• Hillbd newsletter page
  • Hillbd rss page
  • Hillbd twitter page
  • Hillbd facebook page
সর্বশেষ
নানিয়ারচরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফের এক কর্মী নিহত                    জুরাছড়িতে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচের আয়োজন                    মহালছড়িতে পূজামন্ডপ পরিদর্শন ও স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প উদ্বোধন                    বরকলে ১৩টি গ্রামে নতুন বিদ্যুৎ লাইন সংযোগের জন্য দাবী                    রাঙামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগের উদ্বোধন                    রাঙামাটিতে বিভিন্ন পূজামন্ডপে পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের পরিদর্শন                    সরকার সাফল্য নিয়ে চিত্র প্রদর্শন ও আলোচনা সভা রাজস্থলীতে                    আলীকদমে গরু ব্যবসায়ীর নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৬                    মহিলাদের আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলতে চন্দ্রঘোনা ইউপি চেয়ারম্যানের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ                    রাঙামাটিতে জেএসএসের চিকিৎসা বিভাগের ২ সদস্যকে চাদা রশিদসহ আটক                    বাঘাইছড়িতে সৌখিন ফুটবল ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত                    বরকলে আনসার ভিডিপি’র সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা                    মহালছড়িতে বিশ্ব খাদ্য দিবস উদযাপন                    জুরাছড়িতে শিক্ষার মান উন্নয়নে মতবিনিময় সভা                    দেশ থেকে অশুভ শক্তি বিনাশে সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান-বৃষ কেতু চাকমা                    বুধবার থেকে রাঙামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগ শুরু                    রাঙামাটিতে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত                    বরকল ও জুরাইছড়িতে ৫ দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই, চরম দুর্ভোগ                    রাঙামাটিতে বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস পালিত                    মহালছড়িতে গাঁজাসহ ১ যুবককে আটক                    খাগড়াছড়িতে গৃহবধূ হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদন্ড                    
 

৮ ডিসেম্বর পুরোপুরি শত্রু মুক্ত হয় রামগড়

শ্যামল রুদ্র:রামগড় (খাগড়াছড়ি) : হিলবিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 12 Dec 2017   Tuesday

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সাবেক মহকুমা শহর রামগড়ের একটা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। রামগড় ছিল মুক্তিযুদ্ধের একনম্বর সেক্টরের অধীন অন্যতম বেইস সেন্টার। মুক্তিযুদ্ধে প্রথম শহীদ সেনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন আবতাবুল কাদের বীরোত্তম রামগড়ের মাটিতেই শায়িত রয়েছেন।


মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হেমদা রঞ্চন ত্রিপুরা, সুবোধ বিকাশ ত্রিপুরা (সদ্য প্রয়াত) ও মিন্টু চক্রবর্তীর সঙ্গে আলাপ চারিতায় জানান,স্বাধীনতা যুদ্ধের সেই উত্তাল দিনগুলোতে রামগড়ের মানুষ গড়ে তুলেছিল সংগ্রাম কমিটি। রামগড় আওয়ামীলীগের উদ্যোগে ১৯৭১-এর ১৬ মার্চ রামগড় বাজারের বনবীথি বোর্ডিংয়ে এই কমিটি গঠনের জন্য এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। মরহুম কাজী রুহুল আমীনকে আহবায়ক ও প্রয়াত সাংবাদিক সুবোধ বিকাশ ত্রিপুরাকে যুগ্ম আহবায়ক করে সংগ্রাম কমিটি গঠিত হয়। এই কমিটির অন্য সদস্যদের কয়েকজন হলেন, সুরেশ মোহন ত্রিপুরা (অবসর প্রাপ্ত জেলা তথ্য কর্মকর্তা), বনবীথির মালিক মংলাগ্য মারমা, আজিজুর রহমান, যতীন্দ্র কুমার নাথ, কংচাই চেীধুরী (হেড ম্যান) । কমিটি গঠনের পর পরই মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক বিভিন্ন কর্মকান্ড শুরু করেন। ২৯মার্চ ‘৭১ চট্রগ্রাম থেকে জহুর আহমেদ চৌধুরী এবং এম আর সিদ্দিকী রামগড় হয়ে আগরতলা যান। রামগড় অবস্থানকালে তারা স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপ করে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন।


