• Hillbd newsletter page
  • Hillbd rss page
  • Hillbd twitter page
  • Hillbd facebook page
সর্বশেষ
জুরাছড়িতে এবার কৃষক লীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষনা!                    টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান হিসেবে কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপির যোগদান                    বিলাইছড়িতে অঘোষিত ‘অবরোধ’!                    জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দিবস উপলক্ষে কাপ্তাইয়ে আলোচনা সভা                    বন উজাড়ের কারণে পাহাড় ধ্বসের মত ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়-বৃষকেতু চাকমা                    পানছড়িতে নতুন বিনোদন কেন্দ্র মায়াবিনী হ্রদ                    কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি-কে শরণার্থী ও উদ্বাস্তু পূর্নবাসন টাস্কফোর্সের চেয়াম্যান নিয়োগ                    টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের কৃতজ্ঞতা                    জুরাছড়িতে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের আরও ৫২জন নেতাকর্মীর পদত্যাগ                    রাঙামাটি প্রাণীসম্পদ দপ্তর হতে স্প্রে মেশিন বিতরণ                    রাঙামাটি কাঠ ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির নির্বাচিতদের বনরুপা ব্যবসায়ী সমিতির অভিনন্দন                    বিলাইছড়িতে দুই আওয়ামীলীগ নেতার পদত্যাগ                    জুরাছড়িতে আওয়ামী নেতা হত্যা মামলায় এক ইউপি মেম্বারসহ ৫ জন আটক                    মেডিকেল কলেজে পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করে অবৈধ মনোনয়নের ঘটনায় পিসিপি’র উদ্বেগ প্রকাশ                    সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় সোলাইমান চৌধুরীকে আওয়ামীলীগের অভিনন্দন                    আর্ন্তজাতিক মানবধিকার দিবসে রাঙামাটিতে র‌্যালী ও সমাবেশ                    জুরাছড়িতে আ‘লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের ১১১জন নেতাকর্মীর পদত্যাগ                    বিজয় দিবস উপলক্ষে কাপ্তাইয়ে ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা                    বিশ্ব মানবাধিকার দিবসে কর্নফুলী নদীর দূষণ রোধে ব্যতিক্রমধর্মী র‌্যালী                    রাঙামাটিতে বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন ও আলোচনা সভা                    পানছড়িতে দুর্নীতি বিরোধী দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন ও আলোচনা সভা                    
 

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষ্যে ঢাকায় সংবাদ সন্মেলনে
সংবিধান সংশোধন করে আদিবাসীদের আত্ম-পরিচয় ও অধিকারের স্বীকৃতি দিতে হবে-সন্তু লারমা

বিশেষ প্রতিনিধি : হিলবিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 05 Aug 2017   Saturday

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা(সন্তু লারমা) আদিবাসীদের ঐতিহ্যগত ও প্রথাগত ভূমি অধিকারের স্বীকৃতি প্রদানসহ সংবিধান সংশোধন করে আদিবাসীদের আত্ম-পরিচয় ও অধিকারের স্বীকৃতির দাবী  জানিয়েছেন।

 

একই সাথে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি যথাযথ বাস্তবায়ন এবং এ লক্ষ্যে সময়সূচি-ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা (রোড ম্যাপ) ঘোষণার পাশাপাশি পার্বত্য ভূমি কমিশনে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ, জনবল নিয়োগ, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলায় শাখা অফিস স্থাপন এবং কমিশনের কার্যবিধিমালা চূড়ান্তকরণ পূর্বক পার্বত্য ভূমি কমিশন কার্যকর করার দাবী জানান।

 

শনিবার  রাজধানীর হোটেল সুন্দরবনে  আগামী ৯ আগষ্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সন্তু লারমা এসব  দাবী জানান।  এবারের  দিবসের  প্রতিপাদ্য হচ্ছে “আদিবাসী অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ ঘোষণাপত্রের এক দশক”।

 

 বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সন্মেলনে  ঐক্যন্যপের সভাপতি পংকজ ভট্টাচার্য, বিশিষ্ট কলামিস্ট ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, মানবাধিকার কর্মী নুমান আহম্মদ খান, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক শক্তিপদ ত্রিপুরা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর মেজবাহ কামাল প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং। 

