• Hillbd newsletter page
  • Hillbd rss page
  • Hillbd twitter page
  • Hillbd facebook page
সর্বশেষ
রাঙামাটিতে বন গবেষণা ইন্সটিটিউটের উদ্ভাবিত প্রযুক্তির পরিচিতি বিষয়ক কর্মশালা                    বিলাইছড়িতে এ্যাডভোকেসী কর্মশালার আয়োজন                    মহালছড়িতে ৬ বছরের শিশু ধর্ষণের অভিযোগে আটক ১                    শিক্ষার কোন বিকল্প নেই -লে: কর্ণেল মেহেদী হাসান                    মানিকছড়িতে ‘সততা’ ফার্মের অসততার বর্জ্যে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী                    খাগড়াছড়িতে ৮৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলছে ঝুঁকিপূর্ন ভবনে পাঠদান                    দীঘিনালায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পানি শোধানাগার কেন্দ্র চালু হয়নি এক দশকেও                    খাগড়াছড়িতে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট’র তিন দিনের বুুনিয়াদী প্রশিক্ষণ শুরু                    রাঙামাটিতে শটপিচ নাইট ক্রিকেট টুর্ণামেন্ট শুরু                    বিলাইছড়িতে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচনা সভা                    প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের লিফলেট বিতরণ                    কাপ্তাই হ্রদে ১মে থেকে তিন মাসের জন্য মাছ শিকার নিষিদ্ধ হচ্ছে                    পাহাড়ে নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে হলে ঝিরি ও ঝর্ণা বাঁচাতে হবে                    অবৈধভাবে পাহাড়ের খাস জমি বিক্রি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে-জেলা প্রশাসক                    পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি গঠিত                    বরকলে হাডুডু খেলাকে কেন্দ্র করে দু’পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষ আহত ৩                    দীঘিনালায় উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে বৈসুক,সাংগ্রাই,বিঝু মেলা                    লামায় ৫৫৩টি গাঁজার গাছ জব্দ, গ্রেপ্তার ১                    বীর শ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুল রউফের শাহাদাৎ বার্ষিকীতে রাঙামাটিতে আলোচনা সভা ও বৃত্তি প্রদান                    রাঙামাটিতে কৃষকলীগের ৪৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত                    ভারতের দাদুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলো বরকলের যুবতি রুপালি চাকমা                    
 

মাতৃভাষার পাঠ্য বই এখনো পায়নি জুরাছড়ি আদিবাসি শিশুরা

সুমন্ত চাকমা,জুরাছড়ি : হিলবিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 17 Feb 2018   Saturday

বিগত শিক্ষাবর্ষে তিন পার্বত্য জেলার সব কয়টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আদিবাসী শিশুদের প্রথমবারের মতো প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ের নিজ নিজ মাতৃভাষার বই দেওয়া হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবছরও প্রথম শ্রেণীতে দেওয়ার কথা থাকলেও, এখনো বই হাতে পায়নি জুরাছড়ি উপজেলার ৬৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিকাংশ আদিবাসী শিক্ষার্থীরা।

 

সরকারের পক্ষ থেকে “ জাতীয় স্কুল শিক্ষা পাঠ্যক্রম (এনসিটিবি)” বিগত শিক্ষাবর্ষে আদিবাসী শিশুদের পাঠদানের উদ্দেশ্যে ফেব্রুয়ারি ও মার্চের শুরুতে তিন পার্বত্য জেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই ও খাতা পৌছনো হয়। কিন্ত প্রয়োজনীয় দাফতরিক নির্দেশনা এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত না হওয়ায় প্রেরিত বই-খাতাগুলো গেল বছর (অথাৎ ২০১৭ সালে) নিজ নিজ বিদ্যালয়ে আলমারিতেই বন্দি ছিল। চলতি শিক্ষাবর্ষে এখনো পর্যন্ত পর্যপ্ত বই সরবরাহ না থাকায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে আদিবাসী শিশুদের মাতৃভাষায় পাঠদান। এছাড়া বিদ্যালয় গুলোতে শিক্ষক সংকট ও স্ব-স্ব মাতৃভাষায় পাঠদানের প্রশিক্ষণ অভাবে পাঠদান নিয়ে সংশয় রয়েছেন অভিভাবকরা।