এ দিকে, স্বাধীনতার একচল্লিশ বছর পর ২০১২ সালের ২০মে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন প্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম শহীদ মুক্তিস্বযোদ্ধাদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতি স্বাধীনতার ভাস্কর্য ‘বিজয়’ এর শুভ উদ্বোধন করেন রামগড়ে। ওই সময় (উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে)তিনি বলেন, ২৬মার্চ থেকে ২মে পর্যন্ত রামগড় ছিল স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রাণকেন্দ্র। পরবর্তী সময় ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা থেকে এই অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়। রামগড়,রাঙামাটি ও আগরতলা ছাড়া আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেহারাই অন্যরকম হয়ে যেত। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে তিনি পার্বত্য চট্রগ্রামের জেলা প্রশাসক ছিলেন। ওই সময় রাঙামাটি, বান্দরবান ও রামগড় এই তিন মহকুমা নিয়ে ছিল পার্বত্য চট্রগ্রাম জেলা।


মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন রামগড় রণাঙ্গনের স্মৃতিচারণ করে এইচ টি ইমাম বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের এই জায়গাটি ছিল আমাদের জন্য সফল চারণ ভূমি। এখানকার সাধারন মানুষের সাহায্য সহযোগিতা না পেলে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের কিছু সদস্য দিয়ে কী যুদ্ধ করা যেত? মোটেই সম্ভব ছিল না। ভারত সরকার আমাদের সম্পূর্ণ সহযোগিতা দিয়েছে। আমি নিজে রামগড় সীমান্তে অস্ত্রের চালান গ্রহণ করেছি ভারতীয় সেনা কর্মকর্তা কর্নেল ঘোষের কাছ থেকে।

 

রামগড়ে এতো সব ঘটনা ঘটেছে যা বলে শেষ করা যাবে না। রামগড়ের কথা মনে হলেই মনে পড়ে যায় সেই সব উত্তাল দিনগুলোকে, আমি তখন স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ি। চট্রগ্রাম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরা সব অধ্যাপকেরা রামগড় এসে আশ্রয় নিয়েছেন। চট্টগ্রাম কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্রের ছোট ট্রান্সমিটারটি গেরিলা যোদ্ধারা কাঁধে করে রামগড় নিয়ে আসেন। পরে বিএসএফ’ এর সহযোগিতায় ত্রিপুরার সাবরুমের বগাফা নামক স্থানে এটি বসানো হয়।

 

ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী যখন শুনলেন বড় বড় চিন্তাবিদ ও মুক্তিযোদ্ধারা রামগড়ে একত্রিত হয়েছেন তিনি তখন আগরতলায় এসে আমাদের খবর দেন। অধ্যাপক আনিসুজ্জামান,এডভোকেট সিরাজুল হক,মি. মল্লিক সহ আমি তাঁর সঙ্গে দেখা করি। আমরা আগেই ঠিক করে রেখেছিলাম তাঁর কাছে কি চাইব। বাঙ্গালি জাতিকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য বিশেষ প্রয়োজন ছিল সম্প্রচার যন্ত্রের। উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ট্রান্সমিটার চাইলাম তাঁর কাছে। তিনি বললেন ঠিক আছে, ব্যবস্থা হয়ে যাবে। তারপর কলকতা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র চালু হলো। আপনারা সবাই জানেন কি ভূমিকা রেখেছিল মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র।