 

সংবাদ সন্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সন্তু লামরা আরো বলেন, অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে আদিবাসী জনগণ এখন কঠিন সময় পার করছে। এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে আদিবাসীরা। সাঁওতালদের উপর হামলা ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, লংগদুতে অগ্নিসংযোগ ও সাম্প্রদায়িক আক্রমণ, খাসিয়াদের ভূমি দখল, মধুপুরে রিজার্ভ ফরেস্ট ঘোষণা, উপকূলে রাখাইনদের উপর বিরামহীন অবিচার ও সারা দেশে আদিবাসীদের উপর অব্যাহত নিপীড়ন ও নির্যাতনের ঘটনা বলে দেয় আদিবাসীরা ভালো নেই।

 

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বলছে, উন্নয়নের জোয়ারে ভেসে যাচ্ছে দেশ। প্রকৃতপক্ষে আদিবাসী জনগণ, গরিব প্রান্তিক কৃষক, দলিত হরিজন, খেটে খাওয়া মেহনতী মানুষ, চা বাগানের শ্রমিকসহ লক্ষ লক্ষ মানুষ এই কথিত উন্নয়নের জোয়ারে ডুবে যাচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড় ধ্বসে ১৩১ জন মানুষ মারা গেল ও ২০ হাজার পরিবার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হলো, অথচ সরকারের সেখানে তেমন কর্ম তৎপরতা নেই। বাঘাইছড়ির সাজেকে প্রায় ৩হাজার পরিবারের দেড় হাজারে মানুষ খাদ্যাভাবে হাহাকার করছে এবং ছয় মাসের রেশনের জন্য কমপক্ষে ১০,০০০ মেট্রিক টন খাস্যশস্য দরকার, অথচ সরকার নির্বিকার। এখনো পাহাড়ে আশ্রয়হীন মানুষ ক্ষুধা ও অভাবের তাড়নায় হাহাকার করছে। আর সরকার উন্নয়নের জোয়ারে আত্ম-অহংকারে ভেসে বেড়াচ্ছে। অথচ সাধারণ মানুষের জীবনে চলছে অবিরাম হাহাকার ও দীর্ঘশ্বাস।

 

তিনি বলেন,  বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে আদিবাসী দিবসে জাতিসংঘ ঘোষিত আদিবাসী অধিকার ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন করা হবে বলে বাণী দিয়েছিলেন। কিন্তু অতি দুঃখের বিষয় হলেও সত্য যে, পরবর্তীতে তার সরকারের সময়েই আদিবাসীদের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আদিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা তো দূরের কথা, এখন চরম অপমান ও লাঞ্ছনার মধ্য দিয়ে আদিবাসীরা এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হচ্ছে। দেশের ৩০ লক্ষাধিক আদিবাসী জনগণ মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। সম্পূর্ণ এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে আদিবাসী ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবনধারাকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। ক্রমাগতভাবে আদিবাসীদের ভূমি অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

 

সন্তু লারমা আরো বলেন, দেশের যেসব অঞ্চলে আদিবাসীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল, সেখানে পপুলেশন ট্রান্সফারের ফলে আদিবাসী জনগণকে নিজভূমিতে সংখ্যালঘুতে পরিণত করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম, গারো পাহাড়, উত্তরবঙ্গ, গাজীপুর, মধুপুর বনাঞ্চল, পটুয়াখালী-বরগুনা, খাসিয়া অঞ্চল সর্বত্র আদিবাসীরা তাদের ঐতিহ্যগত ভূমি হারিয়েছে। আদিবাসীদের আত্ম-পরিচয় ও নিজস্ব সংস্কৃতি নিয়ে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছে। তারপরও আদিবাসী জনগণ অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করে চলেছে। তবে জাতীয় শিক্ষা নীতি, নারী উন্নয়ন নীতি, ষষ্ঠ ও সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ইত্যাদিতে আদিবাসীদের উন্নয়ন ও অধিকারের কথা বলা হয়েছে, যদিও এসবের বাস্তবতা ভিন্ন।

 

তিনি  আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তি রচনায়, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় আদিবাসী জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে আদিবাসী ইস্যুতে জনসচেতনতা তৈরীর ক্ষেত্রে সরকার, জাতিসংঘ, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের বিশেষ ভূমিকা পালন করা জরুরী বলে মন্তব্য করেন।

