• Hillbd newsletter page
  • Hillbd rss page
  • Hillbd twitter page
  • Hillbd facebook page
সর্বশেষ
৩০ লক্ষ শহীদদের স্মরণে জুরাছড়িতে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন                    বরকলে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন                    ৩০ লক্ষ শহীদদের স্মরণে রাঙামাটিতে ৫৬ হাজার বৃক্ষরোপণ                    জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে পানছড়িতে সংবাদ সম্মেলন                    পার্বত্য চুক্তির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সবাইকে কাজ করতে হবে-বৃষকেতু চাকমা                    পলি ও ড্যাম নির্মাণের কারণে কাপ্তাই হ্রদে রুই জাতীয় মাছের উৎপাদন কমছে                    কাপ্তাইয়ে মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে সংবাদ সন্মেলন                    লামা ও আলীদমে উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান                    পানছড়িতে বিভিন্ন প্রজাতির সাত হাজার বৃক্ষরোপন                    কাপ্তাইয়ে ফলদ বৃক্ষ রোপন পক্ষ ও জাতীয় ফল প্রদর্শনী জমে উঠেনি!                    লামায় ৩বসত ঘর গুঁড়িয়ে দিয়েছে বন্য হাতির পাল                    কাপ্তাইয়ের অতি বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্হ ৯ পরিবারকে টেউটিন ও নগদ টাকা প্রদান                    নানিয়ারচরের ঘিলাছড়িতে এলজিসহ আটক ২                    স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভ-সমাবেশ                    আলীকদমে তিন দিনের ফলদ ও বৃক্ষ মেলার উদ্বোধন                    আলীকদমে হাসপাতালের জমি উদ্ধারে গঠিত তদন্ত কমিটির কাজ শুরু                    খাগড়াছড়িতে তথ্য অধিকার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত                    লামায় মুক্তিযুদ্ধে নিহত ৩০ লাখ শহীদের স্মরনে ৩০ লক্ষ বৃক্ষ রোপন কর্মসূচি                    রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে সেবা গ্রহীতাদের সাথে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যৌথ সভা                    রাঙামাটিতে যুবদলের বিক্ষোভ-সমাবেশ                    কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের উপর হামলা ও শিক্ষকদের লাঞ্ছিতের ঘটনায় পিসিপি’র নিন্দা                    
 

৪ মাস ধরে নিখোঁজ রাঙামাটির বন বিভাগের বাগানমালি খলিল!

স্টাফ রিপোর্টার : হিলবিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 28 Jun 2018   Thursday

চার মাস ধরে নিখোজ রয়েছেন মোঃ খলিল মিয়া নামে রাঙামাটি বন বিভাগের এক বাগানমালির। তার ভাগ্যে কী ঘটেছে তা কিছুই জানতে পারছেন না স্বজনরা। হন্যে হয়ে খলিলকে খুঁজছে পরিবার। অথচ কোথাও খোঁজ মিলছে না। বন বিভাগ বলছে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে খলিলকে বারবার নোটিশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু কর্মস্থলে ফিরছেন না খলিল। নিখোঁজের ব্যাপারে তার পরিবারের পক্ষ থেকে সাধারন ডায়েরি করা হয়েছে।

 

জানা যায়, মো. খলিল রাঙামাটি বন সার্কেলের অধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের রাঙামাটির সদর দফতরে কর্মরত বাগানমালি। ৮ মার্চ অফিসে গিয়ে আর বাড়ি ফেরেননি তিনি। তার এ রহস্যজনক নিখোঁজ নিয়ে চরম হতাশায় পরিবার। খলিল মিয়ার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে একই বিভাগে শিজক রেঞ্জে কর্মরত চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারি বুলবুলের হাত রয়েছে বলে সন্দেহ তাদের।

 

খলিলের স্ত্রী জরিনা বেগম বলেন, খলিল বাড়ি না ফেরায় বিষয়টি প্রথমে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগকে জানিয়েছেন। কিন্তু তার স্বামীর সন্ধান নিয়ে এ পর্যন্ত নূন্যতম সহায়তা করছে না বন বিভাগ। তাদের গরিমসি দেখে পরে রাঙ্গামাটি কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি।

 

