নিজের তোলা ছবি বিক্রি করে পাহাড়ের অসহায় মানুষের পাশে ধর্মরাজ

Published: 15 Jun 2020   Monday   

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে গোটা দেশ । এতে অসহায় হয়ে পড়েছে পাহাড়ের অনেক মানুষ। লকডাউন হয়ে যাওয়ায় খাদ্য সংকটে ভুগছেন অনেকে। আর তাদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে এক তরুণ।

 

ইতিমধ্যে তার নিজের পছন্দের তোলা সাতটি ছবি বিক্রি করে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি।  

 

ধর্মরাজ তনচংগ্যা। বেড়ে ওঠা রাঙামাটি পার্বত্য জেলার রাজস্থলী উপজেলায়। ছোটকাল থেকে গান পাগল ছিলেন তিনি। সাথে মঞ্চ নাটকেও তার ছিল ভীষণ আগ্রহ। মাত্র ১২ বছর বয়ছে গ্রামের একটি যাত্রা দলের সাথে অভিনয় করেন। ঢাকার নটরডেম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে ভর্তি হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাবে। এর পর ছবি তোলার নেশা জন্মায় তার।  কলেজে পড়ার সময় একটি রেস্টুরেন্টে পার্টটাইম জব করে কিনে ফেলেন একটি ক্যাননের ডি ৭০০ মডেলের ক্যামেরা। সেখান থেকে মূলত তার ফটোগ্রাফি শুরু। দেশি-বিদেশি অনেকগুলো এক্সিবিশন করেছেন। ২০১৭ সালে ফাইন্ডিং বুড্ডিজম ইন বাংলাদেশ ফটোগ্রাফি কন্টেস্টে অংশগ্রহণ করে তিনি চ্যাম্পিয়ন হন। এছাড়া ফটো ফেস্ট এশিয়ায়  তার আলোকচিত্র এক্সিবিশনে প্রদর্শিত হয়েছে। এছাড়া গত বছর প্রাণ-রুচি আয়োজিত ট্রাভেল ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতায় তার একটি ছবি এক্সিভিশনে জায়গা করে নেন।

 

 

ছবি তোলার পাশাপাশি তিনি গান করেন,গান লিখেন গানের সুরও করেন নিজেই। তিনি একজন মঞ্চ অভিনেতা হিসেবেও বিশ্ববিদ্যালয়ে সবার কাছে পরিচিত। এ পর্যন্ত  তিনি প্রায় ২৫টি নাটকে অভিনয় করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া চবি পাহাড়ী শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক সংগঠন রঁদেভু শিল্পীগোষ্ঠীর একজন প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদক এবং পর্যায়ক্রমে সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে দায়ত্ব পালন করেছেন।

 

ধর্মরাজ জানান,সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেখলাম করোনার সময়ে পাহাড়ের অসহায় মানুষদের সাহায্য করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া কয়েকজন পাহাড়ি শিক্ষার্থী মিলে বনফুলের জন্য জুম্ম তরুণের ভালোবাসা নামে একটা ইভেন্ট খুলেছে । তখন আমার মাথায় চিন্তা আসলো কিভাবে তাদেরকে সহযোগিতা করা যায়। মূলত সেই চিন্তা থেকে আমার এই পরিকল্পনা মাথায় আসে। তারপর আমি সাতটি ছবি ফেসবুকের মাধ্যমে বিক্রির জন্য স্ট্যাটাস দিই। ছবিগুলোতে বেশ সাড়া পড়েছে। প্রতি ছবির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫০০ টাকা। এই সাতটি ছবি বিক্রি করে যা টাকা পেয়েছি সেখান থেকে ১০,৫০০ টাকা সেই ইভেন্টে দিয়েছি। সিদ্ধান্ত নিয়েছি আরও  ১০ টি ছবি বিক্রি করবো । এ করোনার প্রভাব যতদিন থাকবে ততদিন  নিজের তোলা ছবি বিক্রি করে, গান করে পাহাড়ের মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াবো।  

 

তিনি আরও জানান, রাজস্থলীতে ভলেন্টিয়ার অব রাজস্থলী নামের একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন করছি। স্থানীয় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা মিলে রাজস্থলীর দুর্গম এলাকার লোকজনের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছি ৷ আমরা প্রথম ধাপে ১৫৩ পরিবারকে ত্রাণ উপহার দিয়েছি। পরে আরও ২০০ পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আর এই সহযোগিতার জন্য আর্থিকভাবে সহযোগিতা করেছেন ম্যাজিক্যাল লাইট ফাউন্ডেশন,সিঙ্গাপুর নামে একটি প্রতিষ্ঠান 

--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

 

উপদেষ্টা সম্পাদক : সুনীল কান্তি দে
সম্পাদক : দিশারি চাকমা
মোহাম্মদীয়া মার্কেট
কাটা পাহাড় লেন, বনরুপা
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা।
ইমেইল : info@hillbd24.com
সকল স্বত্ব hillbd24.com কর্তৃক সংরক্ষিত