মুক্তিযোদ্ধা সালেহ আহমেদ, কালা চাঁন দেব বর্মণ জানান, ১এপ্রিল ‘৭১সালে ভারত থেকে দুই ট্রাক গোলাবারুদ রামগড় পৌঁছলে সেগুলো গ্রহণ করেন তৎকালীন ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলাম (পরে আওয়ামীলীগ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী)। তাঁর সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা হারুণ। প্রাপ্ত গোলাবারুদ যাতে বৃহত্তর চট্রগ্রামের বিভিন্ন স্থানে দ্রুত পৌঁেছ দেওয়া যায় তার ব্যবস্থা করেন দোস্ত মোহাম্মদ চৌধুরী, সুলতান আহমেদ, নূর বক্স মিয়া এবং বাজার সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন। ২এপ্রিল‘৭১ পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক হোসেন তোওফিক ঈমাম সংক্ষেপে এইচ টি ঈমাম (বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রসাসন বিষয়ক উপদেষ্টা) রামগড় আসেন। সঙ্গে করে তিনি প্রচুর অর্থ নিয়ে আসেন এবং রামগড়ে অবস্থিত ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান ( বর্তমানে সোনালী ব্যাংক) এর ভোল্ট ভেঙ্গে সংগৃহীত অর্থ অস্থায়ী বিপ্লবী সরকারের হাতে তুলে দেন।

 

বিপ্লবী সরকারের হাতে প্রথম বৈদেশিক মুদ্রা তুলে দেওয়ার কৃতিত্ব যার, তিনি হলেন মানিকছড়ির মং রাজা মংপ্রুসাইন। মুক্তিযুদ্ধে যার অবদান চির স্মরণীয়। এই নৃপতি আখাউরা ও ভৈরব অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধ করেন। তখন তাঁকে সম্মান সূচক কর্নেল পদমর্যাদায় ভূষিত করা হয়। তথ্যানুসন্ধানে আরও জানা যায়, রাজা মংপ্রু সাইন নিজের ৩৩টি বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র, ৪টি গাড়ি এবং অনেক নগদ অর্থ দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেন। ভারতে পালিয়ে যাওয়ার প্রাক্কালে চট্টগ্রাম অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ মং রাজার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন, খেয়েছেন এবং নিরাপদে রামগড় সীমান্ত অতিক্রম করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার আলবদর বাহিনী মং রাজার ৮টি হাতি, ৭টি ঘোড়া,১৭০টি মহিষ, ১৬৬৩টি গরু, গোলায় রক্ষিত ৯০ হাজার আড়ি ধান, ২৭০০টি চেয়ার এবং অনেক মূল্যবান ফার্নিচার, ১৮টি পাওয়ার টিলার, ১০টি জেনারেটর, ১৫ হাজার লোককে আপ্যায়ন করার মত সরঞ্জামাদি, অজস্ত্র স্বর্ণালংকার ও কয়েক কোটি টাকার ধনসম্পদ লুটে নেয়।


৮এপ্রিল‘৭১ ক্যাপ্টেন আবতাবুল কাদের রামগড় আসেন। তাঁর নেতৃত্বে পুলিশের হাবিলদার আবুল কাসেম স্বাধীনতাকামী জনগণকে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন। ২৭এপ্রিল‘৭১ মহালছড়িতে শত্রুদের সঙ্গে সম্মুখসমরে যখন সদ্য বিবাহিত ক্যাপ্টেন আবতাবুল কাদের শহীদ হন তখনো তাঁর হাতে বিয়ের মেহেদির রঙ জ্বলজ্বল করছিল। রামগড় কেন্দ্রীয় মসজিদের তৎকালীন ইমাম মৌলভী মোহাম্মদ মোস্তফা রামগড়ে তাঁর জানাজা পরান।“ একটি পাকিস্তানি সৈন্যকে খতম করার অর্থ হচ্ছে এ দেশের অন্তত এক লাখ নরনারীকে মৃত্যু অথবা নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করা” অধিনস্থ সৈন্যদের উজ্জীবিত করতে এ কথাটি প্রায়ই বলতেন ক্যাপ্টেন আফতাবুল কাদের।


