• Hillbd newsletter page
  • Hillbd rss page
  • Hillbd twitter page
  • Hillbd facebook page
সর্বশেষ
বিলাইছড়িতে ব্যাটমিন্টন প্রতিযোগিতার উদ্বোধন                    কাপ্তাই ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এসপি মার্মার স্মরণ সভা                    বরকলে মহিলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটি গঠন                    পাহাড় ধসে নিহত ১৯ পরিবারের সদস্যদের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান                    জুরাছড়িতে কোন প্রকার সন্ত্রাসীদের আস্তানা করতে দেওয়া হবে না                    ক্যাডেট কলেজ কল্যাণ ট্রাষ্টের উদ্যোগে বালুখালী ইউপি’র গরীব ও দুস্থ মানুষের শীতবস্ত্র বিতরণ                    আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবসে রাঙামাটিতে সনাকের আলোচনা সভা                    গুইমারায় বিপুল অস্ত্রশস্ত্রসহ ইউপিডিএফ’র ৬ কর্মী আটক                    ৮ ডিসেম্বর পুরোপুরি শত্রু মুক্ত হয় রামগড়                    জুরাছড়িতে কৃষকলীগের কমিটি বিলুপ্তি ঘোষনা!                    টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান হিসেবে কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপির যোগদান                    বিলাইছড়িতে অঘোষিত ‘অবরোধ’!                    জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দিবস উপলক্ষে কাপ্তাইয়ে আলোচনা সভা                    খাগড়াছড়ির বর্ষীয়ান রাজনৈতিক এসএম শফি অসুস্থ, দোয়া কামনা                    বরকলে জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দিবস পালিত                    বন উজাড়ের কারণে পাহাড় ধ্বসের মত ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়-বৃষকেতু চাকমা                    পানছড়িতে নতুন বিনোদন কেন্দ্র মায়াবিনী হ্রদ                    কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি-কে শরণার্থী ও উদ্বাস্তু পূর্নবাসন টাস্কফোর্সের চেয়াম্যান নিয়োগ                    টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের কৃতজ্ঞতা                    জুরাছড়িতে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের আরও ৫২জন নেতাকর্মীর পদত্যাগ                    রাঙামাটি প্রাণীসম্পদ দপ্তর হতে স্প্রে মেশিন বিতরণ                    
 

পাহাড়ে জুমিয়াদের জুম ধান কাটার উৎসব চলছে

স্টাফ রিপোর্টার : হিলবিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 07 Oct 2017   Saturday

রাঙামাটিতে জুমিয়রাদের ঘরে ঘরে জুমের পাকা ধান কাটার উৎসব চলছে। গেল জুন মাসে পাহাড় ধসের কারণে জুম ধানের আবাদি ফসল কিছু পরিমাণের ক্ষয়ক্ষতি হলেও এ বছর জুমের ফলন ভাল হয়েছে।

 

রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর  জানায়, এ বছর প্রাকৃতি পরিবেশ ভাল থাকায় জুম ধানের ফলন ভাল হয়েছে। এ বছর রাঙামাটি জেলায় জুমের ফসলের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ৫০ হেক্টর। আবাদ হয়েছে ৫হাজার ৪০হেক্টর জমিতে। হেক্টর প্রতি গড় ফলন হয়েছে ১ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন। এবারের সবচেয়ে বেশি জুম চাষ হয়েছে বিলাছড়ি উপজেলায়। এতে আবাদ হয়েছে ১৭ শ হেক্টর জমিতে। এরপরে রয়েছে বাঘাইছড়ি উপজেলায়। যার উৎপাদন হয়েছে ৮শ হেক্টর জমিতে। তবে গত ১৩ জুন পাহাড় ধসের কারণে ৯১০ হেক্টর জুমের আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

 

জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রামের উচু পাহাড়ের পাদদেশে গাছ-গাছালি কেটে আগুনে পুড়িয়ে জমিতে যে চাষ করা হয় তার নাম হচ্ছে জুম চাষ। জুম চাষ পাহাড়িদের একটি ঐতিহ্যবাহী প্রথা হলেও এটি একটি জীবন জীবিকার উৎসও বটে।  সাধারনত জানুয়ারী-ফেরুয়ারী) মাসে পাহাড়ের ঢাল পরিস্কার করে  মার্চ-এপ্রিল মাসে আগুনে পুড়িয়ে মাটি উপযুক্ত করা হয়। এর পর  এপ্রিল-মে মাসে পাহাড়ে বৃষ্টি শুরুর পূর্বে সুঁচালো দা দিয়ে গর্ত খুঁড়ে একসঙ্গে ধানসহ নানা সব্জির বীজ বপন করা হয় এবং সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে জুমের ধান ঘরে  তুলে থাকেন আদিবাসী জুমিয়ারা। জুমের সাধারনত মেরুং, গেলং, রাঙ্গী, কবরক, কামারাং, বিনি, আমেই, তুর্কি, চড়–ই, সুরি, মধুমলতি ও সোনালী চিকন।  এসব  উৎপাদিত জুমে উৎপাদিত ধান স্বাদ ও গন্ধ আলাদা এবং সুগন্ধি এবং আঠালো হয়। এছাড়া  জুম ধানের পাশাপশি অর্থকরী ফসল হিসেবে শাক-সব্জির মধ্যে ভূট্টা, মারপা, মরিচ, বেগুন, শসা, শিম, তিল, ঢেঁড়স, মিষ্টি কুমড়া, ঝিঙে, করলা, পাহাড়ি আলু,শাবারাং (এক প্রকার সুগন্ধিযুক্ত সবব্জি) চাষ করে থাকে। তাছাড়াও জুমিয়ারা আর্থিক লাভের আশায় তূলা, কচু, হলুদ ও সত্রং ফূলের (গাঁদা ফূল) চাষ করে থাকে।  

 

রাঙামাটি সদর উপজেলার মগবান ইউনিয়নের গবাছড়ি এলাকায় জুম চাষী বিজয় চাকমা অলংগিনি চাকমা শান্তিপ্রভা চাকমা জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এ বছর জুমের ফলন ভাল হয়েছে। জুমের ধান পাকায় ঘরে  তোলার জন্য ধান কাটছেন। তারা আরো জানান, ফলন ভালো হলেও সারা বছরের খোরাকি হবে না। উৎপাদিত এই ধান দিয়ে ৭ থেকে ৮মাস খোরাকি হতে পারে।

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাঙামাটির ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক কৃঞ্চ প্রসাদ মল্লিক বলেন, জুম ক্ষেতে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা ছিল এ বছর সেরকম বৃষ্টিúাত হয়েছে। ইতোমধ্যে শতকরা ৯৮ ভাগ জুম ক্ষেতে ধান কাটা শুরু হয়ে গেছে।

 

তিনি আরো জানান, এ বছর ৬ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে জুম ধানের আবাদ হয়েছে। তবে জুন মাসের দিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ৯১০ হেক্টর আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারপরও ৫ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে জুম ধানের আবাদ হয়েছে। এতে স্থানীয় ক্ষেত্রে লক্ষ্য ছিল ১ দশমিক ৩ মেট্রিক টন। ইতোমধ্যে যে জুম ধান কর্তন হয়েছে তা জাতীয়  লক্ষ্য মাত্রার কাছাকাছি তা ১ দশমিক ৪ মেট্রিকটন ফলন পাওয়া গেছে।

 

তিনি জানান, বিশেষ করে পার্বত্য এলাকায় স্থানীয়ভাবে গেলং, কামরাং,মেরুং,রাঙ্গী,কবরকসহ ১২ জাতের ধান চাষবাদ হয়ে থাকে।  রাঙামাটিতে প্রাকৃতিক দুযোর্গ হয়ে গেলেও বাস্তবে জুম ধানের ফলন উৎপাদনে খুব একটা তারতম্য ঘটেনি।

--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

 

এই বিভাগের সর্বশেষ
আর্কাইভ