• Hillbd newsletter page
  • Hillbd rss page
  • Hillbd twitter page
  • Hillbd facebook page
সর্বশেষ
বিলাইছড়িতে বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস পালন                    বাঘাইছড়িতে বিশেষ আইন-শৃংখলা সভা অনুষ্ঠিত                    রাঙামাটিতে পুলিশের কড়া প্রহরায় বিএনপি’র মানববন্ধন                    মহালছড়িতে জেলেদের বহুদিনের প্রতিক্ষিত বরফকল উদ্বোধন                    পার্বত্যাঞ্চল এখনো ম্যারেলিয়া ঝুকিতে                    সভাপতি বেলায়ত,সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহ আলম ও আবদুল ওয়াদুদ                    শিক্ষার সামগ্রিক সংকট নিরসনে রাঙামাটিতে মতবিনিময় সভার আয়োজন                    লামায় এক রোহিঙ্গা পাথর শ্রমিকের লাশ গুমের সময় ধৃত ৪                    খাগড়াছড়িতে ১৫ জেএমবি সদস্যের যাবজ্জীবন                    খাগড়াছড়িতে বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের ডাকে শান্তিপূর্ন সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত                    পাহাড় ধস সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিততে খাগড়াছড়িতে র‌্যালী ও কর্মশালা                    রাঙামাটিতে ঝুকিপূর্ন স্থানে বসবাস না করে নিরাপদ স্থানে বসবাসের আহ্বান জানালেন দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী                    রাঙামাটিতে সেনা বাহিনীর উদ্যোগে শিশুদের বিনোদনের হ্যাপী আইল্যান্ড উদ্ধোধন                    খাগড়াছড়ির বেতছড়িতে পিতা-পুত্রসহ তিন জনকে অপহরণের নিন্দা                    ইউপিডিএফের নেতাকে হত্যার প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে তিন সংগঠনের বিক্ষোভ,পুলিশী বাধার অভিযোগ                    পানছড়িতে ইউপিডিএফ`র নেতাকে হত্যার প্রতিবাদে খাগড়াছড়িতে তিন সংগঠনের বিক্ষোভ                    রাজস্থলীতে পর্যটন সম্ভাবনাময় দর্শনীয় স্থানগুলো অবহেলিত                    লামায় বন্য হাতির আক্রমণে গুরুতর আহত ১                    লামায় অগ্নিকান্ডে ১২টি বসত ঘর ভূস্মিভূত                    পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্রধারীদের সংঘাতে সাধারণ মানুষ শংকিত- দীপংকর তালুকদার                    বরকলে বিজিবির উদ্যোগে আইন শৃংখলা বিষয়ে মতবিনিময় সভা                    
 

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ১৯ বছর উপলক্ষে ঢাকায় আলোচনা সভায়
পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ নতুন করে জেগেছে-সন্তু লারমা

স্টাফ রিপোর্টার : হিলবিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published: 02 Dec 2016   Friday

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা(সন্তু লারমা) বলেছেন, ১৯ বছর আগের যে অনুভূতি সেই অনুভূতির সাথে আজকের অনুভূতির যোজন যোজন পার্থক্য অনুভূত হচ্ছে। সরকার কর্তৃক প্রকাশিত ক্রোড়পত্রে অধিকাংশই মিথ্যার বুলি আউরানো হয়েছে বলে তিনি দাবী করেন।

 

তিনি বলেন, ৪৬ বছর আগে বঙ্গবন্ধুর সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের যে অবস্থা ছিল তা ২০১৬ তে এসে আরো খারাপ হয়েছে। ৪৬ বছর ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামে অলিখিত সেনাশাসন চলছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক।

 

তিনি শাসকগোষ্ঠীকে সতর্ক করে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ নতুন করে জেগেছে। সরকার যদি এখনো জুম্ম জনগোষ্ঠীকে ঘুমিয়ে আছে মনে করে তবে ভুল করবে। পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি কর্তৃক ঘোষিত অসহযোগ আন্দোলনে ১০ দফা কর্মসূচীতে সরকার যে ভাষায় বাধা দেবে সে ভাষায় জবাব দেওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেন তিনি।

 

শুক্রবার পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ১৯তম বর্ষ পূর্তি উপলক্ষে ঢাকার সুন্দরবন হোটেলে আয়োজিত  আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে সন্তু লারমা এসব কথা বলেন।

 