৫মে‘৭১ হেমদা রঞ্জন ত্রিপুরার নেতৃত্বে ১৬ সদস্যবিশিষ্ট একটি মুক্তিযোদ্ধা দল গঠন করা হয়, যা ছিল বৃহত্তর পার্বত্য চট্রগ্রামের প্রথম মুক্তিযোদ্ধা দল। পরবর্তী সময়ে এর সদস্য সংখ্যা প্রায় ৮ হাজারে দাঁড়ায়। মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হচ্ছেন সুবোধ বিকাশ ত্রিপুরা, সমর চক্রবর্তী, সালেহ আহমেদ, মনসুর আহমেদ, কালাচাঁন দেববর্মণ,সন্তোষ নাথ,নীলকমল ত্রিপুরা, মুলকুতুর রহমান,ধীমান বড়ুয়া, মঙসিউ মারমা প্রমুখ। দল গঠন করার পর প্রথমেই সুলতান আহমেদ এবঙ মোয়াজ্জেম হোসেন মাস্টারের নেতৃত্বে রামগড় পিলাকমুখ থেকে পাগলাপাড়া, সেম্প্রুপাড়া,বুদংকুমারী পাড়া হয়ে যোগ্যাছলা এবং রানীর হাট পর্যন্ত অপারেশন শুরুহয়।

 

পাক সেনাদের সঙ্গে সেম্প্রুপাড়ায় সরাসরি যুদ্ধে ১২জন পাকিস্তানী সৈন্য নিহত এবং ১৫ থেকে ২০জন আহত হন। অক্টোবরের মাঝামাঝি ক্যাপ্টেন মাহফুজের ( পরে কর্নেল এবং জিয়া হত্যায় জড়িত থাকার দায়ে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত) নেতৃত্বে রামগড় মহামুনির দারোগাপাড়ায় এক সফল অপারেশনে পাকবাহিনীর একজন কর্নেলসহ ১৭জন পাকসেনা নিহত হয়।


যুদ্ধকালীন একটি ঘটনার স্মৃতিচারণ করে হেয়াকো বনানী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ফারুকুর রহমান এই প্রতিবেদককে বলেন, রামগড়ের অপর পাড় সাবরুম( ভারতীয় অংশ)। মাঝ খানে ফেনী নদী প্রবাহমান। তখন আমি দশ/এগার বছরের বালক। একদিন বিকালে ওই পাড় থেকে আমিসহ কয়েকজন বন্ধু লক্ষ্য করি পরস্পরের সঙ্গে কোমরে দঁিড় বাধা বেশ কয়েকজন তরুনীকে নদীতে গোসল করাচ্ছে। পরে খবর নিয়ে জেনেছি বর্বর পাকিস্তানী বাহিনী রামগড় পোষ্ট অফিসের দোতলায় চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ ছাত্রীকে আটকে রেখে দিনের পর দিন পাশবিক অত্যাচার চালিয়েছে। ওই নির্মম দৃশ্যের অপর প্রত্যক্ষদর্শী বাগান বাজার গ্রামের বাসিন্ধা অনন্ত চক্রবর্তী বলেন, এঁদের থেকে দুই নারী সম্পূর্ণ উলঙ্গ অবস্থায় কোন রকমে পালিয়ে ভারতীয় অংশে ওঠতে সক্ষম হন। তখন বিএসএফ এর ( ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী) শিখ সদস্যরা মাথার পাগড়ি খুলে বীরাঙ্গনাদের পড়িয়ে দেন। এ করুন দৃশ্য কখনও ভুলার নয়। রামগড়ের মুক্তিযোদ্ধা সুবোধ বিকাশ ত্রিপুরা(প্রয়াত) ও সালেহ আহমদের সঙ্গে কথা বলে এ ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।


তাঁদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, রামগড়ের নাম না জানা অসংখ্য দামাল সন্তান ওই সময় শহীদ হয়েছেন। এঁদেরই কয়েকজন হচ্ছেন খোকন মিয়া, আবদুল লতিফ মেম্বার, মুছা মিয়া, সুধাংশু বিমল বড়–য়া, শুক্কুর মিয়া , আবুল হাসেম ড্রাইভার, মকবুল আহমেদ, জলিল আহমেদ, সামছুল হক, মো. সিরাজ মিয়া, রেনু চক্রবর্তী প্রমুখ। সীমান্তবর্তী শহর রামগড় মুক্তিবাহিনীর নিরাপদ রুট হিসাবে দীর্ঘদিন ব্যবহৃত হয়ে এসেছে। ভারতীয় সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা হওয়াতে কৌশলগত দিক থেকে রামগড় অন্যান্য স্থানের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ ছিল।

 