 

সংবাদ সন্মেলনে সমতল অঞ্চলের আদিবাসীদের ভূমি সমস্যা সমাধানের জন্য স্বতন্ত্র ভূমি কমিশন গঠন,মধুপুর গড়ে গারো, বর্মন ও কোচদের ভূমিতে ঘোষিত রিজার্ভ ফরেস্ট বাতিল,আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাস কর্তৃক প্রণীত আদিবাসী অধিকার আইন প্রণয়ন,মৌলভীবাজার জেলার ঝিমাই ও নাহার খাসিয়া পুঞ্জির খাসিয়াদের ভূমি অধিকার নিশ্চিত এবং চা বাগানের লীজ অবিলম্বে বাতিল করা এবং  জাতিসংঘ ঘোষিত ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করাসহ দশ দফা দাবী জানান।

 

তিনি আগামী ৯ আগষ্ট আর্ন্তজাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোসনা করেন। এর মধ্যে ৬ আগস্ট ডেইলী স্টার মিলনায়তনে একটি আলোচনা সভা,৭ আগস্ট সকালে সিরডাপ মিলনায়তনে আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাসের অনুষ্ঠান,৮ আগস্ট এএলআরডি ও ১০টির অধিক সংগঠন মিলিতভাবে আদিবাসীদের ভূমি অধিকার নিয়ে সেমিনার আয়োজন করবে সিরডাপ মিলনায়তনে,৯ আগস্ট সকাল ১০টায় আদিবাসী দিবসের দিনে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের মূল অনুষ্ঠান- সমাবেশ, র‌্যালী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল উদ্বোধক এবং জনাব রাশেদ খান মেনন, এমপি ও মাননীয় মন্ত্রী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়াও দেশের বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ উপস্থিত থেকে সংহতি এবং ১১ আগস্ট সাভারে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে আদিবাসী প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।

 

ঐক্যন্যাপের সভাপতি পংকজ ভট্টাচার্য বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে এখন সেনাশাসন বিদ্যামান। যার ফলে সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশের আদিবাসী ও ধর্মীয় সংখ্যলঘু জনগোষ্ঠী। সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের সমতল এলাকার আদিবাসীদের প্রতি সরকারের বৈরী আচরন আরো বেড়ে গেছে। তিনি দেশকে প্রকৃত অর্থে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে আদিবাসীদের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণে প্রগতিশীল সমাজ, দেশের সুশীল সমাজ পাশে থাকবে বলে উল্লেখ করেন।

 

বিশিষ্ট কলামিস্ট ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, বাংলাদেশের আদিবাসীরা মোটেই ভালো নেই। তারা আজ উপেক্ষিত।  অথচ দেশের অর্থনীতি, সংস্কৃতি, রাজনীতির ক্ষেত্রে তারা অবদান রেখে চলেছে। তিনি দেশের সমস্ত প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলকে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালন করার জন্য আহ্বান জানান।     

     

মানবাধিকার কর্মী নুমান আহম্মদ খান বলেন, বাংলাদেশকে একটি সুষ্ঠ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য আদিবাসীদেরকে রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণ করার ব্যবস্থা করতে হবে। 

 

প্রফেসর মেজবাহ কামাল বলেন, রাষ্ট্র ও সরকার আদিবাসীদের থেকে অনেক দূরে সরে যাচ্ছে বলে আদিবাসীরা মনে করছে। আদিবাসীদের প্রতি রাষ্ট্রের যে বৈরী আচরণ তা অতীতের সমস্ত রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। উগ্র বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদ, উগ্র ধর্মান্ধতা মিলিয়ে রাষ্ট্র এক জাতির এক ধর্মের রাষ্ট্র হয়ে উঠছে। যার ফলে ভাষা বৈচিত্র্য, বর্ণবৈচিত্র্য, জাতিবৈচিত্র্য দেশ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় রাষ্ট্রের উচিত অতি শীঘ্রই আদিবাসীদের রাজনৈতিক অধিকারসহ সমস্ত মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ করা।

--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

এই বিভাগের সর্বশেষ
আর্কাইভ