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ঐক্যন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য্য, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া, ওয়ার্কাস পার্টির পলিট ব্যুারোর সদস্য নূর আহমেদ বকুল, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশনের সদস্য ব্যারিষ্টার সারা হোসেন, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মেজবাহ কামাল ও অধ্যাপক সৌরভ শিকদার, বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সিমন চিসাম, এডভোকেট প্রকাশ বিশ্বাস প্রমুখ।

 

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির তথ্য ও প্রচার বিভাগের সদস্য দীপায়ন খীসার সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক, শক্তিপদ ত্রিপুরা। অনুষ্ঠানে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং  বিভিন্ন  প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালের ২রা নভেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির ১৯ বছর অতিক্রান্ত হলেও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের কার্যাবলী হস্তান্তর, পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম অধ্যুষিত অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ; অপারেশন উত্তরণ’সহ অস্থায়ী সেনাক্যাম্প প্রত্যাহার; ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তিকরণ, ভারত প্রত্যাগত জুম্ম শরণার্থী ও আভ্যন্তরীণ উদ্ভাস্তদের স্ব স্ব জায়গা-জমি প্রত্যর্পণসহ পুনর্বাসন; পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল চাকুরিতে জুম্মদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে স্থায়ী বাসিন্দাদের নিয়োগ, চুক্তির সাথে সঙ্গতি বিধানকল্পে পুলিশ এ্যাক্ট, পুলিশ রেগুলেশন ও ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধিসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রযোজ্য অন্যান্য আইন সংশোধন; সেটেলার বাঙালীদেরকে পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরে সম্মানজনক পুনর্বাসন ইত্যাদি চুক্তির মৌলিক বিষয়সমূহ এখনো অবাস্তবায়িত অবস্থায় রয়েছে।

 

বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাকে একটি জাতীয় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে জাতীয়ভাবেই সমাধানের দাবী জানান।

 

ঐক্যন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য্য পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাকে একটি রাজনৈতিক সমস্যা বলে উল্লেখ করে বলেন, রাজনৈতিক সমস্যা রাজনৈতিকভাবেই সমাধান করতে হবে। তিনি বলেন, সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামে চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য কাজ না করে চুক্তি বিরোধী  তথাকথিত সমঅধিকার, হেফাজত ইসলামকে সমর্থন দিয়ে চলেছে। তিনি আজকের সমাবেশকে জাতীয় প্রতারণা, মিথ্যাচার বিরোধী সমাবেশ বলেও উল্লেখ করেন।

 

বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, যে দিনটি অত্যন্ত আড়ম্বরপূর্ণ করে পালন করার কথা ছিল সেই দিনটি পালন করতে হচ্ছে বেদনাহুত মন নিয়ে। এর জন্য সরকারের কথা দিয়ে কথা না রাখার কলুষিত চরিত্রকে  দায়ী করেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের আন্দোলন সেখানকার স্থায়ী সকল জুম্ম আদিবাসী, বাঙালী জাতিগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার আদায়ের জন্য করা হয়েছিল বিধায় এ আন্দোলন বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন বলেন, সরকারের দেয়ায় পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি হয়নি। পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগোষ্ঠীর রক্তঝরা সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে সরকারকে বাধ্য করা হয়েছিল চুক্তিতে উপনিত হওয়ার জন্য। সরকারের থেকে বিভিন্ন সময় ৪৮ টির অধিক ধারা বাস্তবায়নের যে মিথ্যা প্রচার তিনি তার নিন্দা জানান এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের জুম্ম জনগোষ্ঠীকে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে ষড়যন্ত্রকারী শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। 

 

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বর্ষপূর্তি পালন করছে চুক্তির এক পক্ষকে উপেক্ষা করে। সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামে উন্নয়নের নামে প্রহসন করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

অধ্যাপক মেজবাহ কামাল বলেন,  এটা স্পষ্টত যে, সরকার পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নে প্রতারণা করছে। সরকারের সদিচ্ছার অভাবে চুক্তি বাস্তবায়ন হচ্ছেনা। দীর্ঘ ১৯ বছর অতিবাহিত হয়েছে। সামনের বছর দুই দশক পূর্ণ হবে। অথচ সরকার এখনো তারা বলছে চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মাঝখানে তারা সময় পায়নি।

 

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশনের সদস্য ব্যারিষ্টার সারা হোসেন বলেন, সরকারের চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা নিয়ে যেখানে চুক্তি বাস্তবায়নে কাজ করার কথা, সেই জায়গায় চুক্তি বাস্তবায়ন না করে কালক্ষেপন করা অত্যন্ত দু:খজনক।

--হিলবিডি২৪/সম্পাদনা/সিআর.

এই বিভাগের সর্বশেষ
আর্কাইভ