রামগড় সীমান্তে ভারতীয় অংশের সঙ্গে ফেনী নদীর ওপর কাঠ-বাঁশ দিয়ে নির্মিত হয়েছিল বিরাট আকারের সেতু। মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় সৈন্য সেতুটি ব্যবহার করতো। ভারতীয় সৈন্য রামগড় এসে মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে মিশে খন্ড খন্ড দলে বিভিন্ন অপারেশনে যেত। রামগড় সীমান্ত লাগোয়া ত্রিপুরার কাঁঠালছড়ি, হরিণা, ছোট খিল, কর্তার বাগান, বগা পাহাড়,শিলাছড়ি, ঘোড়াকাপ্পা ও লুথোয়া বাগানসহ অন্য শরণার্থী ক্যাম্পগুলো ছিল বাংলাদেশি লোকে লোকারন্য।


মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন যেসব বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব রামগড় এসেছিলেন তাঁরা হলেন, চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ আর মল্লিক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সৈয়দ আলী আহসান, মানিকছড়ির রাজা মংপ্র“ সাইন (মুক্তিযুদ্ধের সময় সন্মানসূচক কর্নেল উপাধি প্রাপ্ত) শিল্পপতি একেখান, জহির উদ্দিন খান, এম এ হান্নান, এ ওহাব, এস এ মান্নান, আবদুল্লাহ আল হারুণ, আবদুল্লাহ আল নোমান, মির্জা আবুল মনসুর, মোশারফ হোসেন ইঞ্জিনিয়ার, প্রখ্যাত সাংবাদিক অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ, ক্যাপ্টেন কাসেম, অধ্যাপক নুরুল ইসলাম, চৌধুরী ডা.মান্নান, খাগড়াছড়ির ডা. মো. সিরাজুল ইসলাম, ডা. এস বি বিশ্বাস, প্রখ্যাত চলচিত্র অভিনেত্রী কবরী প্রমুখ।


বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মরহুম রাষ্ট্রপতি (তৎকালীন মেজর) জিয়াউর রহমান বেশ কিছুদিন রামগড়ে অবস্থান করে যুদ্ধ পরিচালনা করেন। বর্তমান পোষ্টঅফিসের দ্বিতীয়তলা ছিল তাঁর আবাস স্থল ও কার্যালয়। এইচ টি ইমাম অফিস করতেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কার্যালয়ে। এ ছাড়া কর্নেল মাহফুজ (তৎকালীন ক্যাপ্টেন), কর্নেল(অব:) অলি আহমেদ(তৎকালীন ক্যাপ্টেন), ক্যাপ্টেন ভূঞা, মেজর শামস, লে.জেনারেল(অব:) মীর শওকত আলী(তৎকালীন মেজর), ক্যাপ্টেন মতিন, তৎকালীন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পরবর্তীকালে বিমান বাহিনীর প্রধান সুলতান মাহমুদ প্রমুখ সমরনায়ক মুক্তিযুদ্ধের সময় রামগড় আসেন।


মুক্তিযুদ্ধের প্রায় শেষের দিকে ৬ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনীর গেরিলা আক্রমন ও ভারতীয় যুদ্ধ বিমান থেকে রামগড়ের শত্রু ঘাঁটিতে প্রবলভাবে বোমাবর্ষণ হলে পাক সেনারা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে রামগড় ছাড়তে শুরু করে। ৮ ডিসেম্বর ’৭১ পুরোপুরি শত্রুমুক্ত হয় রামগড়। ওই সময় আওয়ামীলীগের অবিসংবাদিত নেতা রামগড় মহকুমা কেন্দ্রীক মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সংগঠক মরহুম সুলতান আহমেদ মুক্তিপাগল জনগনকে সঙ্গে নিয়ে ভারতীয় শরণার্থী শিবির সাবরুম মহকুমার কাঁঠালছড়ি থেকে বাংলাদেশের পতাকা রামগড় এনে উত্তোলন করেন।


তথ্য সূত্র: ওয়েভ সাইট,মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার হেমদা রঞ্জন ত্রিপুরা ও প্রয়াত সাংবাদিক সুবোধ বিকাশ ত্রিপুরা।

**লেখক- সাংবাদিক শ্যামল রুদ্র,রামগড়, খাগড়াছড়ি।**

আর্কাইভ