তিনি বলেন, যে কোনো কিছুর বিনিময়ে আমার স্বামীকে জীবিত বা মৃত উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা চাই। আমার স্বামীর নিখোঁজের বিষয়ে সব তথ্য ওই বুলবুলের কাছে জানা আছে। কারণ আমার স্বামীর সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের ব্ল্যাকমেইলিং করতে চেয়েছে ওই বুলবুল। বুলবুলই আমার স্বামীকে অপহরণ করেছে বলে আমাদের ধারণা। তাকে আটক করলে আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে। স্বামীর অনুপস্থিতিতে বর্তমানে ২ ছেলে ১ মেয়েকে নিয়ে নিদারুণ কষ্টে আছি। বন বিভাগ কোনো সহায়তাই করছে না। আমি রাঙ্গামাটি বন সংরক্ষক এবং উত্তর বন বিভাগের কর্মকর্তার কাছে গিয়ে অনেক ধরণা দিয়েচি। অথচ মানবিক সহযোগিতাটুকু পাইনি। উল্টো তারা আমাকে বলেছেন, আমি খলিল মিয়ার স্ত্রী কিনা তাতে নাকি তাদের যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

 

খলিল মিয়ার স্ত্রী জরিনা বেগম জানান, ৮ মার্চ অফিসে যাওয়ার পর আমার স্বামী বাসায় না ফেরায় রাতে তার সঙ্গে ফোনে কথা বলি। তখন বলেছেন, চট্টগ্রাম গেছেন। মনে করেছিলাম অফিসের কাজে গেছেন। কিন্তু ১০ মার্চ কল করে দেখি তখন থেকে ফোন বন্ধ। পরে বিষয়টি অফিসে জানালে আমাকে খোঁজ নিতে বলা হয়। এরপর ১৫ মার্চ চট্টগ্রাম থেকে একটি নম্বর থেকে ফোনে কল আসে। রিসিভ করলে অপর প্রান্ত থেকে ফোনে বলা হয়, খলিল মিয়াকে আপনি এসে নিয়ে যান। কিন্তু সঙ্গে অনেক টাকা আনতে হবে। এ বিষয়টিও অফিসকে জানিয়েছি। পরে ফোনটি বন্ধ করে দেয়া হয়।

 

উত্তর বনবিভাগের অধীন শিজক রেঞ্জে কর্মরত বাগানমালি বুলবুল হানিফ বলেন, নিখোঁজ খলিল মিয়া আমার পরিচিত। আমার সঙ্গে চাকরি করেছেন। আমাদের আত্মীয়-স্বজনদের চাকরি নিয়ে দিতে পারবে কথা বলায় আমরা তাকে দফায় দফায় প্রায় ১৬ লাখ টাকা দিয়েছি। সর্বশেষ তাকে ৪ লাখ দিয়েছিলাম। এখন খলিলের পরিবার আমাকে অন্যায়ভাবে ভুল বুঝছে।

 

যোগাযোগ করা হলে রাঙামাটি সার্কেলের বন সংরক্ষক মো. সানা উল্লাহ পাটোয়ারি বলেন, বাগানমালি খলিল মিয়ার দীর্ঘদিন ধরে খোঁজ নেই। তাই অফিসিয়ালি যা যা করার তা বন বিভাগ করছে। বিষয়টি পুলিশকে অবগত করা হয়েছে। এ ছাড়া তার একাধিক স্ত্রী রয়েছে। তার আসল পরিবার কোনটি তা নিয়েও সন্দেহ আছে। এ কর্মচারী যেহেতু নিখোঁজ, তা নিয়ে বন বিভাগের করার বা কী আছে। নিয়ম অনুযায়ী যা করার তাই করে যাচ্ছি। তার পরিবারকে সহায়তা দেয়া হচ্ছে বিভাগ থেকে।

 

পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের কর্মকর্তা মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, এ বাগানমালি খলিল মিয়া উত্তর বন বিভাগের অধীন এক কর্মচারী। তার নিখোঁজ বিষয়টি জেনেছি। আমরা তার অপেক্ষায় আছি। এরপরও কোনো সাড়া না পাওয়ায় সরকারি বিধি মোতাবেক  নিখোঁজ বিষয়ে পত্রিকায় দিয়েছি। পুলিশ সুপারকে অবগত করেছি। তার পরিবারকেও আমরা সার্বিক সহযোগিতা করছি। খলিলের পরিবার যেসব অভিযোগ করেছে, তা সঠিক নয়।

 

পুলিশ সুপার মো. আলমগীর কবির বলেন, এ ব্যাপারে বন বিভাগের কর্তৃপক্ষ মামলা করেছে। নিখোঁজ খলিল মিয়ার ব্যাপারে অনুসন্ধান চলছে। নানা কারণে হয়ত সে আত্মগোপনেও থাকতে পারে বলে আমরা ধারণা করছি।

--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

 

 

আর্কাইভ