভাইব্রেশনের কারণে স্প্যানের জয়েন্টে সমস্যা হয়ে মিক্সার মেশিনসহ গার্ডারের মধ্যবর্তী ঢালাইয়ের জন্য প্রস্তুতকৃত ৩৬ মিটার অংশ ধ্বসে গিয়ে শ্রমিকরা আহত হয়েছে। এসময় তাদের তদারকির কাজে নিয়োজিত লোকজন থাকলেও কেউ হতাহত হননি জানানও তিনি।  

রাঙামাটির এলজিইডি এর নির্বাহী প্রকৌশলী আহামদ শফি বলেন, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলীকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে তদন্ত রিপোর্ট জমাদানের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এ ঘটনাটি সম্পূর্ণ ঠিকাদারের অবহেলার কারণে ঘটেছে। তবে তদন্ত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন পেলেই ঘটনার বিস্তারিত  বলা যাবে।
--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

 

 

 

উপদেষ্টা সম্পাদক : সুনীল কান্তি দে
সম্পাদক : সত্রং চাকমা

মোহাম্মদীয়া মার্কেট, কাটা পাহাড় লেন, বনরুপা, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।
ইমেইল : [email protected]
সকল স্বত্ব hillbd24.com কর্তৃক সংরক্ষিত