 

জানা গেছে, পার্বত্য চুক্তির পর কিছু  বেসরকারী প্রতিষ্ঠান (এজিও) একদশক পরিক্ষামূলকভাবে বিদেশী অর্থায়নে তিন পার্বত্য জেলায় বসবাসরত আদিবাসী শিশুদের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার কার্য্যক্রম অব্যহত রাখে। সেই ধারাবাহিকতায় সরকার এনসিটিবির মাধ্যমে পাঠ্যক্রম চুরান্ত করে ২০১৬ সালে দেশে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, রাখাইন ও সাদ্রি  ভাষায় পাঁচটি আদিবাসী শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক বই ও প্রাসঙ্গিক ভাবে অলঙ্কৃত থাতা প্রণয়ন করে প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে পৌছানো হয়। কিন্ত বিদ্যালয়গুলোতে মাতৃভাষায় পাঠদানের দক্ষ শিক্ষক না থাকায় কার্যক্রমটি শুরু থেকেই মূখ থুবড়ে পড়ে। সেচ্ছাসেবী কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সরকারের লক্ষ্যকে এগোতে মাঠে নামলেও তা একেবারেই অপ্রতুল। সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষকদের এসব মাতৃভাষায় পাঠদানের স্বল্প মেয়াদি প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও ইউএনডিপির-সিএইচটিডিএফের স্থাপতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (সম্প্রতি ২৫টি জাতীয়করণকৃত) শিক্ষকদের কোন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি।

 

মৈদং ইউনিয়নের শীলছড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালযের প্রধান শিক্ষক রবি চাকমা বলেন, প্রাক প্রাথমিক আদিবাসী শিক্ষার্থী চাহিদা অনুসারে পাঠ্য বই সরবরাহ করা হয়েছে তুলনা মূলক ভাবে অনেক কম।

 

দুমদুম্যা ইউনিয়নের শীমেই তলী, করল্যাছড়ি, ডানে সুবলং সরকারী সহকারী প্রধান শিক্ষক ¯েœহ কুমার চাকমা, সুনীতি রঞ্জন চাকমা, মুনি শংকর চাকমা বলেন, পর্যাপ্ত পাঠ্য বই দেওয়া হলেও মাতৃভাষার বই এখনো শিক্ষার্থীরা পাইনি। তবে দ্রুত সরবরাহ করার জন্য চিঠি পাটানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।

 

প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও পানছড়ি ভুবন জয় সরকারী মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিত্যা নন্দ চাকমা বলেন, শিশুদের মাতৃভাষায় পাঠদানের ক্ষেত্রে উচ্চারণ, শব্দার্থ ও বানানের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই মাতৃভাষাভিত্তিক পাঠদানের ক্ষেত্রে একটি সমন্বিত প্রশিক্ষণ জরুরী।

 

জুরাছড়ি আদিবাসী ফোরামের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সুরেশ কুরার চাকমা বলেন, শিক্ষকদের স্বল্প মেয়াদি মাতৃভাষায় প্রশিক্ষণ প্রদান করে শিশুদের পাঠদান করানো সম্ভব নয়। গুণগত ভাবে মাতৃভাষায় শিশুদের পাঠদানের লক্ষে প্রতিটি বিদ্যালয়ে মাতৃভাষার শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করা সময়ের দাবী।

 

উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের কর্মকর্তা মোঃ মরশেদুল আলম বলেন, ইতিমধ্যে শিক্ষকদের স্বল্প মেয়াদি শিশুদের মাতৃভাষায় পাঠদানের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

 

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আশিষ কুমার ধর বলেন, আদিবাসী শিশুদের মাতৃভাষার পাঠ্য বই সরবরাহ কম তাকায় সকল বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে দ্রুত সরবরাহ করার জন্য চাহিদা অধিদপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে।

 

উপজেলা শিক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ও ভাইস চেয়ারম্যান রিটন চাকমা বলেন, বছর শুরুতে সকল বই শিশুদের হাতে তুলে দেওয়ার কথা থাকলেও সঠিক সময়ে মাতৃভাষার বই না পৌছানো খুবই দুঃখজনক। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য আলোচনা করা হবে।

--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

আর্কাইভ